প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: আজ দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ নয়নতারা (Nayanthara)। অভিনয় দক্ষতা, পর্দায় উপস্থিতি ও দীর্ঘ কেরিয়ারের সাফল্যের কারণে তাঁকে ‘লেডি সুপারস্টার’ নামেও ডাকা হয়। বড় বাজেটের ছবিতে তাঁর উপস্থিতি যেমন দর্শকের আগ্রহ বাড়ায়, তেমনই তাঁর পারিশ্রমিকও এখন দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতের আলোচিত বিষয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর একটি ছবির পারিশ্রমিক প্রায় ১০ থেকে ১৮ কোটি টাকা পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ কেরিয়ারের একেবারে শুরুতে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অভিনয়ের জগতে পা রাখার আগেই মডেলিংয়ের মাধ্যমে উপার্জন শুরু করেছিলেন তিনি। আর প্রথম দিকের একটি ফোটোশুটের জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। সম্প্রতি নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিনের কথা বলতে গিয়ে সেই প্রথম উপার্জনের স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায় উঠে এসেছে এমন একটি সময়ের কথা, যখন চলচ্চিত্রে অভিনয় তাঁর ভবিষ্যৎ পেশা হবে, তা তিনি নিজেও ভাবেননি। একটি পত্রিকার প্রচ্ছদের জন্য করা ফোটোশুটই যে তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দেবে, তখন সেই সম্ভাবনা তাঁর কল্পনাতেও ছিল না।

নয়নতারা জানান, মডেলিংয়ের সময় একটি পত্রিকার প্রচ্ছদের জন্য তাঁর ফোটোশুট করা হয়েছিল। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য কাজ। সেই কাজের বিনিময়ে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। আজকের দিনে যখন তাঁর একটি ছবির পারিশ্রমিক কয়েক কোটি টাকা বলে আলোচনা হয়, তখন কেরিয়ারের শুরুতে পাওয়া সেই অঙ্কের কথা নিঃসন্দেহে তাঁর পেশাগত যাত্রার এক উল্লেখযোগ্য দিক। তথাপি ওই ফোটোশুটের গুরুত্ব কেবল পারিশ্রমিকের অঙ্কে আটকে থাকেনি। পত্রিকার প্রচ্ছদে নয়নতারার ছবি নজরে পড়েছিল পরিচালক সত্যন অন্তিক্কাড়ের (Sathyan Anthikad)। ছবিটি দেখে তিনি অভিনেত্রীকে চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব দেন। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার পূর্বপরিকল্পনা না থাকলেও সেই সুযোগই তাঁকে সিনেমার জগতে নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে সেই একটি সিদ্ধান্ত তাঁর জীবন ও কেরিয়ারের গতিপথ বদলে দেয়।

২০০৩ সালে মালয়ালম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন নয়নতারা। অভিনয়ের প্রথম পর্যায়েই তিনি দর্শকের নজরে আসেন। তাঁর পরবর্তী কাজগুলিও ধীরে ধীরে তাঁকে মালয়ালম চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ করে তোলে। প্রথম ছবির সাফল্যের পরে আরও কয়েকটি মালয়ালম ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। তবে তাঁর কেরিয়ারের পরিধি যে শুধু একটি ভাষার চলচ্চিত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা তখনও হয়ত আন্দাজ করা কঠিন ছিল। ২০০৫ সালে ‘আইয়া’ (Ayya) ছবির মাধ্যমে তামিল চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন নয়নতারা। নতুন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করেও খুব দ্রুত দর্শকের কাছে নিজের জায়গা তৈরি করে নেন। একই বছর রজনীকান্তের (Rajinikanth) সঙ্গে ‘চন্দ্রমুখী’ (Chandramukhi) ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ আসে। ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায় ও নয়নতারার কেরিয়ারে তা গুরুত্বপূর্ণ বাঁক এনে দেয়।

