Piyush Goyal On BRICS common trade platform | BRICS-এ এবার এক প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্য! নারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বড় উদ্যোগের ডাক পীযূষ গয়ালের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পৌঁছে দিতে এবার BRICS সদস্য দেশগুলির জন্য একটি অভিন্ন বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব দিল ভারত। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগগুলিকে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারের ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্যে এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal)। একই সঙ্গে মহিলাদের ব্যবসায়িক পরিসর বাড়াতে প্রস্তাবিত Women’s Advancement Fund-কে কেবল পরিকল্পনার মধ্যে না রেখে বাস্তব উদ্যোগে পরিণত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নতুন দিল্লিতে BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আগে আয়োজিত BRICS Women’s Business Alliance-এর Women-Led Development Conference-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই প্রস্তাব দেন পীযূষ গয়াল। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ছোট উদ্যোক্তাদের সামনে থাকা অর্থ, বাজার এবং নিয়মকানুন সংক্রান্ত একাধিক সমস্যার কথা। তাঁর মতে, বিদেশের বাজারে ব্যবসা বাড়াতে গেলে উদ্যোক্তাদের সামনে প্রধানত তিনটি বড় বাধা থাকে, সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ, উপযুক্ত ক্রেতা ও বাজারের সন্ধান এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য নিয়ম।

আরও পড়ুন : CBI corruption complaint West Bengal | ব্যাঙ্ক-রেল-ডাকঘরে ঘুষ চাইলেই জানান সিবিআইকে! বাংলায় কেন্দ্রীয় কর্মীদের দুর্নীতি রুখতে বড় পদক্ষেপ

পীযূষ গয়াল বলেন, ‘বিদেশি বাণিজ্যকে শুধু জামানতনির্ভর ব্যবসা হিসেবে দেখা উচিত নয়।’ তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিসর এমন হওয়া দরকার, যাতে যাঁরা প্রচলিত ব্যবস্থায় বিদেশের বাজারে ঢোকার সুযোগ পান না, তাঁরাও নতুন ক্রেতা ও ব্যবসার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। ক্ষুদ্র সংস্থা ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। গত মাসে জয়পুরে অনুষ্ঠিত BRICS Commerce and Industry Ministers’ Meeting-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানে সদস্য দেশগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পীযূষ গয়ালের বক্তব্য, এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে একটি BRICS দেশের ব্যবসায়ী অন্য সদস্য দেশের বাজারে কী ধরনের পণ্যের চাহিদা রয়েছে, তা জানতে পারবেন। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ইনভয়েসও ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে।

এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা এবং ছোট ব্যবসাগুলির জন্য দ্রুত ঋণ পাওয়ার পথ তৈরি করতে ইনভয়েস-ভিত্তিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিক্রির পর অর্থ হাতে আসতে সময় লাগে। সেই সময়ের মধ্যে ব্যবসার প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাড় করা ছোট সংস্থার পক্ষে অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ইনভয়েসকে ভিত্তি করে অর্থের ব্যবস্থা করা গেলে সেই চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। Women’s Advancement Fund নিয়েও নিজের বক্তব্যে জোর দিয়েছেন পীযূষ গয়াল। জয়পুরে গৃহীত Jaipur Consensus-এ এই তহবিলের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। এবার সেটিকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার জন্য BRICS Women’s Business Alliance ও BRICS Business Council-এর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নারী রফতানিকারকদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ইনভয়েস-ডিসকাউন্টিং প্ল্যাটফর্মের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন।

ছোট রফতানিকারকদের ক্ষেত্রে ঋণ পাওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক এবং Export-Import Bank-গুলিকে ব্যবসায়িক ইনভয়েস বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবসার আকার ছোট হলেই কোনও উদ্যোগের সম্ভাবনা কমে যায় না। পর্যাপ্ত অর্থের জোগান এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেলে অনেক ছোট সংস্থাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অংশ হতে পারে। শুধু অর্থের ব্যবস্থা নয়, বিদেশি বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নারী মালিকানাধীন ব্যবসাগুলিকে আরও সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন পীযূষ গয়াল। BRICS-এর সদস্য দেশগুলিকে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, বাণিজ্যমেলা, ব্যবসায়িক সম্মেলন এবং buyer-seller meet-এ আরও বেশি সংখ্যক নারী উদ্যোক্তাকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব, বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে নারী-নেতৃত্বাধীন ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল গড়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পাঠানো যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বস্ত্রশিল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি। কোনও একটি নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি দেশের প্রতিনিধিদল অন্য BRICS দেশে গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হওয়ার সুযোগও থাকবে। এর ফলে শুধু BRICS-এর অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, পরবর্তী সময়ে অন্য আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের রাস্তা তৈরি হতে পারে। সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নথিপত্রের জটিলতা কমানোর উপরও জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, electronic trade documentation ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। e-invoice, electronic bill of lading এবং e-customs declaration-এর মতো ডিজিটাল নথির ব্যবহার বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রক্রিয়া দ্রুত এবং সহজ হতে পারে। অনলাইনে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও BRICS সদস্য দেশগুলির মধ্যে কিছু স্বেচ্ছাসম্মত নীতি ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি। অবশ্য প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিধি মেনে এই ব্যবস্থা চালানোর কথাও বলা হয়েছে।

