সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দুর্নীতির মামলায় নতুন মোড়। অবৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপ ‘১এক্সবেট (1xBet)’ -এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এবার সরাসরি তলব পড়ল দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) ও উর্বশী রাউতেলার (Urvashi Rautela) নামে। ঠিক উৎসবের মরশুমে, যখন মিমি ব্যস্ত তাঁর পুজোর ছবি নিয়ে, তখনই ইডি-র (ED) এই পদক্ষেপ টলিউড-বলিউড জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, টলিউড তারকা তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে ১৫ সেপ্টেম্বর ও বলিউডের গ্ল্যামার গার্ল উর্বশী রাউতেলাকে ১৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইডি -এর সদর দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ। দু’জনকেই সময় মতো ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, অবৈধ বেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘১এক্সবেট’ -এর প্রচার ও ব্র্যান্ডিংয়ের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগে থেকেই একাধিক তারকা, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তলব করা হয়েছে। এবার সরাসরি নাম জড়াল দুই তারকা অভিনেত্রীর। ইডি সূত্রে আরও খবর, ‘অ্যাপটির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যেসব সেলিব্রিটি এর বিজ্ঞাপন বা প্রচারে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের আয়, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং চুক্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিমি চক্রবর্তী এবং উর্বশী রাউতেলার আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁদের হাজিরা অপরিহার্য।’
তদন্তকারীদের সূত্রে আরও খবর, ‘১এক্সবেট’-এর কার্যকলাপ শুধুমাত্র অনলাইন বেটিং পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল জটিল মানি লন্ডারিং চক্র। প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল, আর তার আড়ালে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা। এই কারণেই যাঁরা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। উল্লেখ্য, এমন খবরে টলিউড ও বলিউডে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মিমি চক্রবর্তী এর আগেও নানা কারণে শিরোনামে উঠে এসেছেন, কখনও রাজনৈতিক পরিচিতি, কখনও সিনেমা জগতের সাফল্যের জন্য। অন্যদিকে, উর্বশী রাউতেলা দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডে নিজের গ্ল্যামার ও নাচের দক্ষতার কারণে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁদের হঠাৎ করে ইডি-র নজরে আসা নিঃসন্দেহে বড় খবর।
এক তদন্তকারী আধিকারিকের কথায়, ‘এখনও পর্যন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কিন্তু যেহেতু এই দুই অভিনেত্রীর নাম সরাসরি ওই অ্যাপের প্রচারে যুক্ত হয়েছে, তাই তাঁদের বক্তব্য নেওয়া খুবই জরুরি।’ অন্যদিকে, শিল্পী মহলের অনেকে মনে করছেন, বড় বড় তারকারা প্রায়ই বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন, কিন্তু সব সময়ই তাঁরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার আইনি বৈধতা সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য পান না। তাই শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া মানেই অপরাধমূলক যোগসাজশ নয়। তবে আইনের স্বার্থে তাঁদের হাজিরা দেওয়া ও জবাব দেওয়া প্রয়োজন।
ইডি সূত্রে খবর, মিমি এবং উর্বশীর পাশাপাশি আরও কয়েকজন অভিনেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম শীঘ্রই তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এই মামলার বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা। তবে এই তলব মিমি চক্রবর্তীর আসন্ন সিনেমার প্রচারে প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনই স্পষ্ট নয়। পুজোকে কেন্দ্র করে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো সব সময়ই বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাই তাঁর পক্ষে এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। অন্যদিকে, উর্বশী রাউতেলা বলিউডের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করছেন। তাঁর ক্ষেত্রেও এই তদন্তের প্রভাব পড়তে পারে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তলব মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। ইডি সাধারণত যেসব তারকাকে ডাকে, তাঁদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও অর্থনৈতিক দিক যাচাই করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই এই মুহূর্তে ফলাফল নিয়ে অনুমান করার কোনও সুযোগ নেই। উল্লেখ্য যে, অবৈধ বেটিং অ্যাপকে কেন্দ্র করে যে তদন্ত চলছিল, তা এখন আরও বড় আকার নিতে চলেছে। দুই তারকার নাম উঠে আসায় মানুষের আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী দিনে মিমি চক্রবর্তী ও উর্বশী রাউতেলা ইডি-র জিজ্ঞাসাবাদে কী বলেন, সেটাই নজর কেড়ে নেবে সবার।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : GST 2.0, PM Modi Double Dose, GST Reforms 2025 | জিএসটি সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি: ‘ভারতের উন্নয়নে ডাবল ডোজ’



