CM Suvendu Adhikari on POCSO case for minor marriage | ১৮-র আগে মা হলে স্বামীর বিরুদ্ধে POCSO মামলা! বাল্যবিবাহ রুখতে বড় অভিযানের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বাল্যবিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের মাতৃত্ব রুখতে এবার আরও কড়া অবস্থানের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনও মেয়ে বিয়ে করে সন্তান প্রসব করলে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজন হলে স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের ধারাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন নিজে থেকেই এমন ঘটনা চিহ্নিত করে মামলা শুরু করবে বলেও উল্লেখ। সোমবার নবান্নে এক প্রশাসনিক বৈঠকে বাল্যবিবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, দেশে বাল্যবিবাহ ও ১৮ বছরের আগে মেয়েদের সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) অত্যন্ত উদ্বেগজনক জায়গায় রয়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে এবার শুধু সচেতনতা প্রচার নয়, আইনি পদক্ষেপের উপরও জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এ সব থামাতে হবে। আরও বড় অভিযানে নামব।’

আরও পড়ুন : West Bengal old age pension 2000 rupees, Suvendu Adhikari pension announcement | বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা ২ হাজার টাকা! নতুন করে আবেদন বাধ্যতামূলক, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি প্রায় ৬০ হাজার মেয়ে সন্তান প্রসব করেছিল। ওই তালিকায় মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে একই সময়ে ১২ হাজার ৮৪৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। এরপর রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas), যেখানে ১৮ বছরের কম বয়সী ৪ হাজার ১৭৮ জন মেয়ের সন্তান প্রসবের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য দফতরের কাছ থেকে পাওয়া বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে শুধু বিয়ের আয়োজন বন্ধ করাই নয়, বিয়ের পরে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের ঘটনাও প্রশাসনের নজরে আনা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগে কোনও মেয়ের গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের তথ্য সামনে এলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা যাচাই করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। কোনও পরিবার বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি জানিয়েছেন।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় আইন রয়েছে ২০০৬ সালের ‘প্রোহিবিশন অব চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্ট’। এই আইনে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে, সেই বিয়ে সম্পাদন বা বিয়েতে সহযোগিতা করা এবং বাল্যবিবাহে উৎসাহ দেওয়ার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের বেশি বয়সি কোনও পুরুষ অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। শুধু বর নয়, বাল্যবিবাহের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে আইনে। কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহ সম্পাদন, পরিচালনা, নির্দেশ বা তাতে সহায়তা করলে তাঁর বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ফলে বিয়ের পুরোহিত, কাজি বা অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অন্য কোনও ব্যক্তির ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও রয়েছে আইনি দায়। কোনও বাবা-মা, অভিভাবক বা শিশুটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বাল্যবিবাহে সম্মতি দেন, উৎসাহ দেন, বিয়ে আটকানোর ক্ষেত্রে অবহেলা করেন অথবা বিয়ের আয়োজন হতে দেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে কেবল পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; আইন সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে।

আদালতেরও বাল্যবিবাহ আটকানোর ক্ষমতা রয়েছে। কোনও অপ্রাপ্তবয়স্কের বিয়ে হতে চলেছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিয়ে হলে সংশ্লিষ্ট বিয়ের বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত অপরাধকে আইনে আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। তবে ১৮ বছরের আগে বিয়ে ও পকসো আইনের প্রয়োগের বিষয়টি আইনগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পকসো আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যক্তি শিশু হিসেবে বিবেচিত। তাই কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে বিবাহ হয়েছে কি না, সেটি একমাত্র বিষয় নয়, ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ধারাগুলি খতিয়ে দেখে তদন্ত করতে হয়। রাজ্য সরকারের তরফে এই ধরনের ঘটনায় স্বতঃপ্রবৃত্ত ভাবে মামলা করার যে কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান মেনেই এগোতে হবে।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে ঠেকাতে শুধু পরিবারের উপর নজরদারি চালালেই হবে না। বিয়ের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত পুরোহিত, কাজি এবং অন্যান্য ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। একই ভাবে বাবা-মা বা অভিভাবকরা যদি মেয়ের অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে। ফলে গ্রামাঞ্চল থেকে শহর, সব জায়গাতেই বাল্যবিবাহের আয়োজনকে প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে বা মাতৃত্বের ঘটনা চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তবে কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ম এবং আইন মেনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন থাকবে।

ধর্মের ভিত্তিতে কোনও আলাদা ব্যবস্থা করা হবে না বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন সবার ক্ষেত্রেই সমান ভাবে প্রয়োগ করা হবে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি যে মেয়েরা মা হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান সামনে রেখে তিনি আগের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি জানা সত্ত্বেও যথেষ্ট কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি। বাল্যবিবাহের সঙ্গে অল্প বয়সে মাতৃত্বের যোগসূত্রও বৈঠকে উঠে এসেছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়া এবং ভবিষ্যতে আর্থিক ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার মতো বিষয়গুলি প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুধু বিয়ের দিন আটকানো নয়, স্কুলছুট কিশোরী, অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভধারণ এবং জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মাধ্যমেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার গোপন বাল্যবিবাহ চিহ্নিত করা। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক চাপ, পারিবারিক সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক সমস্যার কারণে বাল্যবিবাহের আয়োজন প্রকাশ্যে আসে না। ফলে স্বাস্থ্য দফতর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিদ্যালয় এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান জোরদার করার ইঙ্গিত রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে হলে বর, বিয়ের আয়োজনকারী এবং অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নাবালিকার গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের ঘটনাকেও নজরে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনও ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে প্রশাসন নিজে থেকে তদন্ত শুরু করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন ২০০৬ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে শিশুর বিয়ে এবং সেই বিয়েতে সহযোগিতার জন্য শাস্তির বিধান ইতিমধ্যেই রয়েছে। এবার রাজ্য সরকার সেই আইনি কাঠামোকে আরও সক্রিয় ভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। একই সঙ্গে পকসো আইনের প্রযোজ্য ধারায় পদক্ষেপের কথা জানানোয় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে রাজ্য প্রশাসন কী ভাবে এই অভিযান বাস্তবায়ন করে তার দিকে। কতগুলি বাল্যবিবাহ চিহ্নিত হচ্ছে, কতগুলি মামলা হচ্ছে, কত জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা কী ভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, আগামী দিনে সেই তথ্যই এই উদ্যোগের কার্যকারিতা বোঝার প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠবে। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগে বিয়ে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্বের বিরুদ্ধে এবার আর শুধু প্রচার নয়, সরাসরি আইনি পদক্ষেপের পথেই হাঁটতে চলেছে রাজ্য।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian GDP growth 7.8 percent, PM Narendra Modi GDP speech | ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পর মোদীর নিশানা রাহুলকে, বিদেশ ভ্রমণ-বিয়ে-সোনা নিয়ে দেশবাসীকে তিন পরামর্শ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন