Pavan Ruia arrest | ৬০০ কোটির সাইবার প্রতারণা কাণ্ডে গ্রেফতার শিল্পপতি পবন রুইয়া, নিউ টাউনে নাটকীয় অভিযান পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়াল বড়সড় সাইবার প্রতারণা মামলায়। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে শিল্পপতি পবন রুইয়াকে (Pavan Ruia) গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা (West Bengal Cyber Crime Wing)। মঙ্গলবার নিউ টাউন (New Town) -এর একটি হোটেলের সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক তল্লাশির পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৪ সালে বিধাননগরের ইকো পার্ক থানায় (Eco Park Police Station) স্বপনকুমার মণ্ডল (Swapan Kumar Mondal) নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ ছিল, দেশজুড়ে বিভিন্ন সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ পবন রুইয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Nandigram Bhabanipur | নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর : আবার মমতা বনাম শুভেন্দু! ১৪৪ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা বিজেপির, চমক একাধিক কেন্দ্রে

তদন্তে নেমে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার লেনদেনের সন্ধান পায় সাইবার অপরাধ দমন শাখা। পরে সেই অঙ্ক আরও বাড়তে থাকে এবং মোট প্রতারণার পরিমাণ অন্তত ৬০০ কোটিতে পৌঁছেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুধু পবন রুইয়া নন, তাঁর পুত্র রাঘব রুইয়া (Raghav Ruia) এবং কন্যা পল্লবী রুইয়া (Pallavi Ruia)-র নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা জানান, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত সাইবার প্রতারণার টাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে, এবং সেই অর্থের বড় অংশ রুইয়া পরিবারের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলিতে জমা রাখা হয়েছে।’ অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ভুয়ো সংস্থা বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে এই আর্থিক লেনদেন চালানো হত। গত বছরের নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার শাখা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলায় এফআইআর দায়ের করে। এরপরই শুরু হয় ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান। পবন রুইয়ার বাসভবনেও হানা দেয় তদন্তকারী দল। সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে জানা যায়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ‘এই মামলায় ইতিমধ্যেই ১৯০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (National Cyber Crime Reporting Portal বা NCRP)-এর মাধ্যমে।’ এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগ থেকেই বোঝা যায়, প্রতারণার জাল কতটা বিস্তৃত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ (Syed Amir Ali Avenue) -এর রুইয়া সেন্টার (Ruia Centre) থেকেই এই সমস্ত আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রিত হত। তদন্তকারীদের দাবি, ‘এই কেন্দ্র থেকেই বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে প্রতারণার অর্থ লুকিয়ে রাখা হত।’ উল্লেখ্য, এই মামলায় গ্রেফতারির আগে পবন রুইয়া (Pavan Ruia) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা আগাম জামিনের জন্য কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত ডিসেম্বরে আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করলেও কিছু শর্ত আরোপ করেছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের পাসপোর্ট জমা রাখতে হয় এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়। কিন্তু তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে থাকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ‘অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কার্যকলাপ নিয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন ছিল, যার জন্যই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি হয়ে পড়ে।’ সেই প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় পবন রুইয়াকে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, শিল্পপতি হিসেবে পবন রুইয়ার অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। ২০১৬ সালে জেসপ (Jessop) কারখানা থেকে রেলওয়ে সরঞ্জাম চুরির মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর মালিকানাধীন ডানলপ (Dunlop) এবং জেসপ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেগুলি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। বাম আমলে ডানলপের মালিকানা পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমান মামলায় গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে, যাতে পুরো চক্রটি উন্মোচিত করা যায়। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত, কতগুলি সংস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, এবং প্রতারণার অর্থ কোথায় কোথায় গিয়েছে, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। এই গ্রেফতারি রাজ্যের ব্যবসায়ী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাইবার প্রতারণার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেনের যুগে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা জানিয়েছে, ‘এই ধরনের প্রতারণা রুখতে প্রযুক্তি এবং তদন্ত, দুটোকেই আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আবেদন জানানো হচ্ছে, যাতে তারা সন্দেহজনক লেনদেন থেকে দূরে থাকে।’ এই মামলার অগ্রগতি এখন নজরে রাখছে গোটা রাজ্য। পবন রুইয়ার গ্রেফতারির পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং আর কী কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই এখন দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata Police Commissioner Ajay Kumar Nand | দায়িত্ব নিয়েই বড় বার্তা কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের, শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস

Sasraya News
Author: Sasraya News