পার্বতী কাশ্যপ ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : সকালের কফি বা চায়ের কাপের পাশে দু’টি বিস্কুট শহুরে জীবনের চেনা ছবি। কাজের ব্যস্ততার মাঝে দ্রুত কিছু খাওয়ার সহজ উপায় হিসেবেই বিস্কুট জায়গা করে নিয়েছে বহু মানুষের রোজকার রুটিনে। কিন্তু স্বাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষতির দিকটি অনেক সময়েই নজর এড়িয়ে যায়। সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আডবাণী (Kiara Advani) সমাজমাধ্যমে এমন এক সকালের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন, যেখানে কফির সঙ্গে বিস্কুট নয়, দেখা যাচ্ছে ‘হেলদি বাইট’। এই ছোট্ট পরিবর্তনই এখন স্বাস্থ্যসচেতন মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।

বিস্কুট তৈরির প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহৃত হয়, যার ফলে অ্যাক্রালামাইড নামের একটি রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। এই উপাদানকে কার্সিনোজেনিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, অর্থাৎ দীর্ঘদিন নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরে জটিল সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু তাই নয়, বাজারচলতি বিস্কুটে ব্যবহৃত পাম অয়েল, রিফাইনড সুগার এবং ময়দা এই তিন উপাদানই শরীরের পক্ষে অনুকূল নয়। ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে মধুমেহ ও স্থূলতার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এই প্রেক্ষিতেই ‘হেলদি বাইট’ এখন বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। পাঞ্জাবের পুষ্টিবিদ ও ফিটনেস কোচ গরিমা গয়াল (Garima Goyal) মনে করেন, ‘চা বা কফির সঙ্গে কিছু খেতে ইচ্ছে করাই স্বাভাবিক। সেই জায়গায় যদি পুষ্টিগুণে ভরপুর কিছু বেছে নেওয়া যায়, তবে তা শরীরের জন্য অনেকটাই ভাল।’ তিনি জানান, ‘ক্যাফিন মস্তিষ্ককে দ্রুত সক্রিয় করে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে খালি পেটে কফি খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে, তাই সঙ্গে হালকা ও পুষ্টিকর কিছু খাওয়া জরুরি।’
এই জায়গাতেই হেলদি বাইটের গুরুত্ব বাড়ে। বাদাম, বিভিন্ন বীজ, খেজুর কিংবা কিশমিশ দিয়ে তৈরি এই ছোট বলের মতো খাবার শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। প্রাকৃতিক শর্করা এবং ভালো ফ্যাটের মিশেলে তৈরি হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। ফলে কফির সঙ্গে এই ধরনের খাবার খেলে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ সতেজ অনুভূতি পাওয়া যায়। ফিটনেসপ্রেমীদের কাছে এই বাইট আরও একটি কারণে জনপ্রিয়। শরীরচর্চার আগে খুব ভারী কিছু না খেয়ে হালকা কিন্তু শক্তিদায়ক কিছু গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়। সেই ক্ষেত্রে হেলদি বাইট একটি কার্যকর পছন্দ হতে পারে। এটি সহজপাচ্য এবং পেট ভরার অনুভূতি দেয়, ফলে ওয়ার্কআউটের সময় অস্বস্তি তৈরি করে না। উল্লেখ্য, বাড়িতে খুব সহজেই এই হেলদি বাইট তৈরি করা যায়। প্রথমে কাঠবাদাম, কাজু এবং মাখানা শুকনো তাওয়ায় অল্প ভেজে নিতে হয়। এরপর একটি মিক্সারে এগুলির সঙ্গে খেজুর ও কিশমিশ দিয়ে ভালো করে বেটে নিতে হয়। চাইলে সামান্য কোকো পাউডার মিশিয়ে স্বাদে বৈচিত্র আনা যায়। তারপর বাটার পেপার পাতা ট্রেতে মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করলেই প্রস্তুত ‘হেলদি বাইট’। কোনও কৃত্রিম চিনি বা সংরক্ষণকারী না থাকায় এটি অনেকটাই নিরাপদ ও পুষ্টিকর।
বর্তমান সময়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। অনেকেই এখন প্যাকেটজাত খাবারের বদলে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। কিয়ারা আডবাণীর সকালের এই অভ্যাস সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই ধরা পড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই পোস্ট দেখার পর অনেকেই নিজেদের খাদ্যতালিকায় বদল আনার কথা ভাবছেন। কফির সঙ্গে কী খাবেন, এই ছোট্ট প্রশ্নই এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিস্কুটের সহজলভ্যতা যতটা সুবিধা দেয়, ততটাই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, বাদাম ও শুকনো ফল দিয়ে তৈরি হেলদি বাইট স্বাদ ও পুষ্টি, দু’য়েরই ভারসাম্য রাখে। ব্যস্ত জীবনের মাঝে সুস্থ থাকার জন্য এই ধরনের ছোট পরিবর্তনই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে ট্রেন্ড খুব দ্রুত বদলায়। তবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস যদি ট্রেন্ড হয়ে ওঠে, তা সমাজের জন্য ইতিবাচক দিকই নির্দেশ করে। কফির কাপের পাশে বিস্কুটের বদলে যদি জায়গা নেয় হেলদি বাইট, তবে তা নিঃসন্দেহে এক নতুন পথের সূচনা বলেই ধরা যেতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Toxic movie cast, Yash Kiara film | ‘মা হওয়ার পর বাঘিনি’ : টক্সিক মুক্তির আগে নিজের বদল নিয়ে মুখ খুললেন কিয়ারা আডবাণী



