সাশ্রয় নিউজ ● নিজস্ব সংবাদদাতা ● হায়দরাবাদ : ক্রিকেটের ব্যাটে বল না হলেও রাজনীতির মাঠে ‘নবজোয়ার’-এর ছক কষে মাঠে নামলেন মোহাম্মদ আসাদউদ্দিন (Mohammed Asaduddin)। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ও কংগ্রেস নেতা মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের (Mohammad Azharuddin) পুত্র এবার টেলেঙ্গানা রাজ্য কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। বাবার কৃতিত্বপূর্ণ দুই ইনিংস ক্রিকেট ও রাজনীতি যেন একসঙ্গে বহন করে চলেছেন ৩৫ বছরের আসাদ। একসময় রঞ্জি দলে সুযোগ পেলেও, আসাদউদ্দিন নিজের কেরিয়ারকে ব্যাট বলের গণ্ডির বাইরে দেখতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, “ক্রিকেট আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। তবে সব সময় জানতাম, আমি মানুষের জন্য কাজ করব।”
২০১৮-১৯ মরশুমে হায়দরাবাদের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে সুযোগ পেলেও কোভিড মহামারিতে তা ব্যাহত হয়। “আমার খেলোয়াড়জীবনের সেরা সময়টাই চলে যায় করোনার কারণে। কিন্তু আমি হতাশ হইনি। কারণ আমার মন বলত, সমাজের সেবা করাটাই হবে আমার আসল কাজ,” মন্তব্য আসাদের।
বাবার ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে জুবিলি হিলস (Jubilee Hills) আসনে পরাজয়ই আসাদকে চূড়ান্তভাবে রাজনীতিতে নিয়ে আসে বলে জানান তরুণ রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, “বাবার পাশে থেকে ভোট প্রচারে যুক্ত ছিলাম। তখনই রাজনীতির জগৎটা কাছ থেকে দেখা ও শেখা শুরু। যদিও ২০০৯ সাল থেকেই আমি ওঁর রাজনৈতিক পরিক্রমা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি।”
প্রসঙ্গত, দুই বছর যুব কংগ্রেসে ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে কাজ করার পর আসাদউদ্দিন এবার রাজ্য কংগ্রেসের মূল দলে বড় দায়িত্ব পেলেন। তিনি আরও বলেন, “আমি বরাবরই সামাজিক সেবার প্রতি অনুরাগী ছিলাম। সংখ্যালঘু, গরিব এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছি।” কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ককে আরও মজবুত করতে জুবিলি হিলসের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এই সিদ্ধান্ত, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুধু আসাদই নন, তাঁর সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেসে বড় পদে এলেন আরও ক’য়েকজন মুসলিম নেতা। নবাব মুজাহিদ আলম খান (Nawab Mujahed Alam Khan), আফসার ইউসুফ জাই (Afser Yousuf Zai), মোহাম্মদ আবদুল ফাহিম (Mohammed Abdul Faheem), রাহমত হুসেন (Rahmath Hussain) এবং মোহাম্মদ শব্বির আলি (Mohammed Shabir Ali) প্রমুখ।
রাজ্য কংগ্রেস মুখপাত্র সৈয়দ নিজামউদ্দিন (Syed Nizamuddin) বলেন, “সংখ্যালঘু অধিকারের রক্ষায় কংগ্রেসের ঐতিহ্য সুদীর্ঘ। এই নতুন নেতৃত্বের হাতে রয়েছে গ্রাসরুট স্তরে অভিজ্ঞতা এবং সমাজের প্রতি আন্তরিকতা। তাঁদের নিয়োগ কংগ্রেসের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।” মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “এটা আমার কাছে গর্বের ও আবেগঘন মুহূর্ত। আমার ছেলে মোহাম্মদ আসাদউদ্দিন আজ জনসেবার রাস্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। ওর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর সেবার মানসিকতাকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আশা করি, সে নিজের কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এবং সঠিক মূল্যবোধের পথেই এগোবে।” উল্লেখ্য যে, আসাদউদ্দিন বিয়ে করেছেন বিখ্যাত টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার (Sania Mirza) বোন আনাম মির্জাকে (Anam Mirza)। রাজনৈতিক ও ক্রীড়াজগৎ দুই জগতের সেতুবন্ধনেই নিজেকে তৈরি করছেন তেলেঙ্গানার এই তরুণ কংগ্রেস নেতা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Salman Khan : ‘ভাইজান’ থেকে বিনয়ী শিল্পী সলমন খানের মুখে তাঁর সাফল্য আর সংশয়ের গল্প




