Poet Tapas Chakraborty : তাপস চক্রবর্তী -এর গুচ্ছ কবিতা

SHARE:

কবি তাপস চক্রবর্তী -এর  জন্ম বাংলাদেশে ২০ এপ্রিল, ১৯৭৪ সালে। ১৯৮৯-এ কবিতা দিয়ে প্রথম লেখা শুরু করলেও নাটকেই তাঁর স্থিতি। নাটক ও অভিনয় তাঁর ভালবাসার জায়গা। কবি নাটক নিয়ে ঘুরেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জায়গায়। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রথম নাটক প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে। সম্পাদনা করেছেন ‘ঝাড়বাতি’ নামে একটি সাহিত্য পত্রও। সাশ্রয় নিউজ-এর এই সংখ্যায় রইল  এই কবির গুচ্ছ কবিতা। 

 

তাপস চক্রবর্তী

মহাকালে চতুর্থ মুদ্রা

 

গতকাল কিংবা পরশু কিংবা তারও আগে 

কোনো একদিন সূর্যাস্ত দাঁড়িয়ে ছিলো বিরামে…

এপাশে ওপাশে নদীর ওপাড়ে

কেউ বলেছিলো

মহাকালের চতুর্থ মুদ্রায় নাকি মাতালের প্রলাপে।

 

আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম। কেউ দাঁড়িয়ে ছিলো

একা— একেলা খোঁয়ারে ওপাশে 

যেখানে নেমে আসে পাখিদের আনাগোনা

বৃক্ষে ঘনিয়ে আসে বিষণ্ন আঁধার।

 

ইসকাপনের টেক্কার ট্রামে অনেকের স্বপ্ন ভাঙে

ধীরে ধীরে জাগে চুপসে যাওয়া অনাদি ভোর— 

আমিও অনর্থক বেদ উপনিষদ খুঁজি

তন্নতন্ন করি; লাল গোলাপের সংসার

 

যেমনটি হায়েনার হিংস্রতা

দ্বিজতত্ব, 

ডমরুর ছিণ্নতা খুঁজি কতিপয় মগ্নতা ও ঈশ্বর

সর্পিল ছন্দে যেমনটি এগোয় সংহার— নাকি শান্তি!

 

যদিও প্রলয় নাচনে— নাচে ওম্ ওম্ স্বরের খেয়া

নদীরা নিশ্চুপ বকুল ফুলের মতো

জানি— কামিনী ফুলে নিরুপায় বেচেরা।

 

আমার হাতে আঙুলে 

জোড়া ঠোঁটে 

পোড়া হৃদপিণ্ডে স্থিতি সুরার সহস্র ধারা।

যেমন পরম ব্রহ্ম খোঁজেন— নিজের কাছে নিজের ছায়া।

 

ঈশ্বর ও ছায়া

 

গতকাল কিংবা পরশু কিংবা তারও আগে 

কোনো একদিন সূর্যাস্ত দাঁড়িয়ে ছিলো…

বিরামে।

এপাশে-ওপাশে নদীর ওপাড়ে

কেউ বলেছিলো

মহাকালের চতুর্থ মুদ্রা অনেকটা ছেঁড়া দ্বীপ।

 

আমিও দাঁড়িয়ে ছিলাম। কেউ একজন দাঁড়িয়েছিল

একা— একেলা খোঁয়াড়ে ওপাশে 

যেখানে নেমে আসে রোজ পাখিদের আনাগোনা

বৃক্ষে বৃক্ষে ঘনিয়ে আসে তমাল আঁধার।

 

ইস্কাপনের ট্রামে অনেকের স্বপ্ন ভাঙে

ধীরে লয়ে জাগে চুপসে যাওয়া অনাদি ভোর— 

আমিও আজকাল বেদ উপনিষদে তাৎপর্য খুঁজি

তন্নতন্ন করি; তুমিহীন লাল গোলাপের সংসার।

 

