PM CARES Fund 8452 crore | ৮,৪৫২ কোটি টাকার রেকর্ড ব্যালান্স পিএম কেয়ার্স ফান্ডে! ফিক্সড ডিপোজিটের সুদেই বাড়ছে তহবিল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের অন্যতম আলোচিত ত্রাণ তহবিল পিএম কেয়ার্স ফান্ড (PM CARES Fund) -এর আর্থিক পরিমাণ ফের নজর কাড়ল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ শেষে এই তহবিলের মোট ব্যালান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৪৫২ কোটি টাকা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা গত তিন বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তহবিলের আর্থিক অবস্থার ধারাবাহিক ছবি উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নতুন করে বড় অঙ্কের অনুদান না এলেও তহবিলের সঞ্চিত অর্থ ক্রমশ বাড়ছে। এর পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে উঠে এসেছে ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা অর্থ থেকে পাওয়া সুদ। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে পিএম কেয়ার্স ফান্ড তৈরি করা হয়েছিল। অতি দ্রুত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটানো ও বিভিন্ন ধরনের জরুরি সহায়তার জন্য অর্থ ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই তহবিল গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে অতিমারির পরিস্থিতি বদলালেও তহবিলটি বন্ধ হয়নি। তা বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্পে এর অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক নিরীক্ষা নথি সামনে আসার পরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে তহবিলের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে ৮,৪৫২ কোটি টাকার ব্যালান্স দেখিয়েছে পিএম কেয়ার্স ফান্ড। অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজে লাগানোর জন্য তহবিলের হাতে এখন বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। গত কয়েক বছরের হিসাবেও তহবিলের আর্থিক পরিমাণ বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তহবিলের এই বৃদ্ধির পিছনে শুধু নতুন অনুদানকে দায়ী করা যাচ্ছে না। বরং যে অর্থ ইতিমধ্যেই তহবিলে রয়েছে, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফিক্সড ডিপোজিটে রেখে সেখান থেকে সুদ অর্জন করা হচ্ছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সেই বিনিয়োগের পরিমাণ এবং সুদ থেকে পাওয়া অর্থের হিসাবও রয়েছে। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা থেকে ৭,৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা হয়েছিল। সেই আমানত থেকে পাওয়া সুদের অঙ্কও কম নয়। নিরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা সুদ এসেছে। ফলে নতুন করে বড় অঙ্কের অনুদান যোগ না হলেও শুধুমাত্র সঞ্চিত অর্থের উপর সুদ পাওয়ার কারণে তহবিলের মোট পরিমাণ বাড়ছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনার এই পদ্ধতির ফলে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের মূলধন দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন : Urea subsidy in India, Urea price for farmers | ৩ হাজার টাকার ইউরিয়া কৃষক পাচ্ছেন মাত্র ৩০০ টাকায়! মোদী সরকারের সার ভর্তুকিতে কতটা সুরাহা কৃষকের, জানুন পুরো হিসাব

কোভিড অতিমারির সময়ে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর যে অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের সূচনা। সেই সময় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা, হাসপাতাল পরিকাঠামো বাড়ানো ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তহবিলের অর্থ অন্যান্য সামাজিক সহায়তা কর্মসূচীতেও ব্যবহৃত হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম পিএম কেয়ার্স ফর চিলড্রেন (PM CARES for Children) প্রকল্প। কোভিড অতিমারির সময়ে বাবা-মা বা অভিভাবক হারানো শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে অতিমারি পরিস্থিতি অনেকটা পিছনে পড়লেও পিএম কেয়ার্স ফান্ডের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্র পুরোপুরি শেষ হয়নি।

