Maoist surrender, Naxalism, Narendra Modi | মাওবাদী সন্ত্রাসে ‘বড় জয়’, দাবি প্রধানমন্ত্রী মোদীর, ২৪ ঘণ্টায় ৩০৩ মাওবাদীর আত্মসমর্পণ, ‘এটাই নতুন ভারতের পরিবর্তনের প্রতীক’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, কলকাতা : দেশজুড়ে মাওবাদী (Maoist) দমন অভিযানে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শুক্রবার রাতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৫ (NDTV World Summit 2025) -এর বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৩ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠল দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক নতুন আত্মবিশ্বাস।প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘গত ৫০-৫৫ বছরে হাজার হাজার মানুষ মাওবাদী সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন। এই নকশালরা স্কুল, হাসপাতাল গড়তে দিত না। চিকিৎসকরা যাতে গ্রামে যেতে না পারেন, তার জন্য হামলা চালাত, প্রতিষ্ঠান উড়িয়ে দিত। মাওবাদী সন্ত্রাস যুবসমাজের প্রতি এক ভয়ঙ্কর অন্যায় ছিল। ভিতরে ক্ষোভ ছিল, আজ প্রথমবার সেই বেদনা আমি প্রকাশ করছি।’

সামিটে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া (Harini Amarasuriya), অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট (Tony Abbott) এবং ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক (Rishi Sunak)। আন্তর্জাতিক এই পরিসরে মোদী জানান, তাঁর সরকার ‘ভ্রান্ত পথে যাওয়া তরুণদের’ মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে, আর সেই প্রচেষ্টার বাস্তব ফল আজ দেশবাসীর সামনে। তিনি বলেন, ‘এরা সাধারণ অপরাধী নয়। এদের মাথার দাম ঘোষণা করা ছিল। আত্মসমর্পণের সময় বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এটি শুধু প্রশাসনিক সাফল্য নয়, এক নতুন ভারতের প্রতীক।’ উল্লেখ্য, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে মাওবাদী প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১২৫ থেকে কমে মাত্র ১১-তে নেমে এসেছে। মোদি বলেন, ‘আগে যখন খবর আসত, তা হত বিস্ফোরণ বা নিরাপত্তারক্ষীদের মৃত্যু নিয়ে। আজ বসতারের (Bastar) যুবকেরা ‘বসতার অলিম্পিকস’ আয়োজন করছে, দীপাবলি উদযাপন করছে। এটাই পরিবর্তনের আসল প্রতীক।’

ছত্তিশগড় (Chhattisgarh)-এ বৃহস্পতিবারই ১৭০ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রূপেশ ওরফে সত্যীশ কোফা (Rupesh alias Satish Kofa)। যদিও তিনি আত্মসমর্পণের পরে বলেন, ‘আমার লক্ষ্য জনগণের সংগ্রামের পথ পরিবর্তন করা, আত্মসমর্পণ নয়।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, তাঁর সরকারের ধারাবাহিক নীতি, আধুনিক গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কারণেই মাওবাদী সন্ত্রাস ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যে দিন দেশ সম্পূর্ণভাবে নকশালবাদ (Naxalism) থেকে মুক্ত হবে, সে দিন আর দূরে নয়। এটাই মোদির গ্যারান্টি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস আমলে এক ধরনের ‘আরবান নকশাল’ (Urban Naxal) ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছিল, যারা মাওবাদী হিংসার প্রকৃত চিত্র দেশের মানুষকে দেখতে দিত না। তাঁর ভাষায়, ‘যারা কংগ্রেস শাসনে সমৃদ্ধ হয়েছিল, যারা প্রতিষ্ঠানের দখল নিয়েছিল, তারা মাওবাদী সন্ত্রাসের উপর পর্দা টেনে রাখত।’

মোদী জানান, সম্প্রতি মাওবাদী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু মানুষ দিল্লিতে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। ‘কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ চোখ, কেউ হাত। তারা সাত দিন ধরে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন তাদের কথা শুনতে। কিন্তু কেউ শোনেননি। কংগ্রেস আমলে এই আলোচনা পুরোপুরি দমন করা হয়েছিল,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।বক্তৃতার শেষে আবেগঘন কণ্ঠে মোদি বলেন, ‘যে অঞ্চল এতদিন ভয় ও মৃত্যুতে জর্জরিত ছিল, সেখানে এবার দীপাবলি আলোর উৎসব হয়ে উঠবে। বহু মা প্রথমবার ২৫ বা ৫০ বছর পর আলোর উৎসব দেখবেন। তেরঙা (Tiranga) ওড়বে, আনন্দের প্রদীপ জ্বলবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে সরকার শুধু সামরিক অভিযান নয়, সমাজকেও বদলাতে চাইছে। তিনি জানান, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০৩ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ নিঃসন্দেহে এক বিশাল সাফল্য, তবে সতর্কতাও জরুরি। দিল্লি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. অরবিন্দ সিং বলেন, ‘শুধু অস্ত্র ফেলে দেওয়া নয়, মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাহলেই এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে।’

ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড (Jharkhand), ওডিশা (Odisha), বিহার (Bihar) ও মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) একাধিক জেলায় সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বহু তরুণ যারা আগে জঙ্গলে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, তারা এখন সরকারি প্রকল্পে যুক্ত হয়ে গ্রামে স্কুল ও সড়ক নির্মাণের কাজে অংশ নিচ্ছে। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য শুধু আত্মসমর্পণের খবর নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি গভীর প্রতিশ্রুতিও বহন করে। ‘নতুন ভারত’ -এর যে পরিবর্তনের বার্তা মোদী দিয়েছেন, তা সামাজিক ন্যায়, নিরাপত্তা এবং মানবিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু করছে।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Kisan Pension Yojana 2025 | কৃষকের বার্ধক্যে ভরসা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘PM Kisan Pension Yojana 2025’ আনছে বিপ্লব

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন