সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নির্বাচনী আবহে রাজনীতির মঞ্চে আবারও তীব্র কটূক্তির ঝড় উঠেছে। বিহারের ভোটপ্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও তাঁর প্রয়াত মা হীরাবেনকে (Heeraben Modi) কেন্দ্র করে বিরোধীদের কটাক্ষ ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটেই অসমের দারাংয়ে এক সমাবেশে দাঁড়িয়ে মোদি জানালেন, তিনি ভগবান শিবের (Lord Shiva) ভক্ত, তাই গালিগালাজকে তিনি গরলের মতো গিলে নেবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কংগ্রেসের আক্রমণের ধরন আমি জানি। আমাকে লক্ষ্য করে বলবে, মোদী আবার কাঁদছে। কিন্তু জনগণই আমার ঈশ্বর, আমার দেবতা, আমার প্রভু। তাঁরাই আমার ‘রিমোট কন্ট্রোল’। আমি যদি তাদের সামনে যন্ত্রণা ভাগ না করি, তবে কোথায় করব?’
বিহারের ভোট প্রচার ঘিরে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক তাপমাত্রা চরমে। সম্প্রতি কংগ্রেসের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, সেই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মা-কে কটাক্ষ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোদি বিরোধীদের উদ্দেশে তীব্র আক্রমণ শানান। ‘রিমোট কন্ট্রোল’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে (Manmohan Singh) নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রাক্তন ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। সেই সূত্র ধরেই এবার তাঁর বক্তব্যে আবারও উঠে এল ‘রিমোট কন্ট্রোল’ প্রসঙ্গ। মোদির দাবি, আজ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) পর্যন্ত গান্ধী পরিবারের রিমোটে চলে। কিন্তু তাঁর নিজের ক্ষেত্রে একমাত্র রিমোট কন্ট্রোল হল দেশের জনগণ। অসমের প্রেক্ষাপট টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়াত কিংবদন্তী ভূপেন হাজারিকাকে (Bhupen Hazarika) ভারতরত্ন দেওয়ার পর কংগ্রেসের নেতাদের মন্তব্য অসমবাসীকে আঘাত করেছিল। মোদির কথায়, “যেদিন ভূপেন হাজারিকাজিকে (Bhupen Hazarika) ভারতরত্ন দেওয়া হয়েছিল, সেদিন কংগ্রেস সভাপতি বলেছিলেন মোদী গায়ক-নৃত্যশিল্পীদের এই পুরস্কার দিচ্ছেন। এটাই ওদের মানসিকতা।’ যদিও পরে খাড়গে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, হাজারিকা ছিলেন ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান শিল্পী, যিনি অসমের সংস্কৃতি ও শিল্পকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন।
https://x.com/ANI/status/1967118417477201940
প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রয়াত প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু (Jawaharlal Nehru) -এর নামও টেনে আনেন। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মোদি বলেন, “নেহেরু বলেছিলেন উত্তর-পূর্বের মানুষের ক্ষত এখনও সারেনি। অথচ কংগ্রেসের বর্তমান প্রজন্ম সেই ক্ষতেই নুন ছিটিয়ে চলেছে।” উল্লেখ্য, অসমে পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিজেপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, “কংগ্রেস শাসনকালে ৬০ বছরের বেশি সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মাত্র তিনটি সেতু তৈরি হয়েছিল। অথচ আমরা এক দশকে ছ’টি নতুন সেতু গড়ে তুলেছি। আপনারা দেখছেন কারা কাজ করছে আর কারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”
সন্ত্রাস দমনে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “কংগ্রেস শাসনকালে সন্ত্রাসবাদের সময় তারা নীরব থেকেছে। আজ আমাদের বাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে গিয়ে অপারেশন সিদুঁরের মতো সাফল্য এনেছে। কিন্তু কংগ্রেস পাকিস্তানের সুরেই কথা বলে। ওদের এজেন্ডা পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে যায়।” অভিবাসন প্রসঙ্গেও মোদির কড়া আক্রমণ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস সবসময় অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষক। তিনি বলেন, “তাদের একমাত্র লক্ষ্য ভোট ব্যাঙ্ক। কংগ্রেস কখনও দেশ নিয়ে ভাবে না। তারা চাইছে অনুপ্রবেশকারীরা স্থায়ীভাবে ভারতে বসতি পাক এবং দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করুক। কিন্তু আমরা এই দেশকে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বোঝা গেল, বিরোধীদের কটূক্তি তিনি ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক যুদ্ধে নিজের শক্তিতে রূপান্তর করতে চাইছেন। ভগবান শিবের ভক্ত হিসেবে ‘গরল গিলে ফেলা’র বার্তা দিয়ে তিনি সমর্থকদের কাছে একধরনের আধ্যাত্মিক ও আবেগঘন আবেদন রাখলেন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Japan Visit | মোদীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত



