সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারিতে বড়সড় মোড়। এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন তারকা সাংসদ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) হাজির হলেন দিল্লির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) -এর সদর দপ্তরে। সোমবার সকাল সাড়ে দশটার কিছু আগে সাদা ওভারসাইজ শার্ট ও জিনস পরে ইডির দপ্তরে তিনি প্রবেশ করেন। হাতে ছিল বেশ কয়েকটি নথিপত্র, মুখে ছিল স্বাভাবিক হাসি। রাজনৈতিক মহল থেকে বিনোদন জগৎ সব ক্ষেত্রেই তাঁর এই হাজিরা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, রবিবার রাতে মিমিকে (Mimi Chakraborty) ইডি নোটিস পাঠায়। পরদিনই হাজির হয়ে তিনি দেখালেন যে আইনের প্রতি তাঁর পূর্ণ সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে। তবে এই তলবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এক্স (X)-এ লিখেছেন, “আইন আইনের পথে চলবে। আমরা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখি।” উল্লেখ্য যে, একটি বেটিং অ্যাপ মামলা গত বছর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অবৈধভাবে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম চালানো ও সেগুলির প্রচারের অভিযোগে একাধিক বলিউড ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির তারকা ইতিমধ্যেই তদন্তের মুখে পড়েছেন। সূত্রের খবর, অভিনেত্রী মিমি ছাড়াও আরও একজন অভিনেতা এই মামলায় ইডির নজরে রয়েছেন। খুব শিগগিরিই তাঁকেও হাজিরা দিতে হতে পারে।
ইডি সূত্রে খবর, নিষিদ্ধ বেটিং অ্যাপগুলির প্রচারের জন্য বেশ কিছু তারকা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা (Vijay Deverakonda), রানা ডাগ্গুবতী (Rana Daggubati), প্রকাশ রাজ (Prakash Raj) সহ একাধিক দক্ষিণী তারকার নাম জড়িয়ে পড়েছে। কেবল অভিনেতারাই নন, ক্রিকেট জগতের সুরেশ রায়না (Suresh Raina), হরভজন সিং (Harbhajan Singh) ও অভিনেত্রী উর্বশী রাওতেলা (Urvashi Rautela) -কেও ডেকে পাঠানো হয়েছিল। গত জুন মাসেই এই তারকাদের বয়ান রেকর্ড করে ইডি।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি, এই অবৈধ বেটিং অ্যাপগুলির প্রচারের ফলে অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। তাই প্রচারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “যদি প্রমাণিত হয় যে তারকারা অর্থের বিনিময়ে জেনে শুনেই অবৈধ অ্যাপ প্রচার করেছেন, তাহলে তাঁদের আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।”
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে যদিও এই মামলায় মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) -এর নাম জড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘টার্গেটেড অ্যাকশন’ বলে উল্লেখ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলার তারকা রাজনীতিকদের একে একে চাপে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছে, আইন সবার জন্য সমান, তারকা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে প্রভাব ফেলবে না।
মিমির এই হাজিরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তারকাদেরও আইন মানতে হবে। আবার অনেকে এটিকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল বলছেন। তবে আপাতত নজর থাকছে ইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিমির বয়ানে কী উঠে আসে এবং তদন্তের গতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে।প্রসঙ্গত, এই মামলায় কেবল বিনোদন দুনিয়ার তারকারাই নয়, দেশের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বও জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে ইঙ্গিত, তদন্ত যত এগোবে ততই আরও নাম সামনে আসতে পারে। ফলে বেটিং অ্যাপ কাণ্ড আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mimi Chakraborty Urvashi Rautela latest news | মিমি চক্রবর্তী ও উর্বশী রাউতেলাকে ED -এর তলব, আলোড়ন টলিউড-বলিউডে




