Nana Patekar death, Nana Patekar funeral | নানা পটেকরের শেষযাত্রা পুণেতে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য; ‘এক গভীর শূন্যতা’, শোকপ্রকাশ মোদীর

SHARE:

৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত অভিনেতা নানা পটেকরের শেষকৃত্য পুণের ডোণজেতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন। অভিনেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি ও পুণে: পর্দার শক্তিশালী অভিনেতা, অনন্য সংলাপভঙ্গির শিল্পী ও হিন্দি-মরাঠি চলচ্চিত্রের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ নানা পাটেকর (Nana Patekar) -এর শেষযাত্রা শেষ হল পুণেতে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুণের ডোণজে (Donje) গ্রামের নিজের ফার্মহাউসে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ৭৫ বছর বয়সে অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে রাজনৈতিক মহল, সর্বত্র নেমে এসেছে শোকের আবহ। গোয়ার ডোনা পাউলায় (Dona Paula) নিজের বাসভবনে বৃহস্পতিবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। আচমকা বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর তিনি অচেতন হয়ে যান। পরে তাঁকে মণিপাল হাসপাতালে (Manipal Hospital) নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টা সফল হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি সাড়াহীন অবস্থায় ছিলেন। প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত হৃদ্‌যন্ত্র সচল করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফিরিয়ে আনা যায়নি। ভোর প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে উল্লেখ।

আরও পড়ুন : Putin praises Modi, Modi Ukraine peace efforts | ‘যত দ্রুত সম্ভব সংঘাত শেষ হোক’! মোদীর উদ্যোগে পুতিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, কী বললেন রুশ প্রেসিডেন্ট?

নানার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি যে এতটা গুরুতর হয়ে উঠবে, তা পরিবারের ঘনিষ্ঠরাও বুঝতে পারেননি। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটে নাগাদ এক বন্ধুকে ফোন ও মেসেজ করেছিলেন অভিনেতা। শরীর ভাল লাগছে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই মেসেজ তৎক্ষণাৎ নজরে আসেনি। পরে ভোরের দিকে বন্ধু তাঁর বাড়িতে পৌঁছন। তখন নানাকে ঘামতে ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পরিচর্যাকারী ও জরুরি চিকিৎসা দল সেখানে পৌঁছে হৃদ্‌যন্ত্র সচল করার চেষ্টা শুরু করে। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শেখর সালকার (Dr Shekhar Salkar) জানান, অভিনেতাকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকলাপ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মণিপাল হাসপাতালের পক্ষ থেকে পরে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়াকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নানার মৃত্যুর পর তাঁর দেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজে (Goa Medical College) নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়। গোয়ায় অনুরাগীদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিমানপথে তাঁর মরদেহ পুণেতে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যার পরে ডোণজের ফার্মহাউসে তাঁর মরদেহ পৌঁছয়। সেখানে আগে থেকেই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মহারাষ্ট্র সরকার অভিনেতার দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন ও মরাঠি ও হিন্দি শিল্পজগতে তাঁর অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়। ডোণজের ফার্মহাউসের সঙ্গেও নানার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই জায়গাতেই তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। স্থানীয় মানুষ, অনুরাগী, চলচ্চিত্রকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্যের আয়োজন সম্পন্ন হয় বলে উল্লেখ।

আরও পড়ুন : Agriculture Minister Shivraj Singh Chouhan on India Foodgrain Production 2026-27 | এল নিনোর আশঙ্কায় খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্য কমাল কেন্দ্র, রবি মরশুমে বাড়ল টার্গেট

নানা পাটেকরের শেষযাত্রায় চলচ্চিত্রজগতের একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। জ্যাকি শ্রফ (Jackie Shroff) ডোণজেতে পৌঁছন। সালমান খানও (Salman Khan) অভিনেতার প্রয়াণে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানান ও পুণের উদ্দেশে রওনা দেন। নানা ও সালমানের একসঙ্গে কাজ করা উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে সঞ্জয় লীলা ভন্সালী (Sanjay Leela Bhansali) পরিচালিত ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ (Khamoshi: The Musical)। নানার প্রয়াণের খবর পাওয়ার পর সলমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ‘ভাউ’ বলে স্মরণ করেন। নানার প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শোকবার্তায় তিনি অভিনেতার অভিনয়ক্ষমতা, ব্যক্তিত্ব ও হিন্দি ও মরাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য, নানা পটেকরের মতো ‘তীব্র ব্যক্তিত্ব ও স্বতন্ত্র উপস্থিতি’র অভিনেতা খুব বেশি ছিলেন না। বিভিন্ন চরিত্রে তাঁর অভিনয়শৈলী দর্শকদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। মোদী আরও বলেন, নানা পাটেকর নিজের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে কখনও পিছিয়ে থাকতেন না। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকের মনে জায়গা করে নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। অভিনেতার প্রয়াণে হিন্দি ও মরাঠি চলচ্চিত্রে ‘এক গভীর শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি সমবেদনা জানান মোদী।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও (Droupadi Murmu) নানার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিনেতার শক্তিশালী অভিনয় ও ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘ অবদানের কথা। উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন (C. P. Radhakrishnan) -সহ আরও একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নানার প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, নানা নাটেকরের চলচ্চিত্রজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ (Gaman) ছবির মাধ্যমে। পরে ‘অঙ্কুশ’ (Ankush), ‘প্রতিঘাত’ (Pratighaat), ‘পরিন্দা’ (Parinda), ‘প্রহার’ (Prahaar), ‘ক্রান্তিবীর’ (Krantiveer), ‘অগ্নিসাক্ষী’ (Agni Sakshi), ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ (Khamoshi: The Musical), ‘ওয়েলকাম’ (Welcome) -এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। কখনও কঠোর, কখনও আবেগপ্রবণ, কখনও জটিল মানসিকতার চরিত্র সহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় তাঁর অভিনয়ের ধরন তাঁকে সমসাময়িক অভিনেতাদের থেকে আলাদা পরিচিতি দেয়। শুধু মূলধারার হিন্দি ছবিতেই নয়, মরাঠি চলচ্চিত্র ও মঞ্চেও নানার অবদান উল্লেখযোগ্য। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং জলসংরক্ষণে কাজ করার জন্য ‘নাম ফাউন্ডেশন’ (Naam Foundation) -এর সঙ্গে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল। ফলে তাঁর প্রয়াণের প্রতিক্রিয়া শুধু চলচ্চিত্র মহলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

নানা পাটেকরের মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। তাঁর কণ্ঠস্বর, সংলাপ বলার ধরন এবং চরিত্রের মধ্যে প্রবল আবেগ তৈরি করার ক্ষমতা তাঁকে দর্শকের কাছে আলাদা মর্যাদা দিয়েছিল। শেষযাত্রায় পুণের ডোণজে ফার্মহাউসে সেই শ্রদ্ধারই প্রতিফলন দেখা গেল। গোয়ায় আচমকা থেমে যাওয়া জীবন শেষ বিদায় পেল নিজের প্রিয় পুণের মাটিতে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nana Patekar farmers donation, Nana Patekar 1.5 crore car | দেড় কোটির গাড়ি কেনেননি, কৃষক পরিবারকে দিয়েছেন সেই টাকা! নানা পাটেকরের সিদ্ধান্ত মুগ্ধ দেশবাসী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন