সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান -এর শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে উদ্বেগ চরমে। জেলে বন্দী ‘কাপ্তান’ -এর দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমন আশঙ্কার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাঁচ দেশের ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক যৌথভাবে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবি তুলেছেন। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন ভারতের কিংবদন্তী সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) ও কপিল দেব (Kapil Dev) সহ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের একাধিক প্রাক্তন অধিনায়ক।
আরও পড়ুন : Rohit Sharma Fitness | নতুন রূপে রোহিত শর্মা ফিটনেসে ফের হিটম্যান, সমালোচকদের জবাব দিলেন স্টাইলেই
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন মহলে আলোচনা কারাবন্দী ইমরানের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে। অনানুষ্ঠানিক সূত্রে দাবি, তাঁর প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি পরিবারকে না জানিয়ে তাঁকে গোপনে হাসপাতালে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) জানিয়েছে, ‘কাপ্তানের জীবন ঝুঁকির মুখে’, এবং অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ক্রিকেট দুনিয়ায় ইমরান একজন কিংবদন্তি। তাঁর স্বাস্থ্য ও কারাবাস সংক্রান্ত যে সব খবর প্রকাশ্যে আসছে, তা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।’ চিঠিতে আরও উল্লেখ, ‘আমরা কেউ তাঁর বিরুদ্ধে খেলেছি, কেউ তাঁকে আদর্শ হিসেবে দেখেছি। রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক, জনগণের ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার তাঁর প্রাপ্য।’ প্রাক্তন অধিনায়কদের সাফ বক্তব্য, ‘অবিলম্বে তাঁর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হোক।’
ভারতীয় ক্রিকেটের দুই স্তম্ভ গাভাসকর (Sunil Gavaskar) ও কপিল (Kapil Dev) -এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বর্ডার (Allan Border), গ্রেগ চ্যাপেল (Greg Chappell), ইয়ান চ্যাপেল (Ian Chappell), স্টিভ ওয়া (Steve Waugh); ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটন (Michael Atherton), মাইকেল ব্রিয়ারলি (Michael Brearley), ডেভিড গাওয়ার (David Gower), নাসের হুসেন (Nasser Hussain); ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড (Clive Lloyd); অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন মহিলা অধিনায়ক বেলিন্ডা ক্লার্ক (Belinda Clark); নিউজিল্যান্ডের জন রাইট (John Wright) এবং কিম হিউজ (Kim Hughes) এই আবেদনপত্রে সই করেছেন। পাঁচ দেশের এই বহুজাতিক সমর্থন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ক্রিকেট রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। প্রসঙ্গত, ইমরান খানের ক্রিকেট-ঐতিহ্য পাকিস্তানের ক্রীড়াইতিহাসে অনন্য। ১৯৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই পাকিস্তান বিশ্বকাপ জেতে; দ্রুতগতি পেস আক্রমণ গড়ে তুলে তিনি দেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পর রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীও হন। ফলে তাঁর বর্তমান কারাবাস ও স্বাস্থ্যসংকট কেবল রাজনৈতিক ইস্যু নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলেও তা আবেগের বিষয়। সমালোচকেরা বলছেন, ‘আইনের পথ আলাদা, কিন্তু চিকিৎসা ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনও আপস হতে পারে না।’ সমর্থকেরা দাবি করছেন, ‘ইমরানের বিরুদ্ধে মামলা চলুক, কিন্তু তাঁর জীবন ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া অমানবিক।’
চিঠিতে প্রাক্তন অধিনায়কেরা পাকিস্তান সরকারের সদিচ্ছার উপর আস্থা রেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক ও আইনি দায়িত্ব পালন করবে।’ তবে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে, সরকার কী দ্রুত চিকিৎসা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে? পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ মিলবে? নাকি বিতর্ক আরও ঘনীভূত হবে? ক্রিকেটবিশ্বে ইমরান ‘কাপ্তান’ নামেই পরিচিত। তাঁর নেতৃত্ব, লড়াকু মনোভাব ও প্রতিভা বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই মানুষটি যদি জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পান, এমন আশঙ্কা থেকেই প্রাক্তন অধিনায়কদের এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ। ক্রীড়া-রাজনীতির টানাপোড়েনের মাঝেও মানবিকতার আবেদন যে কতটা জোরাল হতে পারে, এই চিঠি তারই প্রমাণ। এখন প্রশ্ন একটাই, পাক সরকার কী দ্রুত সাড়া দেবে? ইমরানের স্বাস্থ্যপরিস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করবে? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলের এই আবেদন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে ঘিরে উদ্বেগ সীমান্ত পেরিয়ে গিয়েছে, আর সেই উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর জীবন, দৃষ্টিশক্তি ও মৌলিক মানবাধিকার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sunil Gavaskar | অস্ট্রেলিয়ায় ‘কাগুজে বাঘ’! সুনীল গাভাসকর কড়া আক্রমণে ইংল্যান্ডের বাজবল




