সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কোচবিহার -এর শীতলকুচি থেকে কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে গেল ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ। সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee) তাঁর গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের শরণাপন্ন হলেন। বুধবার এই ঘটনায় হাই কোর্টে আবেদন জানালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya) তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন। আদালতের নির্দেশ, নির্ধারিত নিয়ম মেনে মামলা দাখিল হলে তা বিবেচনা করা হবে। ঘটনার সূত্রপাত শীতলকুচিতে, যেখানে সম্প্রতি সিপিএম কর্মী মন্টু মিয়ার (Montu Mia) অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের দাবি, এটি খুনের ঘটনা। যদিও প্রাথমিক ভাবে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অনীহা দেখায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে মৃত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁর সফর ঘিরেই তৈরি হয় উত্তেজনা।
অভিযোগ, শীতলকুচির একটি বাজার এলাকায় পৌঁছনোর পর মিনাক্ষীর গাড়িকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মিনাক্ষী নিজেও সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ‘গাড়ি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ভাবে ডিম ছোড়া হয়েছে। প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ছিল।’ পরে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে মিনাক্ষীর পক্ষ থেকে আইনজীবী অভিষেক হালদার (Abhishek Haldar) হাই কোর্টে আবেদন জানান। আদালতে তিনি বলেন, ‘একজন বিরোধী নেত্রীকে প্রকাশ্যে এ ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। এর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।’ তাঁর সওয়ালের ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়েরের অনুমতি দেন এবং জানান, ‘নিয়ম মেনে আবেদন জমা পড়লে মামলার শুনানি হবে।’
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সিপিএমের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, এই হামলার পিছনে বিজেপি (BJP) -এর হাত রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘ঘটনার সময় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল।’ যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই ঘটনা রাজনৈতিক ভাবে রং চড়ানো হচ্ছে। শুধু মন্টু মিয়ার মৃত্যুই নয়, শীতলকুচিতে আর একটি ঘটনাও সামনে আসে। মুম্বই (Mumbai)-এ কাজ করতে গিয়ে ওই এলাকার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। অভিযোগ, তাঁর দেহ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখেই মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা কোচবিহারের জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। তার আগে এই ডিম নিক্ষেপের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। উল্লেখ্য, ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে এর আগেও হাই কোর্টে আবেদন জমা পড়েছিল। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) একই ধরনের ঘটনার পর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি দ্রুত শুনানির আবেদনও করেছিলেন। তবে আদালত সেই আর্জি গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই ধরনের বহু মামলা জমা পড়ছে এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই সেগুলির শুনানি হবে।
এই প্রেক্ষাপটে মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মামলা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধী নেত্রীদের নিরাপত্তা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা, এই সমস্ত প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন নিয়ম মেনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তার পরই শুরু হবে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ। ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনসমক্ষে এই ধরনের আচরণ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপে বিষয়টি এখন আদালতের নজরে এসেছে। আগামী দিনে এই মামলার শুনানিতে কী পর্যবেক্ষণ উঠে আসে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে। শীতলকুচির এই ঘটনা যে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Minakshi Mukherjee attack, Sitalkuchi egg attack | শীতলকুচিতে মিনাক্ষীর গাড়িতে ডিম হামলা, বিজেপিকে দায়ী করল সিপিএম



