সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মাদ্রাসাগুলিতে দৈনন্দিন প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। সোমবার, ১৯ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় প্রতিদিনের অ্যাসেম্বলি বা প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর আগে যে সমস্ত প্রথা বা নির্দেশ চালু ছিল, তা বাতিল করে নতুন এই নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, ‘এই সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন নিয়েই কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা এবং ঐক্যের ভাবনা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই নির্দেশের আওতায় সরকারি মডেল মাদ্রাসা, সরকার অনুমোদিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসা, এমএসকে (MSK) ও এসএসকে (SSK) এবং স্বীকৃত বেসরকারি মাদ্রাসাগুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী -এর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় চেতনা জোরদার করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ।’ তবে নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের একাংশের মতে, বিদ্যালয়ের প্রার্থনা অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট গান গাওয়ার বিষয়টি একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে শাসকদলের সমর্থকরা মনে করছেন, ‘বন্দে মাতরম’ দেশের ঐতিহ্যবাহী গান হিসেবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থান পাওয়াই স্বাভাবিক। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত বা দেশাত্মবোধক গান গাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, এই ধরনের নির্দেশ কতটা প্রাসঙ্গিক এবং তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে। মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি রাখা হবে। প্রয়োজনে জেলা স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের মাধ্যমে পর্যালোচনাও করা হতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করে নতুন নিয়ম কী ভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানান, ‘সরকারি নির্দেশ মেনে চলা আমাদের দায়িত্ব। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তবে অভিভাবকদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করলে তার প্রভাব পড়তে পারে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ফলে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক নীতির সংমিশ্রণে তৈরি এই পদক্ষেপ আগামী দিনে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। কিন্তু, বর্তমানে নজর রয়েছে, এই নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং তার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশে কী ধরনের পরিবর্তন আসে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ যে বৃহত্তর নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন সময়ই বলবে, এই সিদ্ধান্ত কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sankar Ghosh education reform | বাংলায় কি ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা? শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত শঙ্কর ঘোষের




