সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ঢাকা থেকে ভেসে এল গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত। ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্ক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে, আর সেই প্রেক্ষাপটে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি ঘিরে বাড়ছে চাপ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণই দুই দেশের সম্পর্কের দিক নির্দেশ করবে। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) -এর সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। তার আগেই নতুন করে চুক্তি নবীকরণ বা পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনার জন্য দিল্লির উপর চাপ বাড়াচ্ছে ঢাকা। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে নতুন চুক্তি করতে হবে। এই বিষয়টি শুধু জলবণ্টন নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তির সঙ্গেও যুক্ত।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই ইস্যুতে সমাধান না হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা অস্থির হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) -এর পতনের পর মহম্মদ ইউনূস (Mohammad Yunus) -এর অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। পরবর্তী পর্যায়ে তারেক রহমান (Tarique Rahman) -এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবুও গঙ্গা জলবণ্টন প্রশ্নে মতপার্থক্য আবার নতুন করে চাপ তৈরি করছে। ফখরুল তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, তবে তা নির্ভর করছে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির উপর।’ তিনি মনে করেন, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি প্রয়োজন। তাঁর মতে, ‘দুই দেশের মধ্যে জলবণ্টনের বিষয়টি নির্দিষ্ট সময়সীমায় বেঁধে রাখা ঠিক নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটা দরকার।’
গঙ্গা নদীর জল ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ফরাক্কা বাঁধ (Farakka Barrage) এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বাংলাদেশ বহুবার অভিযোগ করেছে, এই বাঁধের কারণে তাদের নদীগুলিতে জলের প্রবাহ কমে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি, পরিবেশ এবং জীবিকার উপর। ফখরুল আবারও এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘ফরাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন নদীতে একাধিক বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশে প্রবাহিত নদীগুলির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক।’ এই বক্তব্যে জলবণ্টন ইস্যুর পাশাপাশি পরিবেশগত দিকটিও সামনে এসেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে অতীতে দুই দেশই আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার পথ বেছে নিয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে এই ইস্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি প্রথম স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে জল ভাগাভাগির একটি নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, নদীর প্রবাহ এবং জলবায়ুর প্রভাবও বেড়েছে। ফলে নতুন বাস্তবতায় পুরনো চুক্তি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তি কী রূপ নেবে, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বাংলাদেশের তরফে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ। বাণিজ্য, সংস্কৃতি, সীমান্ত সহযোগিতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে তা সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে বাধ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশ কীভাবে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়, সেটাই নজরে রয়েছে। আলোচনার টেবিলে বসে সমাধানের পথ খোঁজা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাস এই ইস্যুতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Nandigram meeting | নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রথম বৈঠক, উন্নয়ন রূপরেখা ও উপনির্বাচন কৌশলে জোর