পীযূষ গয়ালের বক্তব্যে পরিষেবা বাণিজ্যের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পণ্য বাণিজ্যের তুলনায় BRICS দেশগুলির মধ্যে পরিষেবা খাত নিয়ে এখনও আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। বিশ্বে পরিষেবা বাণিজ্যের মোট পরিমাণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ডিজিটাল অর্থনীতি, দক্ষ কর্মীর চলাচল এবং বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা ক্ষেত্রে BRICS দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই ক্ষেত্রগুলিতে নারী উদ্যোক্তা এবং Micro, Small and Medium Enterprises বা MSME-গুলির অংশগ্রহণও বাড়ানো সম্ভব বলে মত তাঁর। ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদাহরণও তুলে ধরেন পীযূষ গয়াল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দেশে মহিলাদের নামে প্রায় ৩০ কোটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ১০ কোটি মহিলা প্রায় ৯০ লক্ষ Self-Help Group, ছোট সমবায় বা অন্যান্য নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি মহিলা বছরে এক লক্ষ টাকার বেশি ব্যক্তিগত আয় করছেন। তাঁদের ‘Lakhpati Didis’ নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ছোট ব্যবসার জন্য ঋণের ক্ষেত্রেও ভারতের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। পীযূষ গয়ালের দাবি, ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় ৫৬ কোটি ঋণ দেওয়া হয়েছে ও তার মধ্যে ৬৮ শতাংশেরও বেশি ঋণ পেয়েছেন মহিলা উদ্যোক্তারা। তাঁর বক্তব্য, মহিলাদের শুধু সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে দেখার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের One District, One Product বা ODOP (One District, One Product) উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন জেলার নিজস্ব পণ্যকে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এখন পণ্যের পাশাপাশি পরিষেবা ক্ষেত্রেও এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় পণ্য, পরিষেবা এমনকী বিভিন্ন অঞ্চলের খাবারও ভবিষ্যতে রফতানির সম্ভাব্য ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য।

Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

কৃষি ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রেও নারী উদ্যোক্তা ও ছোট কৃষকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ তৈরি করার কথা বলেন পীযূষ গয়াল। ভারতীয় ফল ও সবজি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াকরণ এবং নকশার মতো ক্ষেত্রে আরও কাজ করা যেতে পারে। বিশেষ করে Gulf বা উপসাগরীয় অঞ্চলের বাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।BRICS দেশগুলির মধ্যে পণ্য এবং পরিষেবা দুই ক্ষেত্রেই বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। World Trade Organization বা WTO-এর নিয়মের মধ্যে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী রাখার বিষয়ে সদস্য দেশগুলির অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে BRICS-এর অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে।

BRICS Economic Partnership 2030-এর জন্য কৌশলগত পরিকল্পনাও সদস্য দেশগুলির বাণিজ্যমন্ত্রীরা নেতাদের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছেন বলে জানান পীযূষ গয়াল। আসন্ন BRICS Leaders’ Summit থেকে আরও নির্দিষ্ট কর্মসূচি, সময়সীমা এবং বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।২০৩০ সালকে সামনে রেখে BRICS-এর অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করার লক্ষ্য নেওয়ার কথা বলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ভারতের। Brazil, Russia, India, China এবং South Africa এই পাঁচ দেশের নামের আদ্যক্ষর থেকেই BRICS নামটির উৎপত্তি। পরবর্তী সময়ে Egypt, Ethiopia, Iran, United Arab Emirates, Indonesia এবং Saudi Arabia-সহ আরও দেশ এই জোটে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে মোট ১১টি দেশ নিয়ে গঠিত এই উদীয়মান অর্থনীতির গোষ্ঠীতে ভারত অভিন্ন বাণিজ্য প্ল্যাটফর্ম, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল এবং ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থার মতো প্রস্তাব সামনে এনে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন পরিসর তৈরির চেষ্টা করছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BRICS | Programme for Economic Cooperation 2030, Modi Putin meeting Delhi : বিষকেকে বৈঠকের দু’সপ্তাহের মধ্যেই দিল্লিতে মোদী-পুতিন সাক্ষাৎ, বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন