West Midnapore Minor Pregnancy | নাবালিকা মা, পশ্চিম মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য! নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় পকসো মামলায় গ্রেফতার স্বামী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পশ্চিম মেদিনীপুর: বয়স মাত্র ১৬। এখনও স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর কথা, অথচ তার কোলজুড়ে সদ্যোজাত সন্তান। পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Midnapore) গড়বেতায় নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় এবার গ্রেফতার করা হল তার স্বামীকে। নার্সিং হোমের তরফে পুলিশকে খবর দেওয়ার পর তদন্তে নামে গড়বেতা থানার পুলিশ। এরপরই নাবালিকার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহ ও নাবালিকার গর্ভধারণের ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের মধ্যেই গড়বেতার এই ঘটনা সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর জেলাজুড়ে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার মধ্যেই নাবালিকার সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে আইনি পদক্ষেপ করল পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ।

আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on POCSO case for minor marriage | ১৮-র আগে মা হলে স্বামীর বিরুদ্ধে POCSO মামলা! বাল্যবিবাহ রুখতে বড় অভিযানের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম আমনুল্লা খান। তাঁর বাড়ি গড়বেতার আধারনয়ন এলাকায়। প্রায় এক বছর আগে গড়বেতা থানা এলাকারই এক নাবালিকার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিয়ের সময় ওই কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। বর্তমানে সন্তান প্রসবের ঘটনার সূত্র ধরে বিয়ের সময়, বয়স এবং পারিবারিক পরিস্থিতি-সহ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, নাবালিকার পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই ভাল ছিল না। চার বোনের পরিবারে অভাব-অনটনের মধ্যে সংসার চলত। সেই পরিস্থিতিতে পেশায় রাজমিস্ত্রি আমনুল্লার সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক চাপের মতো বিষয়গুলিও তদন্তে উঠে আসছে।

বুধবার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে ১৬ বছরের ওই কিশোরীকে চন্দ্রকোনা রোডের একটি নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই ওই দিন রাতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় সে। চিকিৎসার জন্য নাবালিকাকে নার্সিং হোমে ভর্তি করা হলেও বয়সের বিষয়টি সামনে আসতেই গোটা ঘটনা নতুন মোড় নেয়। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর নার্সিং হোমের তরফে গড়বেতা থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নাবালিকার বয়স, বিয়ের সময় তার বয়স কত ছিল, কারা বিয়েতে যুক্ত ছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে বিয়ে হয়েছিল? এ ধরনের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়। তদন্তের পর বৃহস্পতিবার নাবালিকার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার সময়েই একই নার্সিং হোমে আরও এক নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরীর বয়স ১৭ বছর বলে উল্লেখ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুই নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দ্বিতীয় ঘটনাতেও পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন : Rourkela railway station rape case | রৌরকেল্লা স্টেশনে ভয়াবহ অভিযোগ, কনফার্মড টিকিটের নাম করে যুবতীকে ধর্ষণ! রেলকর্মী গ্রেফতার

পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা (Papia Sultana) জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর জেলাজুড়ে অভিযান চলছে। তাঁর কথায়, ‘বৃহস্পতিবার এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার আবারও অন্য এক নাবালিকার সন্তান জন্মের ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই জেলা জুড়ে অভিযান চলছে।’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গীও বাল্যবিবাহ রুখতে সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বাবা-মা থেকে শুরু করে নাবালিকা এবং সমাজের সকলকে সচেতন হতে হবে।’ তাঁর মতে, কোনও প্রসূতি নাবালিকা হলেও তাকে স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হয় না। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি নাবালিকার বয়স সংক্রান্ত তথ্য সামনে এলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। সৌম্যশঙ্কর আরও বলেন, ‘মানুষ সচেতন হয়ে বাল্যবিবাহ আটকাতে খবর দিচ্ছেন। পুলিশ আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে শুরু করলে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা কমবে।’ ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিও নাবালিকা প্রসবের ঘটনা প্রশাসনের নজরে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

বাল্যবিবাহ নিয়ে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থানের পর এই ধরনের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা আরও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও মেয়ের বিয়ে ও পরবর্তী সময়ে সন্তান প্রসবের ঘটনা সামনে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নাবালিকার স্বামীর পাশাপাশি বিয়ের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ রয়েছে। সরকারি তথ্যের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি প্রায় ৬০ হাজার কিশোরী সন্তান প্রসব করেছে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পরই বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা গর্ভধারণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরদার করার কথা জানানো হয়। আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। বাল্যবিবাহের ঘটনায় শুধু নাবালিকার স্বামীর ভূমিকাই নয়, বিয়ের আয়োজন বা সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। পুরোহিত, কাজি, অভিভাবক কিংবা বিয়ের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে যুক্ত অন্য ব্যক্তিরাও পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন।

আরও পড়ুন : Srabanti manager rape case | হাওড়ায় ধর্ষণ অভিযোগে গ্রেফতার অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর ম্যানেজার, নীরবতা ভেঙে প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রীর, তদন্তে চাঞ্চল্য

ভারতে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে পকসো আইনের ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার সঙ্গে নাবালিকার গর্ভধারণের ঘটনা যুক্ত হলে পুলিশের তদন্ত একাধিক আইনি দিক ধরে এগোয়। গড়বেতার ঘটনায় আপাতত তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন ধৃত নাবালিকার স্বামী। বিয়ের সময় কিশোরীর বয়স কত ছিল, বিয়ের নেপথ্যে কারা ছিলেন এবং নাবালিকার গর্ভধারণের পরিস্থিতি কী ছিল—তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ। একই সঙ্গে দ্বিতীয় নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনাতেও তদন্ত চলছে। পরপর দুই ঘটনায় গ্রেফতারির জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরে বাল্যবিবাহ রোধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Sonagachi minor rescue, Kolkata trafficking case | ১০০ নম্বরে ফোন, এক ঘণ্টায় সোনাগাছি থেকে উদ্ধার নাবালিকা! বিশেষ বন্ধুর বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগে তোলপাড় কলকাতা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন