তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : বিনোদন দুনিয়ায় ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ তকমা পাওয়া দক্ষিণী তারকা রশ্মিকা মন্দানা (Rashmika Mandanna) শুধু অভিনয় দক্ষতার জন্যই নন, তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি, ঝলমলে ত্বক ও টোনড ফিগারের জন্যও সমানভাবে জনপ্রিয়। পর্দায় তাঁর এনার্জি আর আত্মবিশ্বাস দেখে অনেকেই মনে করেন, হয়তো ক্যামেরা ও মেকআপের কারসাজিতেই এমন লুক। কিন্তু বাস্তবটা ভিন্ন। নিয়মিত শরীরচর্চা, কঠোর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক শৃঙ্খলাই তাঁর সৌন্দর্যের আসল রহস্য। বলিউড ও দক্ষিণী ছবির ব্যস্ত সময়সূচির মাঝেও নিজের ফিটনেসে একচুলও আপস করেন না রশ্মিকা। শোনা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর ফিটনেস রুটিন নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল তুঙ্গে। আর সেই সময়েই সামনে এসেছে অভিনেত্রীর ডায়েট ও ওয়ার্কআউটের খুঁটিনাটি তথ্য।

রশ্মিকার ফিটনেস মন্ত্র এক কথায়, ‘নিয়মিত শরীরচর্চা এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস’। সপ্তাহে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন তিনি জিমে সময় দেন। তাঁর অনুশীলনের তালিকায় থাকে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, হৃদ্যন্ত্র সক্রিয় রাখার কার্ডিও ট্রেনিং এবং পেট ও কোমর টোন করার বিশেষ ওয়ার্কআউট। শরীরের প্রতিটি অংশকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। শুধুমাত্র ওজন কমানো নয়, বরং শরীরকে শক্ত, স্থিতিশীল ও নমনীয় করে তোলাই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। জিমের বাইরেও রশ্মিকার ফিটনেস যাত্রা থেমে থাকে না। বাড়িতেও নিয়মিত যোগব্যায়াম, সাঁতার, দ্রুত হাঁটা এবং রশ্মিকা কিকবক্সিং অনুশীলন করেন। বিশেষ করে কিকবক্সিং তাঁর অত্যন্ত পছন্দের। উচ্চমাত্রার এই ব্যায়াম দ্রুত ক্যালোরি ঝরাতে সাহায্য করে এবং শরীরের স্ট্যামিনা বাড়ায়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত গতির এই ধরনের অনুশীলন বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। রশ্মিকার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম না। ব্যস্ত শুটিং শিডিউলের চাপ সামলাতে এই ধরনের অনুশীলন তাঁকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও অভিনেত্রী যথেষ্ট সচেতন। দিনের শুরুতেই তিনি আপেল সিডার ভিনিগার মিশ্রিত পানীয় গ্রহণ করেন। অনেক পুষ্টিবিদের মতে, এটি হজমশক্তি উন্নত করতে এবং শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে। এরপর খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকে মরসুমি ফল, মিষ্টি আলু, হালকা স্যুপ এবং ডাবের জল। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেলমশলাযুক্ত পদ বা জাঙ্ক ফুড তিনি প্রায় সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন। এমনকী ভাতও খুব কম খান বলে জানা যায়। কিন্তু কঠোর ডায়েট মানেই যে একেবারে পছন্দের খাবার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখা, এমন নয়। রশ্মিকা মাঝেমধ্যে একটি ‘চিট ডে’ রাখেন। সেই দিনে মনের মতো খাবার খান। তাঁর মতে, ‘সম্পূর্ণ বঞ্চনা নয়, নিয়ন্ত্রণই আসল’। এই ভারসাম্যই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। রশ্মিকার প্রশিক্ষক Karan Sawhney (Karan Sawhney) -এর সঙ্গে তিনি নিয়মিত নতুন ব্যায়াম পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কখনও ফাংশনাল ট্রেনিং, কখনও হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং, নিত্যনতুন অনুশীলনের মাধ্যমে শরীরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। চরিত্রের প্রয়োজনে শরীরের গঠন বদলাতে হলেও তিনি প্রস্তুত। তাঁর কাছে ফিটনেস কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা।

ত্বকের যত্নেও সমান মনোযোগী এই অভিনেত্রী। পর্যাপ্ত জলপান, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তিকে তিনি গ্লোয়িং স্কিনের প্রধান চাবিকাঠি মনে করেন। প্রসাধনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে ভিতর থেকে সুস্থ থাকার উপর জোর দেন রশ্মিকা। কারণ তাঁর কথায়, ‘সুস্থ থাকলে তবেই সুন্দর দেখানো সম্ভব’। বর্তমান দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিটনেস ট্রেন্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু রশ্মিকা মন্দানার ফিটনেস রুটিন দেখলে বোঝা যায়, শর্টকাটে নয়, বরং ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলাই আসল সাফল্যের পথ। দ্রুত ওজন কমানোর লোভে ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতির বদলে নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই তাঁকে এনে দিয়েছে এই টোনড ফিগার। যাঁরা রশ্মিকার মতো ফিট ও এনার্জেটিক শরীর চান, তাঁদের জন্য মেসেজ একটাই যে, নিজেকে সময় দিন। প্রতিদিন অল্প হলেও শরীরচর্চা করুন, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ফিটনেস কোনও একদিনের লক্ষ্য নয়; এটি দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি। রশ্মিকা মন্দানার জীবনযাপন সেই মেসেজঅই দেয়, অতিরিক্ত কিছু নয়, নিয়ম মেনে চলাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
সব ছবি : প্রতীকী।
আরও পড়ুন : Vijay Devrakonda Rashmika Mandanna royal wedding Udaipur | কোটি টাকার ওটিটি প্রস্তাবেও ‘না’, ব্যক্তিগত থাকুক বিয়ের মুহূর্ত : উদয়পুরে রাজকীয় আয়োজনে বিজয়-রশ্মিকার রয়্যাল ওয়েডিং ঘিরে চর্চা তুঙ্গে


