সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজনীতির মানচিত্রে আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সিঙ্গুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর (Narendra Modi) কর্মসূচীর রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঐতিহাসিক ভূমিতে প্রশাসনিক সভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে প্রশাসনিক সভার মাধ্যমে একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেওয়া হবে, তেমনই সেই মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে রাজনৈতিক বার্তাও দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য প্রশাসনের অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই প্রশাসনিক সভায় ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে আরও প্রায় ১৬ লক্ষ পরিবারকে পাকা বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির অর্থ তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিষেবা প্রদানই সভার মূল উদ্দেশ্য হলেও, রাজনৈতিক তাৎপর্য যে উপেক্ষণীয় নয়, তা মানছেন শাসকদলের নেতারাও।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সিঙ্গুরে জোড়া কর্মসূচীর ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। প্রথমে প্রশাসনিক সভা এবং পরে জনসভা থেকে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন তিনি। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ও শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ আসবে’। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতেই সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভাকে ব্যবহার করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। দলের একাধিক শীর্ষনেতার মতে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে কেন্দ্রের সমালোচনার জবাব দিতে পারেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (Bengal Global Business Summit) -এর পর রাজ্যে যে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, তার তথ্য তুলে ধরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হুগলি জেলা তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সভা শেষ হওয়ার পরপরই দলীয় স্তরে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচী নিয়ে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়, ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে প্রশাসনিক সভার সময় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুযায়ী প্রশাসনিক স্তরের পাশাপাশি দলীয় স্তরেও জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যেখানে সভা করেছিলেন, সেই একই জায়গাতেই মুখ্যমন্ত্রীর সভামঞ্চ তৈরি করা হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিঙ্গুর তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একদা জমি আন্দোলনের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত সিঙ্গুর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শিল্পায়নের ভিন্ন মডেলের কথা বারবার তুলে ধরেছেন। বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই এই জায়গার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে। তাই সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকে নজর রাখছে রাজ্য রাজনীতি।
প্রধানমন্ত্রীর সভায় নতুন কোনও শিল্প বা বিনিয়োগ নিয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায়, সেখানে উপস্থিত বহু মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী যদি শিল্প, কর্মসংস্থান বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা করেন, তা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, বঞ্চনার অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা, এই সব বিষয়ও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রের ইঙ্গিত।অন্য দিকে, প্রশাসনিক সভা হওয়ায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে নতুন উপভোক্তাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া হলে, তা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বলে মনে করছেন অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই দাবি করে আসছেন, রাজ্য সরকার মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ করছে এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য থেমে নেই। উল্লেখ যে, মোদীর সফরের পর সিঙ্গুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভা হয়ে উঠতে চলেছে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। পরিষেবার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা, এই দুইয়ের মেলবন্ধনই ২৮ জানুয়ারির সভাকে বিশেষ করে তুলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Gyanesh Kumar letter, Mamata Banerjee SIR allegation | এসআইআর বিতর্কে চিঠি-রাজনীতি তুঙ্গে, মমতার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেই জ্ঞানেশ কুমারকে পাল্টা চিঠি শুভেন্দুর