এই তহবিলের বিপুল আর্থিক সঞ্চয় নিয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। পিএম কেয়ার্স ফান্ড তৈরি হওয়ার পর থেকেই এর পরিচালনা, অর্থ সংগ্রহ, ব্যয় ও নিরীক্ষা নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে তহবিলে কত টাকা জমা পড়ছে এবং সেই অর্থ কোন খাতে খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। এই পরিস্থিতিতে গত তিন বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসাবে দেখা হচ্ছে। নথিগুলিতে তহবিলের আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ এবং সঞ্চিত অর্থের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। ফলে তহবিলের আর্থিক অবস্থার একটি তুলনামূলক ছবি পাওয়া যাচ্ছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একদিকে নতুন অনুদানের প্রবাহ আগের তুলনায় কমেছে, অন্য দিকে তহবিলে থাকা অর্থ থেকে সুদ আসছে। ফলে মোট ব্যালান্স কমার বদলে বেড়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মূল অর্থের বড় অংশ সরাসরি খরচ না করে ফিক্সড ডিপোজিটে রাখার ফলে সুদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন : Haldia Phenol Plant, 6000 crore Haldia project | বাংলায় শিল্পের বড় বিনিয়োগ! হলদিয়ায় ৬০০০ কোটির ফেনল-অ্যাসিটোন কমপ্লেক্স, বদলাতে পারে পূর্ব ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল মানচিত্র

দেশি অনুদানের পাশাপাশি বিদেশি অনুদান নিয়েও পিএম কেয়ার্স ফান্ডকে ঘিরে অতীতে আলোচনা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নজরকাড়া দিক হল, নতুন অর্থের প্রবাহ সীমিত থাকলেও তহবিলের মোট পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ পুরনো সঞ্চিত অর্থের আর্থিক ব্যবস্থাপনাই বর্তমানে তহবিল বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। ৮,৪৫২ কোটি টাকার ব্যালান্সের অর্থ হল, ভবিষ্যতে কোনও বড় জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারের হাতে দ্রুত ব্যবহারযোগ্য একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক সংস্থান রয়েছে। তবে এই অর্থ কী ভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে খরচ করা হবে, তার উপরই তহবিলটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে। অন্য দিকে, পিএম কেয়ার্স ফান্ডের অর্থ ফিক্সড ডিপোজিটে রাখার ফলে সুদের মাধ্যমে যে অতিরিক্ত অর্থ তৈরি হচ্ছে, সেটিও তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এককালীন অনুদানের উপর নির্ভর না করে সঞ্চিত অর্থ থেকে আয় করার এই প্রক্রিয়া তহবিলের ব্যালান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হিসাব সামনে আসার পরে পিএম কেয়ার্স ফান্ড নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কোভিডের ভয়াবহ সময় পেরিয়ে দেশ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি বড় আর্থিক সুরক্ষা ভাণ্ডার তৈরি রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকেই ৮,৪৫২ কোটি টাকার সঞ্চয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই তহবিলের আর্থিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের কাছে তথ্য প্রকাশ ও হিসাবের বিষয়ে জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গত তিন বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে অন্তত তহবিলের আয়, ব্যয় ও বিনিয়োগের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে এসেছে। আগামী দিনে পিএম কেয়ার্স ফান্ডের অর্থ কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় এবং সেই ব্যয়ের পরিমাণ কী দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর থাকবে। ২০২০ সালে যে তহবিলের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে, কয়েক বছর পর তার সঞ্চিত অর্থ ৮,৪৫২ কোটি টাকায় পৌঁছনো নিঃসন্দেহে বড় আর্থিক পরিবর্তন। নতুন অনুদানের প্রবাহের পাশাপাশি পুরনো অর্থ থেকে সুদ অর্জনের কৌশলও এই বৃদ্ধির পিছনে কাজ করছে। ফলে পিএম কেয়ার্স ফান্ড এখন শুধু অতিমারি মোকাবিলার সময়ের একটি তহবিল নয়, বরং ভবিষ্যতের জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি বড় আর্থিক সংস্থান হিসাবেও সামনে এসেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Independence Day 2026 : তরুণদের হাতেই বিকশিত ভারতের স্বপ্ন, বছরে ১ কোটি যুবক-যুবতীকে এআই প্রশিক্ষণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন