প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সম্পর্কে (Relationship) থাকা মানেই যে সারাক্ষণ কথা বলা, অনুভূতির বন্যা বইয়ে দেওয়া তা কিন্তু নয়। অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়, একজন কথা বলতে ভালোবাসেন, অনুভূতি প্রকাশে স্বচ্ছন্দ, আর অন্যজন তুলনামূলকভাবে চুপচাপ। এই কম কথা বলা স্বভাব থেকেই অনেক সময় শুরু হয় ভুল বোঝাবুঝি। মনে প্রশ্ন জাগে, ‘ও কি আমাকে আগের মতো ভালবাসে না?’ কিংবা ‘এই নীরবতা কি ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করছে?’ বিশেষজ্ঞদের মতে, সব নীরবতাই কিন্তু অবহেলার লক্ষণ নয়।

মনোবিদদের একাংশ বলছেন, মানুষের ব্যক্তিত্বের ধরন ভিন্ন ভিন্ন হয়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (American Psychological Association- APA) পরিচালিত ‘Introversion & Personality Research’ অনুযায়ী, বহু মানুষ স্বভাবতই ইন্ট্রোভার্ট।
তাঁরা আবেগপ্রবণ নন বা অনুভূতিহীন নন, বরং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের পদ্ধতিই আলাদা। কথার বদলে কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করতেই তাঁরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, কম কথা বলা জীবনসঙ্গীকে বুঝতে হলে প্রথমেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। যদি ভাবেন, ভালোবাসা মানেই প্রতিদিন ‘আই লাভ ইউ’ বলা, দীর্ঘ আলাপ, তাহলে ইন্ট্রোভার্ট সঙ্গীকে ভুল বোঝার সম্ভাবনা থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ধরনের মানুষরা তাঁদের যত্ন, দায়িত্ববোধ এবং ছোট ছোট কাজে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করেন।

আপনার জীবনসঙ্গী কি আপনার প্রয়োজনের সময় পাশে থাকেন? আপনি অসুস্থ হলে খোঁজ নেন? আপনার পছন্দ-অপছন্দ মনে রাখেন? গটম্যান ইনস্টিটিউট (Gottman Institute- Relationship Behaviour Studies) -এর গবেষণা অনুযায়ী, সম্পর্কের ভিত মজবুত করে এই ছোট ছোট আচরণই। হয়তো মুখে কম বলছেন, কিন্তু কাজে আপনার প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, এটাই তাঁর প্রকাশভঙ্গি। তবে মনোবিদরা এটাও বলছেন, সব সময় ব্যক্তিত্বই কম কথা বলার একমাত্র কারণ নয়।
অনেক ক্ষেত্রেই অতীতের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা, ছোটবেলার মানসিক আঘাত বা বারবার ভুল বোঝাবুঝির ভয় মানুষকে নীরব করে তোলে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রজত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কথায়, ‘অনেক মানুষ মনের কথা বলতে চান, কিন্তু উল্টো দিকের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, এই আশঙ্কাতেই চুপ করে থাকেন।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ না থাকলে কম কথা বলা স্বভাব আরও গাঢ় হয়। কেউ যদি মনে করেন, কথা বললেই তাঁকে বিচার করা হবে বা ভুল বোঝা হবে, তাহলে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন। এই নীরবতা তখন আত্মরক্ষার এক ধরনের কৌশল হয়ে দাঁড়ায়।

তাহলে কম কথা বলা জীবনসঙ্গীকে বুঝতে কী করবেন? ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (National Health Service- NHS) প্রকাশিত ‘Healthy Relationship Communication Guide’ অনুযায়ী, প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল জোর না করা। কাউকে জোর করে কথা বলাতে গেলে তিনি আরও বেশি সরে যেতে পারেন। তার বদলে এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে তিনি নিরাপদ বোধ করেন।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অভিযোগের সুরে কথা না বলে বোঝার চেষ্টা করুন। ‘তুমি কখনও কিছু বলো না’ -এই ধরনের বাক্য সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ায়।
তার বদলে বলুন, ‘তোমার মনের কথা জানতে পারলে আমার ভালো লাগে।’ এতে চাপ কমে এবং বিশ্বাস বাড়ে। ধৈর্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইন্ট্রোভার্ট মানুষদের নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সময় লাগে।

মনোবিদরা আরও বলছেন, আপনার জীবনসঙ্গী যেভাবে ভালবাসা প্রকাশ করেন, সেটাকে স্বীকৃতি দিন। তিনি হয়তো বেশি কথা বলেন না, কিন্তু দায়িত্ব নেন, পাশে থাকেন, নীরবে যত্ন করেন। এই আচরণগুলিকে গুরুত্ব দিলে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে।তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্কও করছেন। যদি দেখেন, আপনার জীবনসঙ্গী একেবারেই যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন, অনুভূতির কোনও প্রকাশ নেই, আপনার কথা বা সমস্যার প্রতি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না, তাহলে সেটা সম্পর্কের জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে মানসিক দূরত্ব বাড়তে পারে। এই অবস্থায় দেরি না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা দম্পতি কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু, কম কথা বলা জীবনসঙ্গী মানেই ভালবাসার অভাব, এই ধারণা ঠিক নয়। নীরবতার মধ্যেও অনেক সময় গভীর আবেগ, যত্ন এবং দায়িত্ববোধ লুকিয়ে থাকে। প্রয়োজন শুধু সেই ভাষা বুঝে নেওয়ার।
সব ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Hina Khan Opens Up on Marriage, Intimacy After 13-Year Relationship | ১৩ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ে, শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে অকপট হিনা খান




