Mamata Banerjee, Mirik landslide | উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ভূমিধস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হোটেল ভাড়ার নিশ্চয়তা দিলেন

SHARE:

মিরিক ধস

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বর্ষা ও ভূমিধসের প্রভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। মিরিক (Mirik) ও তার আশেপাশের পাহাড়ি এলাকায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ বিপদগ্রস্ত। এই ভয়াবহ অবস্থার প্রেক্ষিতে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রবিবার সকাল থেকেই পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নজর রাখছেন। একটি বিশেষ টিভি চ্যানেলকে ফোনে তিনি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “উত্তরবঙ্গে ধস হয়েছে। বৃষ্টিতে ভূটান-সিকিমের এলাকায় ভাঙন হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পাঁচটি জেলার জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সকাল ছয়টা থেকে আমি পরিস্থিতি মনিটর করছি। ক্রমাগত ১২ ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ।” তিনি আরও জানিয়েছেন, মিরিক (Mirik) ও তার আশেপাশের পাহাড়ি এলাকা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক। মিরিক, দার্জিলিং (Darjeeling) ও কালিম্পং (Kalimpong) ঘিরে সাতটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। “একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ ভেঙেছে এবং কালিম্পংয়ের রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। বহু পর্যটক সেখানে আটকে পড়েছেন। আমি নির্দেশ দিয়েছি, পর্যটকরা যে যেখানে আছেন থাকবেন। তাদের অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া দিতে হবে না। হোটেল মালিকরা যেন কোনও ধরনের চাপ না দেন, সরকার তা নজরদারি করবে। পর্যটকদের আমরা নিরাপদভাবে সরিয়ে আনব। তারা যেন তাড়াহুড়ো না করেন।” মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মিরিকেই মূল বিপর্যয় ঘটেছে। “আলিপুরদুয়ারকে (Alipurduar) বিশেষ সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে জল জমে গিয়েছে এবং বাইরে থেকে প্রবাহিত জল এসেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।” ডিভিসি (DVC) বা দিশার্ব নদী নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দক্ষিণবঙ্গে ডিভিসি অতিরিক্ত জল ছেড়েছে। ফলে ঘাটাল (Ghatal) ও অন্যান্য নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়েছে। গঙ্গার জোয়ারের কারণে জল বের হওয়ার কোনও পথ নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতিকে অবহেলার ফলে এই বিপর্যয় ঘটছে।” মিরিকের পাহাড় সম্পর্কে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড় স্থিতিশীল হলেও মিরিকের পাহাড় নতুন এবং সেখানে খালি খোদাই করে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। তাই ধসের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।” স্বজন হারানো মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একটি সহানুভূতিশীল বার্তা দিয়েছেন। “আমি শিলিগুড়ি (Siliguri) যাব, কালই। নিরাপদ স্থানে অনেক মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাদের বাড়ি ধসে গেছে তাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করব। যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবার যাতে সরকারি চাকরি বা সহায়তা পায়, তা আমরা দেখব।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান যে, সরকার দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৎপর। এছাড়া পর্যটকরা যেন অতিরিক্ত খরচে পড়েন তা প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিরিক ও আশেপাশের এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। জলাবদ্ধতা, ধস, ভেঙে যাওয়া ব্রীজ এবং বন্ধ রাস্তা কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “পর্যটকরা আতঙ্কিত না হন। হঠাৎ করে কোনও ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমরা তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনব। সরকার পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।” উত্তরবঙ্গের প্রশাসন ইতিমধ্যেই পাঁচটি জেলার জেলাশাসকদের সাথে বৈঠক করেছে এবং জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করছে। এছাড়া পর্যটকরা যেন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না হয় তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধসের ঝুঁকি এখনও বজায় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজ্য সরকার পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Durga Puja 2025 | চেতলা অগ্রণীতে চক্ষুদান করলেন মমতা, একসঙ্গে উদ্বোধন হল কলকাতা ও জেলার একাধিক পুজো

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন