কৌশিক রায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা সফর শেষ করার আগে অনন্য বার্তা রেখে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সোমবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিদায় নেওয়ার সময় রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু -এর (Sujit Bose) মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) তিনি ‘নমস্কার’ জানাতে বলেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে এ এক ভিন্ন ধরনের বার্তা, যা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় আসেন ‘যৌথ সেনাপতি সম্মেলন ২০২৫’ (Combined Commanders’ Conference 2025) উদ্বোধন করতে। সেনার পূর্ব কম্যান্ডের সদর দফতর বিজয় দুর্গে (Vijay Durg, পূর্বতন ফোর্ট উইলিয়াম) আয়োজিত এই সম্মেলন দেশের সামরিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। প্রতি দু’বছর অন্তর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর সেই দায়িত্ব পড়েছিল কলকাতার ওপর। রবিবার বিমানবন্দরে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তবে এবার মোদী স্পষ্ট বার্তা দেন, এই সফর একেবারেই সরকারি, তাই রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপি শিবির থেকেও জানানো হয়েছে, রাজভবন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে, তাই সেখানকার সফরে রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।
এই সফর নিয়ে বিজেপিও অতীতের মতো জাঁকজমক দেখায়নি। কাটআউট, পতাকা বা বিশাল জনসমাগমের আয়োজন এড়িয়ে যাওয়া হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কর্মসূচি নিয়েই সব মনোযোগ ছিল। যদিও রবিবার বিমানবন্দরে বিজেপি সমর্থকরা জাতীয় পতাকা হাতে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। মোদী গাড়ি থেকে নেমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও তিনি নিজে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেন, তবে সেখানে রাজনৈতিক কোনও বার্তা দেননি।
সোমবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী রাজভবন থেকে বিজয় দুর্গে পৌঁছে উদ্বোধন করেন সম্মেলনের। বেলা ১টা পর্যন্ত সেখানে কাটিয়ে তিনি হেলিকপ্টারে করে রওনা দেন বিমানবন্দরের অভিমুখে। দুপুর দু’টোর আগেই বিমানে চেপে তিনি পাটনা হয়ে পরবর্তী কর্মসূচির দিকে রওনা হন। সোমবার বিমান বন্দরে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব, বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রতিনিধি এবং মন্ত্রী সুজিত বসু উপস্থিত ছিলেন। দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘নমস্কার’ জানানোর পাশাপাশি সুজিতকে বলেন, ‘‘দিদিকে আমার নমস্কার জানাবেন।’’ এই একটি বাক্যই রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। রাজনৈতিক কূটনীতিকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য শুধু সৌজন্য নয়, তা রাজনীতির ভাষায় একটি কৌশলী বার্তাও বটে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর বঙ্গ সফরের শেষ লগ্নে বিতর্কও তৈরি হয়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের গাড়ি পুলিশ ভিভিআইপি গেট পর্যন্ত ঢুকতে দেয়নি। কিছুটা দূরে ব্যারিকেডে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। পরে তিনি হেঁটে ভিতরে ঢোকেন। কিন্তু রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর গাড়ি অনায়াসে ঢুকে যায়। এই ঘটনাকে ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুকান্ত। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ডিসি ম্যাডাম নাকি আমার গাড়ি ঢুকতে বারণ করেছেন। আমি এই বিষয়ে স্বাধিকারভঙ্গের অভিযোগ জানাচ্ছি।’’ এরপর তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে (Om Birla) লিখিতভাবে অভিযোগ জানান বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যেভাবে উত্তপ্ত থাকে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর ছিল একেবারেই ভিন্ন সুরের। রাজনৈতিক শোডাউন বা সরাসরি আক্রমণ ছাড়াই তিনি সফর শেষ করলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর ‘নমস্কার’ বার্তা অনেকটাই প্রতীকী। এটি সৌজন্য না রাজনৈতিক ইঙ্গিত তা নিয়ে আগামী দিনে জোর জল্পনা চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi in Kolkata Kolkata, Vijay Durg Conference | বিজয় দুর্গে ঐতিহাসিক যৌথ সেনাপতি সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




