GRSE Kolkata Shipbuilding | কলকাতার জিআরএসই থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীতে ‘সংশোধক’ হস্তান্তর, সমুদ্র জরিপ ক্ষমতায় নতুন অধ্যায়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির শক্তি আরও একবার সামনে এল কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (Garden Reach Shipbuilders & Engineers Limited বা GRSE) থেকে নির্মিত চতুর্থ সার্ভে ভেসেল ‘সংশোধক’ (INS Sanshodhak) ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) হাতে তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। ৩০ মার্চ ২০২৬-এ এই অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের হস্তান্তর সম্পন্ন হয়, যার মাধ্যমে চারটি বড় সার্ভে ভেসেল প্রকল্পের সফল পরিসমাপ্তি ঘটল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (Ministry of Defence বা MoD) পরিকল্পনায় তৈরি এই প্রকল্পের অধীনে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় নির্মিত আগের তিনটি জাহাজ, আইএনএস সন্ধায়ক (INS Sandhayak), আইএনএস নির্দেশক (INS Nirdeshak) এবং আইএনএস ইক্ষক (INS Ikshak), ক্রমশ ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ‘সংশোধক’ যুক্ত হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পূর্ণতা পেল।

আরও পড়ুন : Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো (Warship Design Bureau বা WDB) -এর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত। জিআরএসই (GRSE), কলকাতার কারখানায় ভারতীয় শিপিং রেজিস্টারের (Indian Register of Shipping বা IRS) নিয়ম মেনে এর নকশা ও নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৩৪০০ টন ওজনের এবং প্রায় ১১০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জাহাজ সমুদ্র জরিপের ক্ষেত্রে একাধিক অত্যাধুনিক সুবিধা বহন করছে। এই সার্ভে ভেসেলটি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ চালাতে সক্ষম। নৌচলাচলের পথ নির্ধারণ, বন্দর এলাকায় নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রতলের ভূ-ভৌতিক তথ্য সংগ্রহে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও অসামরিক, দুই ক্ষেত্রেই সমুদ্র সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে এই জাহাজ ব্যবহৃত হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জাহাজটিতে রয়েছে উন্নত ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, ডিপিজিপিএস (DGPS) পজিশনিং সিস্টেম, ডিজিটাল সাইড স্ক্যান সোনার (Side Scan Sonar), স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকল এবং রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (ROV)। এই সমস্ত প্রযুক্তি সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি ও তথ্য সংগ্রহকে আরও নির্ভুল ও দ্রুত করে তুলবে।

দুটি শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিন দ্বারা চালিত ‘সংশোধক’ ১৮ নটিক্যাল মাইলের বেশি গতিতে চলতে সক্ষম। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করে জরিপ কাজ চালানোর উপযোগী করে জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে। জাহাজটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২২ জুন কিল বসানোর মাধ্যমে এবং পরের বছর ২৩ জুন এটি জলে নামানো হয়। হস্তান্তরের আগে বন্দর ও সমুদ্রে একাধিক কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এই জাহাজ নির্মাণে ৮০ শতাংশেরও বেশি উপাদান দেশীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Aatmanirbhar Bharat) উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পের উপর ভরসা বাড়ানোর যে লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে, তার একটি সফল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই প্রকল্পকে। একজন আধিকারিকের কথায়, ‘এই ধরনের আধুনিক সার্ভে ভেসেল ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্র সংক্রান্ত নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশীয় প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে তৈরি এই জাহাজ ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Indian Ocean Region বা IOR) কৌশলগত গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে উন্নত মানের হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সমুদ্রপথে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা নজরদারি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানে এই ধরনের জাহাজের ভূমিকা বহুমাত্রিক। উল্লেখ্য, কলকাতার জিআরএসই দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নির্মাণ করে আসছে। ‘সংশোধক’ হস্তান্তরের মাধ্যমে তারা আবারও প্রমাণ করল যে দেশীয় শিপবিল্ডিং শিল্প আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও দক্ষতায় সক্ষম। এই প্রকল্পে বহু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থা (MSME) যুক্ত ছিল, যারা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। ফলে এই উদ্যোগ দেশের শিল্প কাঠামোকেও শক্তিশালী করেছে এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে এই ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের গভীরতা, তলদেশের গঠন, নৌচলাচলের নিরাপত্তা, সব ক্ষেত্রেই উন্নত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। ‘সংশোধক’ সেই প্রয়োজন পূরণে বড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : INS Sudarshini France | ফ্রান্সে ভারতের ‘ভাসমান দূত’! ঐতিহাসিক সেতে বন্দরে আইএনএস সুদর্শিনী, বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল সামুদ্রিক ঐতিহ্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন