Mount Everest, Everest expedition, Sir Edmund Hillary | বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে যাত্রার অদৃশ্য নায়ক কাঞ্চা শেরপা প্রয়াত, পর্বতারোহণ জগতে শোক

SHARE:

Kacha Sherpa

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দার্জিলিং, ১৭ অক্টোবর: পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ১৯৫৩ সালে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী দলের অন্যতম সদস্য কাঞ্চা শেরপা (Kancha Sherpa) ৯২ বছর বয়সে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর পরিবার ও পরিচিতজনরা জানিয়েছেন, শেষ সময় তিনি পৈতৃক বাড়িতে ছিলেন এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন।

কাঞ্চা শেরপা মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্যর এডমন্ড হিলারি (Sir Edmund Hillary) ও তেনজিং নোরগে (Tenzing Norgay) -এর সঙ্গে মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন। এই অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছানোর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত হন। যদিও তিনি নিজে শীর্ষে পৌঁছাতে পারলেন না, তবু তাঁর অবদান ছিল দলের জন্য অপরিহার্য। কাঞ্চা শেরপা’র জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। তিনি দার্জিলিংয়ে পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে কাজের খোঁজে এসে ছিলেন। কুন্তলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে তেনজিং নোরগে’র মাধ্যমে। নোরগে কাঞ্চার কাজের দক্ষতায় এতটাই মুগ্ধ হন যে তিনি তাঁকে স্যর এডমন্ড হিলারির দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন। ১৯৫৩ সালে, মাত্র দৈনিক পাঁচটাকা পারিশ্রমিক নিয়ে কাঞ্চা শেরপা ১০৩ জন শেরপার মধ্যে একজন হিসেবে অভিযানে অংশ নেন। “কাঞ্চা আমাদের দলের অদৃশ্য শক্তি ছিল। তাঁর ধৈর্য এবং নিঃস্বার্থ পরিশ্রম ছাড়া এই অভিযান সফল হত না,” বলেন তেনজিং নোরগে (Tenzing Norgay)। কাঞ্চার দায়িত্ব ছিল সরঞ্জাম ও খাদ্য সামগ্রী বহন করা, শিবির স্থাপন এবং দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এভাবে, তিনি সরাসরি শীর্ষে পৌঁছাতে না পারলেও অভিযানকে সাফল্যের মুখ দেখাতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন।

কাঞ্চা শেরপা পর্বতারোহণের জগতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত পর্বতারোহণ ও শেরপা হিসাবে কাজ করে আসেন। পরবর্তীতে স্ত্রীর অনুরোধে তিনি পেশাগত কাজ থেকে সরে এসে ট্রেকিং গ্রুপের পথপ্রদর্শক এবং পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। মাউন্ট এভারেস্টে তাঁর অভিজ্ঞতা এমনভাবে সমৃদ্ধ ছিল যে দক্ষিণ সামিট পর্যন্ত পৌঁছানো তাঁর জন্য একটি বড় অর্জন ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে কাঞ্চা শেরপা শান্তভাবে তাঁর শেষ দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা তাঁকে একটি নম্র, পরিশ্রমী ও উজ্জ্বল মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। “তিনি শুধু শেরপা নন, বরং আমাদের সমাজের জন্য একটি প্রেরণার উৎস। তার মতো ধৈর্যশীল ও সাহসী মানুষ বিরল,” বলছেন দার্জিলিংয়ের এক স্থানীয় বাসিন্দা।

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী দল ও পর্বতারোহণ সম্প্রদায় এই মুহূর্তে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কাঞ্চা শেরপা’র অবদান কখনও ভুলে যাওয়া যাবে না। ইতিহাসে হিলারি ও নোরগেদের নাম সবার মনে থাকলেও, সেই অভিযানকে সাফল্যের মুখ দেখাতে যাদের অবদান ছিল তাদের অন্যতম ছিলেন কাঞ্চা শেরপা। আজ তাঁর প্রয়াণ শুধুই একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং পর্বতারোহণ জগতের জন্য একটি বড় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর জীবনী ও অভিযানের কাহিনী পুনরায় আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্বতারোহণ সংস্থাগুলি তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রবন্ধ ও প্রকাশনা জারি করেছে।

কাঞ্চা শেরপা শুধু একজন পর্বতারোহী নন, তিনি প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে, ধৈর্য, নিষ্ঠা ও সাহস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। ১৯৫৩ সালের সেই ইতিহাস আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাসে যাদের নাম কম জানা, তাদের অবদান কখনও কম নয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Harmanpreet Kaur, Women’s World Cup 2025, England vs India Women | হরমনপ্রীতদের সামনে অ্যাসিড টেস্ট: ইংল্যান্ড ম্যাচেই সেমিফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ ভারতীয় মেয়েদের

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন