সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সোশ্যাল মিডিয়া আবারও বিস্ময়ের সাক্ষী। এবার আলোচনার কেন্দ্রে আফ্রিকার এক ব্যক্তি, যার রয়েছে ছয় স্ত্রী এবং আশ্চর্যের বিষয়, সকলেই একসঙ্গে গর্ভবতী। ভিডিও সামনে আসতেই নেটদুনিয়ায় দেখা গেছে বিস্ময়, কৌতূহল ও বিতর্কের বিস্ফোরণ। অনেকেই তাঁকে তুলনা করেছেন কেনিয়ার ‘বহুবিবাহের রাজা’ আকুকু ডেঞ্জার (Akuku Danger)-এর সঙ্গে, যিনি আফ্রিকার বহুবিবাহ প্রথার এক আলোচিত নাম।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছ’জন স্ত্রীই দৃশ্যত অন্তঃসত্ত্বা। প্রত্যেকে প্রায় ৫-৭ মাসের গর্ভবতী বলে মনে হচ্ছে। ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই দর্শকদের মনে উঠে এসেছে একটাই প্রশ্ন— “কীভাবে সম্ভব হল?” আর সেই প্রশ্ন থেকেই জ্বলে উঠেছে অগণিত বিতর্ক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। গর্ভাবস্থার সময়চক্রে মাত্র কয়েক সপ্তাহের পার্থক্য রয়েছে। প্রথম স্ত্রী ৭ মাসের, দ্বিতীয় ৬.৫ মাস, তৃতীয় ৬ মাস, চতুর্থ ৫.৫ মাস, এবং পঞ্চম-ষষ্ঠ স্ত্রী দু’জনেই ৫ মাসের গর্ভবতী। অর্থাৎ, পরিবারের প্রতিটি স্ত্রীর মাতৃত্বের যাত্রা প্রায় পাশাপাশি চলছে।
স্বামীটি বসবাস করেন আফ্রিকার একটি প্রত্যন্ত জঙ্গলের মধ্যে, যেখানে দৈনন্দিন জীবনযাপনই অত্যন্ত কঠিন। তার উপর রয়েছে ছয়জন গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব। প্রত্যেকেরই মাঝেমধ্যে ভোরবেলা বমিভাব, দুর্বলতা কিংবা নানা ধরনের খাবারের অদ্ভুত ইচ্ছা দেখা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশাল দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। প্রতিবেশীদের মতে, তাঁদের বাড়ি যেন এখন একটি ব্যক্তিগত মেটার্নিটি ওয়ার্ড। যেখানে আগামী কয়েক মাসে ছয়টি নবজাতকের আগমনের প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘটনাটি ভাইরাল হতেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে বহুবিবাহ, পরিবারগত সম্পর্ক, শারীরিক সক্ষমতা এবং সমাজব্যবস্থা নিয়ে নানান আলোচনা। অনেকেই অবাক হয়েছেন, কীভাবে একটি পরিবারে ছয়জন স্ত্রী একসঙ্গে গর্ভবতী হতে পারেন, এবং কীভাবে এই পরিবার এমন পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। অনেকে আবার মন্তব্য করেছেন, প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই এমন ‘সিঙ্ক্রোনাইজড’ গর্ভধারণ সত্যিই একধরনের জৈবিক দক্ষতার উদাহরণ।
এই প্রসঙ্গ উঠতেই অনেকে মনে করেছেন কেনিয়ার কিংবদন্তী বহুবিবাহবাদী অ্যানসেন্টাস আকুকু ডেঞ্জার (Ancentas Akuku Danger) -এর কথা। ১৯৩৯ সালে প্রথম স্ত্রীকে বিয়ে করার পর থেকেই তাঁর বহুবিবাহ শুরু। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি তুলে নিয়েছিলেন ‘ডেঞ্জার’ নামটি। কারণ তাঁর প্রতি নারীদের আকর্ষণ ছিল অবিশ্বাস্য। বহু স্ত্রী, অসংখ্য সন্তান, তাঁর জীবন আফ্রিকার লোককাহিনির অংশ হয়ে উঠেছিল। শুধু আফ্রিকাই নয়, ভারতেও রয়েছে এই ধরনের বিস্ময়কর উদাহরণ। সবচেয়ে আলোচিত নাম জিওনা চানা (Ziona Chana) মিজোরামের সেই ব্যক্তি যাঁর পরিবারকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবার বলে মনে করা হয়। ২০২১ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁর ছিল ৩৯ জন স্ত্রী, ৯৪ জন সন্তান এবং ৩৩ জন নাতি-নাতনি। তাঁর বিশাল পরিবার ছিল এক বিশাল অধ্যায় যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নিয়মিত আলোচিত হয়েছে।
বর্তমানের ভাইরাল ঘটনাটি তাই বহু পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে, বহুবিবাহের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানসিক প্রভাব কতখানি? নারীস্বাধীনতা, পারিবারিক ভারসাম্য, সন্তানের ভবিষ্যৎ, এমন অনেক প্রশ্নও ঘুরছে আলোচনার কেন্দ্রে। যদিও আফ্রিকার বহু গ্রামীণ অঞ্চলে বহুবিবাহ এখনও সামাজিকভাবে স্বীকৃত, তবুও আধুনিক সময়ের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে আপাতত নেটদুনিয়ার কৌতূহলের কেন্দ্রে রয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি, এবং সেই রহস্য যে, কীভাবে একজন ব্যক্তি একই সময়ে ছয় স্ত্রীকে গর্ভবতী করতে সক্ষম হলেন। যতদিন না ওই ব্যক্তি বা পরিবার প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন, ততদিন এই কৌতূহল আরও বাড়বে বলেই মনে করছে নেটাগরিকরা।
ছবি : প্রতীকী




