ISKCON mid day meal, High Court case self help groups | ইসকনকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব? বিতর্কের মাঝেই হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হোক, তারপরই শুনানি’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা শহরের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস বা ইসকন (International Society for Krishna Consciousness বা ISKCON)-কে যুক্ত করার সম্ভাবনা ঘিরে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এই প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে নারাজ কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘সরকারি কোনও বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সামনে না এলে আদালত এখনই হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’ ফলে আপাতত বিষয়টি অপেক্ষার পর্যায়ে থাকছে। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী (Tapobrata Chakraborty) ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় (Parthasarathi Chattopadhyay) -এর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মামলাটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Shirshanya Bandyopadhyay)। শুনানিতে আদালত জানায়, কেবলমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ভিত্তিতে বিচারিক হস্তক্ষেপ সম্ভব নয়। তবে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে, এই ঘোষণা এখনও কার্যকর হয়নি।

আরও পড়ুন : PM Modi Indonesia, Modi crowd Jakarta | ইন্দোনেশিয়ায় মোদী ম্যাজিক! রাস্তায় জনতার ঢল, ফাইটার জেটের এসকর্টে বিদায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের শক্ত উপস্থিতি

এই বিতর্কের সূত্রপাত চলতি অর্থবর্ষের বাজেট অধিবেশনে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) কলকাতার পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এটিকে ‘পাইলট প্রোজেক্ট’ হিসেবে শুরু করার কথা বলা হয়। পরে রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন (Deepak Barman) ইঙ্গিত দেন, কলকাতায় এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় একই মডেল চালু হতে পারে। এই ঘোষণার পর থেকেই একাধিক প্রশ্ন সামনে আসে। বিশেষ করে, মিড-ডে মিলের মেনুতে পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ইসকনের মতো ধর্মীয় সংস্থা যুক্ত হলে পড়ুয়াদের পাতে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়। শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে, এই মামলায় আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ। এত দিন রাজ্যের বহু স্কুলে মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। তাঁদের কর্মসংস্থান এই প্রকল্পের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Bandyopadhyay) জানান, ‘এই দায়িত্ব যদি ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তা হলে হাজার হাজার মহিলার জীবিকা বিপন্ন হতে পারে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও, ‘এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় স্তরে রান্না এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।’ শুধু তাই নয়, টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আদালতে জানানো হয়, কোনও সংস্থাকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে টেন্ডার ডাকা জরুরি। সেই প্রক্রিয়া ছাড়াই কী ভাবে একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

পাল্টা সওয়ালে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র (Surjit Nath Mitra) আদালতে জানান, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। তাঁর কথায়, ‘সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব এসেছে মাত্র। এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, কার্যকর হওয়ার আগেই অনুমানের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত জানায়, যদি ভবিষ্যতে সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ও সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে মামলাকারীরা পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। আপাতত এই মামলার শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে।

এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহল ও শিক্ষা ক্ষেত্র, উভয় জায়গাতেই আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। একদিকে সরকার নতুন মডেল চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে, গ্রামীণ ও শহরতলির বহু পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে মিড-ডে মিল প্রকল্পের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। এদিকে অভিভাবকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বড় সংস্থা যুক্ত হলে পরিকাঠামো উন্নত হতে পারে। আবার অনেকে স্থানীয় ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করছেন। ফলে বিষয়টি এখন কেবল প্রশাসনিক নয়, সামাজিক আলোচনারও কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কলকাতা হাই কোর্টের এই অবস্থান আপাতত পরিস্থিতিকে স্থির রেখেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তির উপরই এখন নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। সেই বিজ্ঞপ্তি সামনে এলে আইনি লড়াই নতুন মোড় নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar eclipse India date, longest solar eclipse 2027 | আগস্টে পরপর দুই গ্রহণ, সামনে ২০২৭-এর দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ, ভারতের জন্য কবে দেখা যাবে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন