সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় তৈরি হল তীব্র কৌতূহল। টলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছন সেখানে। বিকেল ৫টার কিছু পরেই তাঁর নবান্নে প্রবেশ, আর বেরোতে বেরোতে ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়েছে প্রায় ৭টা ১৫। প্রায় দু’ঘণ্টার এই বৈঠক ঘিরে শুরু হয় নানা আলোচনা, তবে বেরিয়েই সব জল্পনার জবাব দিলেন অভিনেতা নিজেই। নবান্ন চত্বরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রসেনজিৎ জানান, এই সাক্ষাৎকে ঘিরে যে ধরনের আলোচনা চলছে, তার অধিকাংশের কোনও ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘অনেক কথা হচ্ছে বাইরে, কিন্তু সবটাই ঠিক নয়। আমরা বসে কফি খেলাম, কিছুক্ষণ কথা বললাম।’ তাঁর কথায় ইঙ্গিত, বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যভিত্তিক ও পেশাগত বিষয় নিয়েই সীমাবদ্ধ।
অভিনেতা আরও জানান, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির নানা প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু দরকার। সেই বিষয়েই কথা হয়েছে। পাশাপাশি মহানায়ক উত্তমকুমার (Uttam Kumar)-এর মৃত্যুদিনকে ঘিরে বিশেষ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’ এই মন্তব্যে বোঝা যায়, বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রসেনজিতের রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সেটিও তিনি খোলাখুলি নস্যাৎ করেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি বহুবার বলেছি, যদি কোনও দিন রাজনীতিতে যোগ দিই, তা হলে সবার আগে মানুষ জানতে পারবে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আপাতত তাঁর কোনও রাজনৈতিক পরিকল্পনা নেই ও তিনি নিজের পেশাগত ক্ষেত্রেই মনোনিবেশ করতে চান।
এই বৈঠকের আগে আরও একটি ঘটনাকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। গত সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) কলকাতা সফরে এসে প্রসেনজিতের বাড়িতে যান। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syama Prasad Mukherjee)-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শহরে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই সফরের ফাঁকেই অল্প সময়ের জন্য অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। এই প্রসঙ্গ টেনে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘ওই দিন প্রায় ১০ মিনিটের জন্য এসেছিলেন। সেটা সকলেই জানেন। আমি চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছি। কিছু কিছু বিষয় আমার এবং আমার টিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই কারণেই প্রোটোকল মেনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কিছু বিষয় জানাতে এসেছিলাম।’ তাঁর কথায় পরিষ্কার, সাম্প্রতিক সাক্ষাৎগুলির মধ্যে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ খোঁজার প্রয়োজন নেই। সূত্রের খবর, দিল্লিতে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান গ্রহণের সময় প্রসেনজিৎ নিজেই অমিত শাহকে তাঁর কলকাতার বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ রক্ষার জন্যই শাহের ওই সংক্ষিপ্ত সফর। তবে সেই সাক্ষাৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছিল, সেখানে কি কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছিল? শুক্রবারের বক্তব্যে সেই সব প্রশ্নেরই জবাব দিলেন অভিনেতা।
টলিউডের এই জনপ্রিয় তারকা বারবারই জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন, পরিকাঠামো বৃদ্ধি ও নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ তৈরি করা, এই বিষয়গুলিকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নবান্নে এই বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহল এবং বিনোদন জগতে সমানভাবে আলোচনা শুরু হলেও প্রসেনজিতের বক্তব্যে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তিনি কার্যত জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত বা পেশাগত প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা স্বাভাবিক, তার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক টানার প্রয়োজন নেই।
এই ঘটনার পর একটি বিষয় পরিষ্কার টলিউড ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন নিয়ে অভিনেতা সক্রিয় ভূমিকা নিতে চান। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে তাঁর কথায়। অন্য দিকে, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কলকাতার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে এই বৈঠক নিয়ে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে প্রসেনজিতের স্পষ্ট অবস্থানের ফলে। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের সাক্ষাৎ আরও হলে তা নিয়ে আগ্রহ থাকবেই, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal syllabus change, Syama Prasad Mookerjee history | পাঠ্যবইয়ে শ্যামাপ্রসাদ, বাদ সিঙ্গুর আন্দোলন! শুভেন্দুর ঘোষণায় বাংলার শিক্ষানীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত




