সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : প্যারা এশিয়ান গেমসে (Para Asian Games) ভারতের ক্রীড়া সাফল্যের আবহে গুরুতর অভিযোগ ঘিরে তৈরি হল বিতর্ক। জাপানে এক হোটেলকর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে আটক করা হল ভারতীয় প্যারা সাঁতারু মহম্মদ শামস আলম শেখকে (Mohammed Shams Alam Sheikh)। ঘটনার পর তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ভারতের প্যারালিম্পিক্স কমিটি (Paralympic Committee of India)। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
এমনকী আজীবন নির্বাসনের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তদন্তের ফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের খবর, জাপানের নাগোয়া (Nagoya) শহরে প্যারা এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ভারতীয় দলের সঙ্গে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী শামস। একসময় নিজের ইভেন্টে বিশ্বের এক নম্বর স্থান অর্জন করেছিলেন এই সাঁতারু। ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর পরিচিতি থাকলেও, জাপানে ঘটে যাওয়া বলে অভিযোগ ওঠা ঘটনাটি এখন তাঁর ক্রীড়াজীবনকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কোনও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, দলের ভাবমূর্তিও আলোচনায় চলে আসে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বলে উল্লেখ। অভিযোগ, হোটেলে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন এক মহিলা কর্মী। সেই সময়ই শামস তাঁর সঙ্গে যৌন হেনস্থামূলক আচরণ করেন। হোটেলকর্মীর অভিযোগের পর বিষয়টি ভারতীয় দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের জানানো হয়। এরপর দলের শেফ দ্য মিশন (Chef de Mission)-এর কাছে খবর পৌঁছয়। অভিযোগ পাওয়ার পর ভারতীয় দলের আধিকারিকেরা হোটেলে যান। সেখানে পৌঁছে তাঁরা দেখেন, জাপানের পুলিশ ইতিমধ্যেই উপস্থিত রয়েছে এবং অভিযুক্ত সাঁতারুকে আটক করেছে।
শামসকে স্থানীয় আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া নেওয়া হতে পারে। বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি সামলাতে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপ করতে হয়। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আলোচনা চলে। তবে অভিযোগের প্রকৃতি ও পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট জাপানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নথি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের খবরে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পর ভারতীয় দলের আধিকারিকেরা লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওই রাতেই শামসকে অন্য একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার, তাঁকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি ঠিক কোন প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থার অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। তাই তাঁকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে আদালতের রায় বা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখা যায় না।
ভারতীয় প্যারালিম্পিক্স কমিটি এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, দলের আচরণবিধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রযোজ্য শৃঙ্খলাবিধি এসব দিক বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে উল্লেখ। কমিটির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শামসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে দলের এক আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সময় খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘প্যারা এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া গোটা ভারতীয় দলকে অসম্মানিত করেছে শামস। ওর এই কাজের কোনও ক্ষমা নেই। আজীবন নির্বাসনের থেকে কম শাস্তি ও পাবে না।’ এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, দলের একাংশের মধ্যে অভিযোগটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। তবে এটি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ব্যক্তিগত বা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া; শামসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি কী হবে? তা নির্ভর করবে তদন্ত ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর।
প্যারা ক্রীড়ায় ভারতের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় খেলোয়াড়েরা পদক জয়ের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের পরিচিতিও বাড়াচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে কোনও দলের সদস্যকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা প্রতিযোগিতার ফলাফলের বাইরেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। নাগোয়ায় ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত এই ঘটনা তাই কেবল একজন সাঁতারুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়, আন্তর্জাতিক সফরে দলের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে অভিযোগ ওঠা এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। হোটেলকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি পদক্ষেপের কথা প্রতিবেদনে জানানো হলেও, মামলার পূর্ণ বিবরণ, আদালতে শুনানির ফল কিংবা জাপানের পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, ভারতীয় প্যারালিম্পিক্স কমিটির তদন্তের চূড়ান্ত ফলও এখনও জানা যায়নি। ফলে শামসের বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত আজীবন নির্বাসনের সম্ভাবনাকে নিশ্চিত খবর হিসেবে ধরা উচিত নয়।
ভারতে ফেরার পর শামসের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি বলে সূত্রের খবর। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, অভিযুক্ত সাঁতারুর বক্তব্য নেওয়া হয় কি না ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, এখন সে দিকেই সকলের থাকবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর ভবিষ্যৎ বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব তথ্য যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করাও জরুরি। নাগোয়ায় ঘটে যাওয়া বলে অভিযোগ ওঠা এই ঘটনা নিয়ে তাই ভারতীয় ক্রীড়ামহলে পরবর্তী সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Asian Para Games News, India Medal Tally | এক দিনেই ৫ সোনা, ১৮ পদক! প্যারা এশিয়ান গেমসে দুরন্ত ভারত, নাগোয়ায় রেকর্ড গড়ে নজর কাড়লেন সিমরন-প্রবীণ-সচিন



