সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাজ্যের প্রত্যেক আশাকর্মী (ASHA Worker) ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর (Anganwadi Worker) অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করার ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তাদের কাজের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হন। তাই তাদের আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করার জন্য আমরা এই বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছি।” এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে করেন রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Panth)। তিনি বলেন, “এটি কেবল অর্থ নয়, এটি একটি স্বীকৃতি, যা তাদের প্রেরণা জোগাবে। প্রতিটি কর্মী যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন এবং তাদের কাজ আরও দক্ষভাবে করতে পারেন, সেই জন্যই এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে।” রাজ্যে বর্তমানে ১,০৫,০০০ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং ৭২,০০০ আশাকর্মী রয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, নারী ও শিশু বিকাশ দফতর, এবং সমাজ কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে এই অর্থ সরাসরি প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগে, সমাজসেবায়, পুলিশি দায়িত্বে বা সিভিল সার্ভিসে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদেরকেও পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong) এবং মিরি (Mirik) এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত হয়ে পুরস্কার প্রদান করেছেন।

মঞ্চ থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন:
* সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার অজিত রায় (Ajit Ray) এবং আরও ৭ জন
* রাজীব কুণ্ডু (Rajib Kundu), ফুলবাড়ি ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার
* বঙ্কিম মণ্ডল (Bankim Mondal), ফরেস্ট গার্ড, ফুলিয়া ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াড
* রাজু টোপ্পো (Raju Toppo), স্টেশন ম্যানেজার, WBSEDCL, নাগরাকাটা (West Bengal State Electricity Distribution Company Limited)
* চিকিৎসক মোল্লা ইরফান হাসান (Molla Irfan Hasan), ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, নাগরাকাটা
মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ আরও বলেন, “কোচবিহার (Cooch Behar), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar), মালদহ (Maldah) এবং মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায় নদী ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, রাজ্য সরকার সব ধরনের সাহায্য প্রদান করবে।” এই উদ্যোগের মাধ্যমে আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা কেবল আর্থিক সহায়তা পাবেন না, বরং তাদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা প্রদানও সহজ হবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, প্রত্যেক কর্মী যেন আরও বেশি মানুষের সাহায্য করতে পারেন এবং সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হন।
অঞ্চলভিত্তিক এই পুরস্কার বিতরণে সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনও কর্মী বাদ না যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা রাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থার নার্ভ সেন্টার। তাদের উন্নত করতে না পারলে আমাদের সার্বিক পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ থাকবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র কর্মীদের আর্থিক উৎসাহই নয়, বরং তাদের প্রফেশনাল উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের জন্যও একটি বড় ধাপ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প কার্যকর করতে স্থানীয় অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সামাজিক সেবা কর্মীদের স্বীকৃতি প্রদান করে প্রশংসিত হয়েছেন। এবার ১০ হাজার টাকার ইনসেনটিভ ঘোষণার মাধ্যমে আরও ব্যাপকভাবে সেই উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করা হল। এই পদক্ষেপের ফলে আশা করা হচ্ছে, রাজ্যের আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা আরও উৎসাহিত হবেন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নতুন উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : women safety in West Bengal, Mamata Banerjee statement controversy | দুর্গাপুর গণধর্ষণ-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, ‘রাতে মেয়েদের বেরনো উচিত নয়’ মন্তব্যে উঠছে প্রশ্ন




