সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হুগলি : হুগলির পুড়শুড়ায় আয়োজিত এক বাণিজ্যিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিল্প-বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানান, হুগলি চেম্বার অফ কমার্স (Hooghly Chamber of Commerce) -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়। সেই আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেই তিনি রাজ্যের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে আশাবাদী সুরে মন্তব্য করেন। পোস্টে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) উল্লেখ করেন, ‘সরকার পরিবর্তনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ব্যবসার পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।’ তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা বাধা কমে আসায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি হয়েছে। এই মন্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহল থেকে ব্যবসায়ী সংগঠন, সব জায়গাতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

পুড়শুড়ার এই সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য তুলে ধরে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা খুশি হয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত মিলছে। ফলে ব্যবসা পরিচালনা আগের তুলনায় সহজ হচ্ছে।’ যদিও এই দাবির বিপরীতে বিরোধী মহলের তরফে প্রশ্নও উঠেছে—মাত্র দুই মাসে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) তাঁর পোস্টে আরও বলেন, ‘একটি সুস্থ ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশই শিল্প-বাণিজ্যের বিকাশের মূল ভিত্তি।’ তাঁর মতে, যদি সেই পরিবেশ আরও মজবুত করা যায়, তাহলে নতুন বিনিয়োগের পথ খুলবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের হারিয়ে যাওয়া শিল্প ঐতিহ্য এবং বিনিয়োগের অভাব নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বিতর্ক নতুন নয়। এই পরিস্থিতিতে হুগলির মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চলে এমন সম্মেলন এবং সেখানে উঠে আসা বক্তব্য গুরুত্ব পাচ্ছে। দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, হুগলি-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা তাঁদের উদ্যোগ, পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবেন।’ তাঁর এই মন্তব্যে একদিকে যেমন ব্যবসায়ী মহলের উপর আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে, তেমনি শিল্প পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে তাদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হুগলি জেলা ঐতিহাসিকভাবে শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই অঞ্চল জুট, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নানা শিল্পে সমৃদ্ধ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান উদ্যোগগুলি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। সম্মেলনে উপস্থিত একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে জানান, ‘গত কিছু সপ্তাহে প্রশাসনিক সহযোগিতা আগের তুলনায় কিছুটা সহজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ যদিও তাঁরা এটাও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা বোঝা যাবে আরও সময় গেলে। এই ধরনের প্রতিক্রিয়াই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ভবিষ্যতের ওপরেই নির্ভর করছে বাস্তব চিত্র। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্নতি আনতে হলে শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং স্থায়ী পরিকল্পনা। ফলে এই ধরনের সম্মেলন এবং আলোচনার বাস্তব প্রভাব পর্যালোচনা করতে হলে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতেই হবে।
হুগলি চেম্বার অফ কমার্স (Hooghly Chamber of Commerce)-এর এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনা, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে প্রশাসনিক সূত্রে। রাজ্যের শিল্প-বাণিজ্যকে ঘিরে এই মুহূর্তে যে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে পুড়শুড়ার এই সম্মেলন। দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)-এর পোস্টে উঠে আসা বক্তব্য এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের পদক্ষেপ এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dilip Ghosh statement egg protest | ‘ডিম্বাস্ত্র’ বিতর্কে তপ্ত রাজনীতি, এনকাউন্টার ইস্যুতে বুদ্ধিজীবীদের নিশানা দিলীপ ঘোষের




