সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পূর্ব মেদিনীপুর : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ (Higher Secondary result) হতেই রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল পূর্ব মেদিনীপুর। পাশের হারে সব জেলাকে পিছনে ফেলে এই জেলা আবারও সেরার আসনে। পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর পূর্ব মেদিনীপুরে উত্তীর্ণের হার পৌঁছেছে ৯৪.১৯ শতাংশে, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধাতালিকায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর উচ্চ মাধ্যমিকেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় জেলায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জেলা হিসেবেও পূর্ব মেদিনীপুরের এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কাঁথির বাসিন্দারা এই ফলাফলে গর্ব অনুভব করছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিক উন্নতির পেছনে কী কারণ, তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম দশে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মোট ১৩১ জন স্থান পেয়েছিল। তার মধ্যে একা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেই ছিল ২৩ জন ছাত্রছাত্রী। উচ্চ মাধ্যমিকে সেই সংখ্যা কমে চার হলেও পাশের হারের নিরিখে শীর্ষস্থান ধরে রাখা জেলার সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার শক্ত ভিতের দিকেই ইঙ্গিত করছে। কাঁথির কিশোরনগর শচীন্দ্র শিক্ষাসদন, যেখানে একসময় পড়াশোনা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), সেই স্কুলের প্রধানশিক্ষক রাধামাধব দাস (Radhamadhab Das) বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র বইয়ের পড়াশোনায় আটকে থাকি না, পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশের দিকে নজর দিই।’ তাঁর মতে, শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলা, হাতে-কলমে বিজ্ঞানচর্চা এবং শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, এই তিনটি বিষয় বিশেষ ভূমিকা নেয়। একই সুর শোনা গেল কাঁথি হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক অনুপম সাউ (Anupam Sau) -এর কথায়। তিনি জানান, ‘পাঠ্যবইকে কেন্দ্র করে পড়াশোনার উপর আমরা জোর দিই। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক বই পড়ানো হয়, কিন্তু মূল পাঠ্য থেকেই প্রস্তুতি গড়ে তোলা হয়।’ এই পদ্ধতিই পরীক্ষায় স্থির ফল আনতে সাহায্য করছে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।
শুধু পূর্ব মেদিনীপুরই নয়, উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে নজর কেড়েছে হাওড়া জেলাও। পাশের হারে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এই জেলা, যেখানে উত্তীর্ণের হার ৯৩.৮৪ শতাংশ। কলকাতার পাশের জেলা হওয়া সত্ত্বেও মহানগরীর থেকে এগিয়ে থাকা হাওড়ার ফলাফল অনেকেরই নজর কেড়েছে। তুলনায় কলকাতার পাশের হার ৯১.৮৮ শতাংশ। এই ফলাফল থেকে একটি বড় প্রবণতা সামনে এসেছে, শহরের তুলনায় জেলা স্তরের পড়ুয়ারা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলি পাশের হারে ভালো ফল করেছে। কলকাতা রয়েছে নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পরে।
মেধাতালিকার ক্ষেত্রেও দক্ষিণবঙ্গের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ১৮ জন এবং পুরুলিয়া থেকে ১৭ জন ছাত্রছাত্রী প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির উপস্থিতি তুলনায় কম। যদিও দার্জিলিং, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ থেকেও কিছু পড়ুয়া প্রথম দশে স্থান পেয়েছে। এই ফলাফল রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরছে। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা কেন্দ্রিক যে শিক্ষার ধারা ছিল, তা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। জেলা স্তরের স্কুলগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফলে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, স্কুলগুলিতে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি এবং পড়ুয়াদের মানসিক সহায়তা, এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক স্কুলে অতিরিক্ত ক্লাস ও সন্দেহ নিরসনের জন্য আলাদা সময় রাখা হচ্ছে। ফলে পড়ুয়ারা নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারছে।
অভিভাবকদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানদের উপর নজর রাখা, নিয়মিত স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, এই বিষয়গুলিও ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উচ্চ মাধ্যমিকের এই ফলাফল শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং রাজ্যের শিক্ষার গতিপথের একটি দিকনির্দেশ হিসেবেও ধরা হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ধারাবাহিক সাফল্য অন্য জেলাগুলির কাছে একটি মানদণ্ড তৈরি করছে। আগামী দিনে এই প্রবণতা বজায় থাকে কি না, এখন সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : WB HS Result 2026 check online, West Bengal HS result website | অপেক্ষার অবসান! উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬ ফল প্রকাশ, কোন ওয়েবসাইটে দেখবেন রেজাল্ট, জানুন বিস্তারিত