আরও পড়ুন : Sonakshi Zaheer Marriage | সোনাক্ষী-জাহির বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন শত্রুঘ্ন সিন্হা, জল্পনায় ইতি
‘চন্দ্রমুখী’ -এর সাফল্যের পর তামিল চলচ্চিত্রে তাঁর চাহিদা বাড়তে থাকে। একের পর এক বড় ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ধীরে ধীরে তেলুগু ও তামিল চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা আরও শক্ত করেন। শুধু নায়িকার চরিত্রে উপস্থিত থাকা নয়, গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের পরিসর বাড়িয়েছেন অভিনেত্রী। নয়নতারার কেরিয়ারের এই যাত্রায় আর্থিক পরিবর্তনও নজরকাড়া। প্রথম দিকের কাজের জন্য যেখানে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, বর্তমানে একটি ছবির জন্য তাঁর পারিশ্রমিক ১০ থেকে ১৮ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। অর্থাৎ কয়েক হাজার টাকা দিয়ে শুরু হওয়া পেশাগত যাত্রা কয়েক কোটি টাকার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শুধু পারিশ্রমিকের অঙ্ক নয়, দক্ষিণী চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী হিসেবে নয়নতারার অবস্থানও গত দুই দশকে বদলেছে। এমন সময়ও ছিল যখন নারী চরিত্রকে অনেক ক্ষেত্রে নায়ককেন্দ্রিক গল্পের পরিসরের মধ্যেই রাখা হত। নয়নতারা একাধিক ছবিতে এমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে তাঁর উপস্থিতি ছবির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর ফলে দক্ষিণী চলচ্চিত্রে নারী অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিক এবং বাজারমূল্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর কেরিয়ারের পরবর্তী সময়ে তামিল, তেলুগু এবং মলয়ালম ছবির পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন নয়নতারা। শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) সঙ্গে ‘জওয়ান’ (Jawan) ছবিতে অভিনয় করে সর্বভারতীয় দর্শকের কাছেও নতুন করে পরিচিতি পান তিনি। অ্যাটলি (Atlee) পরিচালিত ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পাওয়ায় নয়নতারার জনপ্রিয়তা দক্ষিণ ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বিস্তৃত হয়। ‘জওয়ান’-এর পর তাঁর পারিশ্রমিক নিয়েও চলচ্চিত্রমহলে আলোচনা আরও বেড়ে যায়। যদিও কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর প্রকৃত পারিশ্রমিক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অঙ্ক প্রকাশ্যে আসে ও প্রযোজনা সংস্থা বা শিল্পী সবসময় সেই অঙ্ক নিশ্চিত করেন না, তবু নয়নতারা যে বর্তমানে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের অন্যতম, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

এখন নয়নতারার সামনে রয়েছে আরও একাধিক কাজ। তাঁর আসন্ন ছবি ‘হাই’ (Hi)-কে ঘিরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ছবির প্রচারের সময় নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিনের প্রসঙ্গ ওঠায় নয়নতারা ফিরে দেখেছেন সেই সময়কে, যখন একটি পত্রিকার প্রচ্ছদের ফোটোশুটই তাঁর জন্য নতুন দরজা খুলেছিল। উল্লেখ্য, মডেলিং থেকে অভিনয়, মলয়ালম ছবি থেকে তামিল চলচ্চিত্র, তার পরে দক্ষিণী ছবির অন্যতম বড় তারকা এবং সর্বভারতীয় সিনেমার পরিচিত মুখ—নয়নতারার পেশাগত পথ দীর্ঘ। সেই পথের শুরুতে অর্থের অঙ্ক ছিল সামান্য। কিন্তু সেই কাজের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কারণ ওই ফোটোশুটের মাধ্যমেই পরিচালক সত্যন অন্তিক্কাড়ের নজরে এসেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই আসে অভিনয়ের প্রস্তাব। নয়নতারার নিজের বক্তব্যে তাই প্রথম পারিশ্রমিকের গল্পটি কেবল কয়েক হাজার টাকা পাওয়ার ঘটনা নয়। এটি তাঁর পেশাগত জীবনের শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। আজ যখন তাঁর নামের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার পারিশ্রমিকের হিসাব জুড়ে যায়, তখন সেই ২ থেকে ৩ হাজার টাকার প্রথম উপার্জন তাঁর কেরিয়ারের দীর্ঘ পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার দক্ষিণী চলচ্চিত্রে ‘লেডি সুপারস্টার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া নয়নতারার পথ যে এক দিনে তৈরি হয়নি, তাঁর প্রথম কাজের গল্পই তার একটি ছবি তুলে ধরে। একটি পত্রিকার প্রচ্ছদের জন্য করা সাধারণ একটি ফোটোশুট থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা। সেই কাজের পারিশ্রমিক ছিল কয়েক হাজার টাকা। দুই দশকের বেশি সময় পরে সেই একই অভিনেত্রীর নামের পাশে কোটি টাকার পারিশ্রমিকের অঙ্ক ঘোরে। ফলে নয়নতারার প্রথম উপার্জনের স্মৃতি এখন তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলির এক মূল্যবান দিক।
—সব ছবি সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nayanthara-Vignesh : যমজ সন্তানের মা হলেন নয়নতারা