যেমনটি হায়েনার হিংস্রতা বুঝে বেচেরা সিংহ

আমিও দ্বিজতত্বে মাতাল হই

মদ্যপ চোখে খুঁজি পূর্ণ বৃক্ষের হাঁড়গড়ো।

 

কখনো কখনো প্রলয় নাচ— নাচে ওম্ ওম্ স্বরের খেয়া

নদীরা নিশ্চুপ বকুল ফুলের মতো হয়ে উঠে

জানি— 

কামিনী ফুলেও নিরুপায় ঈশ্বর বেচেরা।

 

আমার হাতে— দশ আঙুলীয় ভাঁজে

জোড়া ঠোঁটের বন্দরে

পোড়া হৃদপিণ্ডে স্থিতি সুরার সহস্র ধারা

যেমন পরম ব্রহ্ম খোঁজেন— নিজের কাছে নিজের ছায়া।

 

সোফিয়া

 

আমাদের কথা হচ্ছিল সোফিয়াকে নিয়ে

 

সোফিয়া কমলার খোসা এবং মশগুল বারে

মাতাল হতে হতে মনে পড়ে রুবি রায়।

 

অথচ

কবিতার খাঁচায় জোড়াশালিকের হলুদ পা।

           ঝরা পালক ছুঁয়ে…

হাজারবার পথ খুঁজেছি কিন্তু পথ কই!

পথ নেই সামনে পিছনে… শুধু জন্ম মৃত্যু

তবুও দেখি চোখের সমন্তরালে নীল আকাশ

 

অভিমানী সোফিয়া শুয়ে আছে বিছানায়…

                                 আমিও পাশে।

অথচ ঠোঁটকথারা কেঁপে বলে, এই তো বেশ

মানুষের চেয়ে ঢ়ের নীরব পাখিদের স্লোগান।

 

সোফিয়াও কি পাখি! আমি তো জানি না।

 

ফুল ও গল্প

 

গল্পটা তোকে দিলাম

ভোরের ফুল ভেবে আঁচলে জড়িয়ে নিস।    

ভালবেসে

 

জুঁই নয়-নয় কেতকী, সে তো মান্দার ফুল….

ডোবার পাশে জমে ওঠে বিষন্নদুপুর

যেবার উষা অনিরুদ্ধের নৃত্যে জমে উঠেছিল-

                                   ইন্দ্রের রাজসভা…

গণিকার নূপূরের নিক্কণ বেতাল ক্রোধান্বিত ঈশ্বর।

 

গণপতি কবিও বটে- লিখেন

স্বর্গচূত্য পারিজাত এবং ঐরাবতের গান

সৃষ্টি হয় রাগ মেঘমল্লার-বৃষ্টি হয় ঝরে মেঘ

তানসেনের আহ্বানে…

 

কবিতা পোয়াতি হয় কবির সঙ্গমে, কী বিশ্রী কথা!

 

শ্রাবণের গান যেমন পদ্মপাতায় রাত্রি যাপন

মধুরেণ ব্যাঙ

একাকী চাঁদ সফর করছে সর্পের ইন্দ্রে…

কবি বোঝে সর্পিল গন্ধ।

 

চুপ, 

আর কোনো কথা নয়-শুধু জেগে থাকবো একাকী

দেখো ‘সে’ ঘুমিয়েছে সঙ্গম শেষে ক্লান্ত ভাত ঘুমে

ছারপোকা আঁধার খোঁজে ঘুমন্ত মানুষের অনলে।

 

গল্পটা তোকে দিলাম

ভোরের ফুল ভেবে আঁচলে জড়িয়ে নিস। 

ভালবেসে

দেখিস মান্দারফুল একদিন পারিজাত হবেই হবে

অতঃপর স্বর্গচূত্য হবেন ঈশ্বর

 

🍁সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্বরচিত স্থানীয় সংবাদ, ফিচার, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী… 

ই-মেল : sasrayanews@gmail.com 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন