Delhi collapse, Pune building collapse | টানা বর্ষণে দেশজুড়ে বিপর্যয়! দিল্লিতে নির্মীয়মাণ বাড়ি ধস, পুণেতে পুর ভবনে আটকে বহু কর্মী, আরও বৃষ্টির সতর্কতা জারি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি / পুণে: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবিরাম বর্ষণের জেরে একের পর এক দুর্ঘটনা সামনে আসছে। উত্তর ভারত থেকে পশ্চিম এবং দক্ষিণ সব জায়গাতেই বৃষ্টির দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দিল্লির (Delhi) রোহিণী (Rohini) এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা যেমন উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তেমনই মহারাষ্ট্র (Maharashtra) -এর পুণেতে (Pune) পুরসভার ভবন ধসে আটকে পড়ার ঘটনাও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। মৌসম ভবন (India Meteorological Department বা IMD) জানিয়েছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে জুন মাসের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়েছে। দিল্লির রোহিণীতে বুধবার দুপুরে একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ভবন আচমকা ধসে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা খবর, ওই সময় সেখানে কয়েক জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ভগ্নস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত সাত জন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দল। এখনও পর্যন্ত দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ জোর কদমে চলছে।

আরও পড়ুন : 

এই ঘটনার পর দিল্লি জুড়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। মৌসম ভবন আগেই জানিয়েছিল, ‘দিল্লির বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’ এর পাশাপাশি গুরুগ্রামে (Gurugram) ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টির ফলে দিল্লি-জয়পুর জাতীয় সড়ক (NH-48)-এর একাধিক জায়গায় জল জমে গিয়েছে। ফলে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, ‘অপ্রয়োজনে ওই রাস্তা ব্যবহার না করাই ভাল।’ গুরুগ্রাম শহরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। একাধিক এলাকায় জল জমে থাকার কারণে অফিসগামীদের ভোগান্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গুরুগ্রাম পুলিশ কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে অনুরোধ জানিয়েছে, কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সুযোগ দেওয়ার জন্য। শহরের বহু রাস্তায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন জীবন কার্যত বিপর্যস্ত!

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রেও বৃষ্টির দাপট কমেনি। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বিশেষ করে পালঘর (Palghar) জেলায় ১ জুলাই থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাছ ভেঙে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে ১১ বছরের এক স্কুলছাত্র। বুধবার দুপুরে পুণের পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় (Pimpri Chinchwad) এলাকায় একটি তিনতলা প্রশাসনিক ভবন আচমকা ধসে পড়ে। এই ভবনটি পুরসভার আবর্জনা নিষ্কাশন দফতরের কাজে ব্যবহৃত হত। ধস নামার সময় সেখানে বহু কর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অন্তত ১৯ জন ভগ্নস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force বা NDRF) এবং স্থানীয় প্রশাসন। জোরকদমে চলছে উদ্ধার অভিযান।

কেরল (Kerala)-এর ওয়েনাড় (Wayanad)-এও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে ভূমিধসের ঘটনায় এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। তিন জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে ন’জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। জানা গিয়েছে, মলপ্পুরম (Malappuram) এবং ওয়েনাড় জেলার সংযোগস্থলে একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ চলছিল। কাল্লাদি (Kalladi) এলাকায় মীনাক্ষী সেতুর কাছে আচমকা ধস নামে। সেই সময় সেখানে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন, ফলে অনেকে আটকে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আরও সতর্কতা জারি করা হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত এড়াতে বলা হয়েছে। নির্মীয়মাণ ভবন বা পুরনো কাঠামোর কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

দেশজুড়ে এই ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত একদিকে যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে জলাভাবের সমস্যায়, অন্যদিকে তেমনই তৈরি করেছে একাধিক বিপদের আশঙ্কা। দিল্লি থেকে পুণে, ওয়েনাড়, প্রতিটি জায়গায় প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mobility City India, Kolkata transport | দেশে ১০১ মোবিলিটি সিটি প্রকল্প, তালিকায় কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের ৫ শহর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন