সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রবিবার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ট্রফি ঘরে তুলেছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ব্যাটে স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা -এর দাপট, তার পর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে বড় ব্যবধানে জয় এসেছে ভারতের। কিন্তু শিরোপা জয়ের সেই আনন্দের মধ্যেই শাস্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছে ভারতীয় শিবিরে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটারকে আউট করার পর মাঠে এমন একটি আচরণ করেছিলেন ভারতের বোলার ক্রান্তি গৌড় (Kranti Goud), যার জেরে তাঁকে ম্যাচ ফি-র ১০ শতাংশ জরিমানা দিতে হচ্ছে। শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, তাঁর শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে ওপেন করতে নেমেছিলেন ইমেশা দুলানি (Imesha Dulani)। তাঁকে আউট করার পর ক্রান্তির উদ্যাপনই ম্যাচ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। উইকেট পাওয়ার পর ক্রান্তি আঙুলের ইশারায় দুলানিকে দ্রুত মাঠ ছেড়ে সাজঘরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটারকে উদ্দেশ্য করে এমন আচরণ ক্রিকেটীয় শিষ্টাচারের সীমা অতিক্রম করেছে বলেই ধরা হয়েছে। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ম্যাচ চলাকালীন খুব বড় কোনও বিতর্কের আকার না নিলেও পরে শৃঙ্খলাজনিত বিষয় হিসেবে সেটি সামনে আসে। ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে ক্রান্তির আচরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আইসিসি-র (ICC) শৃঙ্খলাবিধির ২.৫ ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যাটারকে আউট করার পর এমন ভাষা, অঙ্গভঙ্গি বা আচরণ করা যাবে না, যা তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে পারে অথবা তাঁর দিকে অসম্মানজনক ভাবে পরিচালিত হয়। ক্রান্তির ক্ষেত্রে সেই ধারাই প্রযোজ্য হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ কোনও শুনানির প্রয়োজন হয়নি। নিজের ভুল মেনে নিয়েছেন ক্রান্তি। অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির পথে যেতে হয়নি। ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তও তাই দ্রুত কার্যকর হয়েছে। ম্যাচ ফি-র ১০ শতাংশ জরিমানার পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে তাঁকে। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটাই ক্রান্তির প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট। ফলে আপাতত শাস্তির মাত্রা সীমিত থাকলেও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়িয়ে চলতে হবে ভারতীয় বোলারকে।
আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের ব্যাটারকে আউট করার পর তাঁকে লক্ষ্য করে অশোভন বা উত্ত্যক্ত করার মতো আচরণ করলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী কোনও ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি-র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডে এক বা একাধিক ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হতে পারে। তাই ক্রান্তির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ জরিমানা এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্টেই বিষয়টি শেষ হলেও ভবিষ্যতের ম্যাচগুলিতে তাঁকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। ব্যক্তিগত শাস্তির খবরের চেয়ে ভারতের জন্য রবিবারের রাতের বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে এশিয়া কাপ জয়। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে কার্যত একতরফা লড়াইয়ে ৭২ রানে হারিয়েছে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারতীয় দল ১৮৩ রান তোলে। বড় রান করার ভিত গড়ে দেন স্মৃতি মন্ধানা এবং শেফালি বর্মা। দুই ওপেনারের অর্ধশতরানের সুবাদে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণের উপরে চাপ তৈরি করে ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের ব্যাটিংয়ে ছিল আগ্রাসী মনোভাব। স্মৃতি মন্ধানা এবং শেফালির জুটি স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ করে ভারতকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে দেয়। পরে মিডল অর্ডারের ব্যাটাররাও প্রয়োজন অনুযায়ী রান যোগ করেন। নির্ধারিত ইনিংস শেষ হওয়ার আগে ভারত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রানে পৌঁছে যায়। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার সামনে যথেষ্ট কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকায় রান তোলার গতি ধরে রাখতে পারেনি তারা। ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপ দীর্ঘ সময় দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে ৭২ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত।
এই ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ক্রান্তিরও। তাঁর বোলিং পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইমেশা দুলানিকে আউট করার মুহূর্তের উদ্যাপনই শেষ পর্যন্ত শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রিকেটে উইকেট পাওয়ার পর আবেগ প্রকাশ নতুন কোনও ঘটনা নয়। কিন্তু সেই উদ্যাপন যখন সরাসরি প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারকে লক্ষ্য করে করা হয় এবং তা উত্ত্যক্ত করার পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন আইসিসি-র আচরণবিধি কার্যকর হয়। ক্রান্তির ঘটনাতেও সেই নিয়মই প্রয়োগ করা হয়েছে। ভারতের এশিয়া কাপ জয় অবশ্য এই শাস্তির কারণে কোনও ভাবেই ম্লান হওয়ার মতো নয়। বরং পুরো টুর্নামেন্টে দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত শিরোপা এনে দিয়েছে। ফাইনালে ব্যাটিংয়ে মন্ধানা ও শেফালির অর্ধশতরান এবং পরে বোলারদের সম্মিলিত সাফল্যে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বড় জয় পেয়েছে ভারত। সেই জয়ের মধ্যেই ক্রান্তির জন্য এসেছে ব্যক্তিগত সতর্কবার্তা।
একটি ডিমেরিট পয়েন্ট আপাতত বড় শাস্তি নয়। কিন্তু ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মঞ্চে আচরণবিধি ভাঙার ঘটনা বারবার ঘটলে তার প্রভাব ভবিষ্যতের ম্যাচে পড়তে পারে। তাই ক্রান্তির সামনে এখন মূল লক্ষ্য হবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণেও নিয়ন্ত্রণ রাখা। উইকেট পাওয়ার উচ্ছ্বাস ক্রিকেটের স্বাভাবিক আবেগ হলেও সেই উদ্যাপন যেন প্রতিপক্ষকে অপমান বা উত্ত্যক্ত করার পর্যায়ে না যায়, সেটিই এই ঘটনার মূল শিক্ষা। এশিয়া কাপের ট্রফি হাতে নিয়ে ভারতীয় দল যখন উদ্যাপনে ব্যস্ত, তখন ক্রান্তির শাস্তি সেই জয়ের রাতের অন্য একটি দিক সামনে আনল। একদিকে দলের দুর্দান্ত জয়, অন্য দিকে মাঠের আচরণের জন্য জরিমানা, একই ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে গেল দুই ভিন্ন ছবি। ক্রান্তি অবশ্য অভিযোগ মেনে নেওয়ায় বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন তাঁর সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন লড়াই ও নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফের আলোচনায় আসার সুযোগ। তবে পরবর্তী সময়ে উইকেট পাওয়ার মুহূর্তে আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁকে যে আরও সংযত হতে হবে, সেই ইঙ্গিত দিয়ে গেল এশিয়া কাপ ফাইনালের এই ঘটনা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Women Asia Cup Final | Shafali Verma fastest fifty, Smriti Mandhana 59 I শেফালি-স্মৃতির ব্যাটের ঝড়, স্পিনে শ্রীলঙ্কা ধ্বংস! অষ্টমবার এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত




