Sankar Ghosh education reform | বাংলায় কি ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা? শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত শঙ্কর ঘোষের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শিলিগুড়ি : রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা পুনরায় চালু হতে পারে, এমনই আলোচনা এখন জোরদার। এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Sankar Ghosh) জানিয়েছেন, শিক্ষা কাঠামোর পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক (Ministry of Education) -এর ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই নির্দেশে বলা হয়েছে, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। শিক্ষার অধিকার আইন (Right to Education Act)-এ সংশোধনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘নো ডিটেনশন পলিসি’ বা পাশ-ফেলবিহীন প্রথা ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে।

আরও পড়ুন : India Vietnam relations, To Lam Narendra Modi congratulations | ভিয়েতনামের নতুন প্রেসিডেন্ট তো লামকে অভিনন্দন মোদীর, ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত

তবে এতদিন পশ্চিমবঙ্গে এই নীতি কার্যকর করা হয়নি। পূর্বতন সরকারের আমলে পাশ-ফেল ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে পড়ুয়াদের উপর মানসিক চাপ কম থাকে এবং স্কুলছুটের হার না বাড়ে। কিন্তু নতুন প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে সেই নীতি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত মিলছে। শঙ্কর ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নত করতে হলে কিছু মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত নিচ্ছি।’ তাঁর কথায়, রাজ্যের একাধিক বিধায়ক শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাবিদদের সঙ্গেও ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ কী চাইছে, তা আমরা বুঝতে পারছি। সেই অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, শিক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রের খবর, এই প্রক্রিয়ায় শঙ্কর ঘোষের পাশাপাশি রাজ্যসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্তও (Swapan Dasgupta) যুক্ত রয়েছেন। দু’জন মিলে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়ুয়াদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নীতিতে বলা হয়েছে, যদি কোনও পড়ুয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়, তবে তাকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপরও উত্তীর্ণ না হলে তাকে একই শ্রেণিতে থেকে পুনরায় পড়াশোনা করতে হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার মান বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ মনে করছে, পাশ-ফেল প্রথা ফিরলে পড়াশোনার প্রতি গুরুত্ব বাড়বে এবং পড়ুয়ারা আরও মনোযোগী হবে। অন্যদিকে, কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এতে পড়ুয়াদের উপর চাপ বাড়তে পারে।

শিক্ষা একটি সংবেদনশীল ক্ষেত্র হওয়ায় যে কোনও পরিবর্তনই গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রশাসনের তরফে ধীরে-সুস্থে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন স্তরের মতামত নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। স্কুলে উপস্থিতি, শিক্ষার মান, শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিকাঠামো, এই সমস্ত বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করে পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে পাশ-ফেল প্রথা চালু করা হলেও তা বৃহত্তর শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবেই আসতে পারে। উল্লেখ্য যে, শিলিগুড়ি থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, নতুন নীতি কবে থেকে কার্যকর হতে পারে এবং তার প্রভাব কী হবে।

রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ শিক্ষা নীতি যে কোনও সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ফলে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে সব নজর রয়েছে সেই রিপোর্টের দিকে, যা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশ-ফেল প্রথা ফিরে আসবে কি না, তা নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BJP fish rice Bengal, Tapas Roy lunch assembly | মাছে-ভাতে বিজেপি: বিধানসভায় শপথের দিনে বাঙালিয়ানা মেনুতে চমক, প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উদ্যোগে নতুন বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন