Mamata Banerjee Election Commission letter | ‘এসআইআরে রাজ্যভেদে দ্বিচারিতা!’ ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ফের চিঠি মমতার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision- SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে ফের তীব্র অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি লিখলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাড়ে তিন পাতার এই চিঠিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার একাধিক অনিয়ম, বৈষম্য এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ধরেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট সতর্কবার্তা, এই সমস্যাগুলির অবিলম্বে সমাধান না-হলে বহু বৈধ ভোটার ভোটাধিকার হারাতে পারেন, যার ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হবে।উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এটি তৃতীয়বারের মতো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর একই বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ফের বিস্তারিত অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মমতা।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Claims TMC-BJP Vote Gap Gone After SIR | SIR-এর পর তৃণমূল-বিজেপির ভোট ব্যবধান নেই? শুভেন্দুর দাবি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা

মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যভেদে আলাদা আলাদা মানদণ্ড প্রয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। তিনি বিশেষভাবে বিহার (Bihar) ও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) -এর উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, বিহারে এসআইআর চলাকালীন বংশতালিকা বা ফ্যামিলি রেজিস্টারকে (Family Register) বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। বিষয়টি আরও গুরুতর, কারণ এই সিদ্ধান্ত কোনও প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা মারফত জানানো হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, হোয়াট্‌সঅ্যাপের মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী।চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিয়মিতভাবে হোয়াট্‌সঅ্যাপ বা অনানুষ্ঠানিক ডিজিটাল মাধ্যমে নিত্যনতুন নির্দেশ পাঠাচ্ছে। ফলে মাঠপর্যায়ের আধিকারিকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং বহু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কমিশনের একটি নির্দেশ আরেকটির সঙ্গে পরস্পরবিরোধী। এর ফলে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর মত।

আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের (Electoral Registration Officer- ERO) অনুমতি ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা বা আইটি সিস্টেমের অপব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act) অনুযায়ী, ইআরও-এর জ্ঞাতসারে ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ছাড়া কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হলে তার সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের উপরই বর্তাবে। উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ভোটারদের কোনও নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে অকারণ ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।’ নামের বানান ভুল বা বয়সে সামান্য গরমিল থাকলেই ভোটারদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। আরও অভিযোগ, শুনানির সময় কোন কোন নথি প্রয়োজন, তা আগাম ভোটারদের জানানো হচ্ছে না। এমনকি শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পর নথি জমা পড়েছে, এমন কোনও স্বীকৃতি বা প্রমাণপত্রও তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না।

শুনানিকেন্দ্রে বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-দের (Booth Level Agent- BLA) প্রবেশাধিকার না দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এনুমারেশন পর্বে, অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ ও যাচাইয়ের সময়, বিএলএ-রা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। অথচ শুনানি প্রক্রিয়ায় তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মমতার কথায়, ‘ভোটগ্রহণের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রে থাকেন স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য। সেই জায়গায় এসআইআর শুনানিতে বিএলএ-দের বাদ দেওয়া হলে প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কোনও রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বে নিযুক্ত আধিকারিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। কমিশনের সঙ্গে যুক্ত মাইক্রো-অবজার্ভারদের (Micro Observer) অনেকেরই এই ধরনের কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। এমনকি রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় না করেই মাইক্রো-অবজার্ভাররা কাজ করছেন, যা ফেডারাল কাঠামোর পরিপন্থী বলে মত তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে স্পষ্ট, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে স্বচ্ছতা, একরূপ মানদণ্ড ও আইনসম্মত পদ্ধতি নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর আবেদন, এই অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপ করা হোক, যাতে কোনও বৈধ ভোটার তাঁর মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Humayun Kabir, Mamata Abhishek Rift | ব্রিগেডের লক্ষভিড়ের ডাক দিয়ে মমতা-অভিষেক ফাটলের বার্তা? হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক কৌশলে নতুন সমীকরণ

Sasraya News
Author: Sasraya News