LinkedIn report India, AI hiring process | আই যুগে চাকরির বাজারে দিশাহারা পেশাজীবীরা: ২০২৬-এ নতুন কাজ খুঁজতে চান বহু ভারতীয়, লিঙ্কডইন রিপোর্টে চাঞ্চল্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI বা Intelligence) দ্রুত বদলে দিচ্ছে চাকরির বাজারের নিয়মকানুন। কিন্তু এই বদলের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ক্রমশ অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির মুখে পড়ছেন ভারতের বিপুল সংখ্যক পেশাজীবী। লিঙ্কডইন (LinkedIn) -এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, ২০২৬ সালে নতুন চাকরির খোঁজে নামতে চান বহু ভারতীয় পেশা সন্ধানী, কিন্তু এআই-নির্ভর নিয়োগ প্রক্রিয়া, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং দক্ষতার ঘাটতির কারণে তাঁদের বড় অংশই নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন না। লিঙ্কডইনের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৮৪ শতাংশ ভারতীয় পেশাজীবী মনে করেন, বর্তমান চাকরির বাজারে নতুন ভূমিকা খুঁজে পাওয়ার জন্য তাঁরা পুরোপুরি প্রস্তুত নন। এআই-চালিত নিয়োগ ব্যবস্থা, দ্রুত পরিবর্তনশীল দক্ষতার চাহিদা এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অথচ বাছাই করা চাকরির বাজার, এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবেই এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : AI, Human Capital | আঞ্চলিক ভাষা থেকে এআই শিক্ষা, হিউম্যান ক্যাপিটাল কর্মগোষ্ঠীর বৈঠকে ভবিষ্যৎ ভারতের রোডম্যাপ

লিঙ্কডইনের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের গোড়া থেকে ভারতে প্রতিটি খালি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর অর্থ, একই চাকরির জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ লড়াই করছেন। এই তীব্র প্রতিযোগিতা বহু চাকরিপ্রার্থীর মনে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি করছে। শুধু প্রার্থীরাই নন, নিয়োগকারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। প্রায় ৭৪ শতাংশ ভারতীয় রিক্রুটার জানিয়েছেন, গত এক বছরে যোগ্য প্রতিভা খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে লিঙ্কডইন ইন্ডিয়া নিউজের (LinkedIn India News) সিনিয়র ম্যানেজিং এডিটর ও কেরিয়ার বিশেষজ্ঞ নিরজিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Nirajita Banerjee) বলেন, ‘এআই এখন ভারতের চাকরির বাজারে কেরিয়ার গড়ে ওঠা এবং প্রতিভা মূল্যায়নের একেবারে ভিত্তিগত অংশ হয়ে উঠেছে। পেশাজীবীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের দক্ষতা কী ভাবে বাস্তব সুযোগে রূপান্তরিত হতে পারে এবং নিয়োগের সিদ্ধান্ত আসলে কীভাবে নেওয়া হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা।’ তাঁর মতে, সঠিক উদ্দেশ্যে এআই টুল ব্যবহার করা গেলে এই ব্যবধান অনেকটাই কমানো সম্ভব।নিরজিতার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘এআই টুল মানুষের জন্য সঠিক ভূমিকা চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে, লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে এবং কোন দক্ষতায় শেখার উপর জোর দেওয়া দরকার, তা বুঝতে সাহায্য করে।’ অর্থাৎ, এআই শুধু নিয়োগকারীর হাতিয়ার নয়, চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও এটি শক্তিশালী সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : Pooja Bedi | ভিন্‌ধর্মে বিয়ে, ‘কামসূত্র’ বিতর্ক আর সংসারের টানাপোড়েন, পূজা বেদীর জীবনের অজানা কাহিনি

চলতি বছরের ‘লিঙ্কডইন ইন্ডিয়া জবস অন দ্য রাইজ’ (LinkedIn India Jobs on the Rise) রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ভারতের চাকরির বাজারে এআই ও প্রযুক্তি-নির্ভর পদের চাহিদা এখনও শীর্ষে। এই তালিকায় প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার (Prompt Engineer), এআই ইঞ্জিনিয়ার (AI Engineer) এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (Software Engineer)। এই তথ্য থেকে জানা যায়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বিশেষ করে এআই সংক্রান্ত জ্ঞান আগামী দিনে চাকরির বাজারে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। কিন্তু, রিপোর্টে এটাও উঠে এসেছে যে, অনেক পেশাজীবীই জানেন না তাঁদের বর্তমান দক্ষতা কোন ধরনের ভূমিকায় সবচেয়ে ভালভাবে মানানসই। ফলে তাঁরা হয় অতিরিক্ত আবেদন করছেন, নয়ত নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই সুযোগ খুঁজে পাচ্ছেন না। এই ব্যবধান ঘোচাতে লিঙ্কডইন বিভিন্ন এআই-চালিত টুল চালু করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হল এআই-চালিত জব সার্চ (AI-powered job search)। এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা নিজেদের ভাষায় চাকরি খুঁজতে পারেন। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট পদবির নাম না জেনেও নিজের দক্ষতা বা আগ্রহ অনুযায়ী কাজ খোঁজা সম্ভব। এর ফলে অনেকেই এমন কাজের সুযোগ পাচ্ছেন, যা আগে তাঁরা খুঁজতেই ভাবেননি।

আরও পড়ুন : lifestyle change for fatherhood | বাবা হতে চান? এই অভ্যাসগুলি বদলালেই দ্রুত সুসংবাদ পাবেন

লিঙ্কডইনের মতে, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে সফল হতে গেলে কেবল ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। ক্রমাগত শেখা, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং এআই-কে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করাই হবে মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে যাঁরা ২০২৬ সালে চাকরি বদলানোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে সেনসাসওয়াইড (Censuswide)। ‘কনজিউমার অ্যান্ড গ্লোবাল এইচআর প্রফেশনালস রিসার্চ’ শীর্ষক এই গবেষণা নভেম্বর ২০২৫-এ সম্পন্ন হয়। এতে অংশ নেন ১৯,১১৩ জন কর্মরত বা চাকরিপ্রার্থী (পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন বা বেকার, বয়স ১৮ থেকে ৭৯ বছর) এবং ৬,৫৫৪ জন বিশ্বব্যাপী এইচআর পেশাদার। এই বিশাল নমুনার ভিত্তিতে তৈরি রিপোর্টটিকে ওয়াকিবহাল মহল বর্তমান চাকরির বাজারের একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন।

আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Zaheer Iqbal first date | প্রথম ডেটে সোনাক্ষীর আচরণে আফসোস! খোলামেলা জানালেন স্বামী জাহির

তবে লিঙ্কডইনের এই রিপোর্ট পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, ভারতের চাকরির বাজার এক গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক দিকে রয়েছে বিপুল সুযোগ, অন্য দিকে রয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা ও দক্ষতার চ্যালেঞ্জ। এআই এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকলেও, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রযুক্তিই আবার পেশাজীবীদের নতুন দিশা দেখাতে পারে, এমনটাই মত অভিজ্ঞ মহলের।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Abhijit Gangopadhyay reaction, Primary teacher recruitment scam |ডিভিশন বেঞ্চের রায় প্রশ্নের মুখে? প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ বললেন, ‘২৬ হাজারও তো বহু বছর চাকরি করেছে, তা হলে কি সেই রায় ভুল?’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন