সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা পৌঁছে দিতে ফের শুরু হতে চলেছে জন কল্যাণ শিবির (JanKalyan Shivir)। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই শিবির আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা, বিভিন্ন পরিষেবার জন্য আবেদন করা কিংবা কোনও প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যাঁরা এখনও পিছিয়ে রয়েছেন, তাঁদের সামনে ফের স্থানীয় স্তরে আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন কল্যাণ শিবির পোর্টারে এই কর্মসূচিকে নাগরিক-কেন্দ্রিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক জায়গায় পরিষেবা দেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রথম দফার জন কল্যাণ শিবির হয়েছিল। সরকারি পোর্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন শিবির হওয়ার কথা ছিল এবং পরে ১৮ জুন পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়। অর্থাৎ নতুন কর্মসূচি হলে সেটি হবে চলতি বছরে এই ধরনের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরবর্তী বড় পর্ব।

জন কল্যাণ শিবিরের মূল ভাবনা হল, সাধারণ মানুষকে প্রত্যেকটি প্রকল্পের জন্য আলাদা আলাদা সরকারি দফতরে ঘুরতে না পাঠিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বিভিন্ন পরিষেবা ও আবেদনের সুযোগ করে দেওয়া। সরকারি পোর্টারে এই কর্মসূচিকে ‘convergent, single-window outreach programme’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য উপভোক্তাদের যোগাযোগ তৈরি করাই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে শিবিরে নথিভুক্তকরণ, যাচাই, পরিষেবা প্রদান এবং অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে ২ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবরের শিবির ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে আবেদন করার সুযোগ। সরকারি জন কল্যাণ শিবির পোর্টারে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার পাশাপাশি একাধিক প্রকল্পের তালিকা দেওয়া রয়েছে। Annapurna Yojana-সহ Old Age Pension, Widow Pension এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্পও সেই তালিকায় রয়েছে।
শুধু ভাতা বা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পই নয়, জন কল্যাণ শিবিরের আওতায় পরিষেবার তালিকা আরও বড়। সরকারি পোর্টারে Ayushman Bharat, Kanyashree Yojana, Sukanya Samriddhi Yojana, PM-Kisan Samman Nidhi, PM Ujjwala Yojana, PM Vishwakarma, PM-SVANidhi, Atal Pension Yojana, PM Jeevan Jyoti Bima Yojana, PM Suraksha Bima Yojana, Pradhan Mantri Jan Dhan Yojana-সহ একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা, মৎস্য, ভূমি এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো নানা ক্ষেত্রের পরিষেবাও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই কারণে জন কল্যাণ শিবিরকে শুধু একটি নির্দিষ্ট ভাতা পাওয়ার আবেদনকেন্দ্র হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। সরকারি পোর্টালের তালিকা অনুযায়ী, কোনও কৃষক PM-Kisan বা Kisan Credit Card সংক্রান্ত পরিষেবা সম্পর্কে জানতে পারেন, কোনও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী Mudra Loan বা Udyam Registration নিয়ে তথ্য পেতে পারেন, আবার কোনও ছাত্রছাত্রী বা পরিবারের সদস্য শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। ভূমি সংক্রান্ত Mutation, Patta বা land record correction-এর মতো পরিষেবার কথাও সরকারি তালিকায় রয়েছে।
সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে, নিজের এলাকার শিবিরটি কোথায় হবে? এই তথ্য জানার জন্য জন কল্যাণ শিবিরের সরকারি পোর্টালে আলাদা ‘Locate your Shivir’ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে নিজের এলাকার শিবিরের তথ্য খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইটে Citizen Corner-এর মধ্যে ‘Locate your Shivir’ এবং শিবিরের ভূ-অবস্থান দেখার জন্য ‘Shivir Geo-location’ অপশনও রয়েছে। অর্থাৎ শিবিরের দিনক্ষণ ও স্থান জানতে আগে থেকেই স্থানীয় প্রশাসনিক দফতরে ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি পোর্টালে গিয়ে নিজের জেলার তথ্যের ভিত্তিতে শিবির খোঁজার ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২ থেকে ৪ অক্টোবরের কর্মসূচির ক্ষেত্রে জেলা, ব্লক বা স্থানীয় সংস্থা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অথবা ওয়ার্ড ধরে শিবিরের ঠিকানা জানার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে যাওয়ার আগে নিজের এলাকার নির্দিষ্ট কেন্দ্রটি দেখে নেওয়া জরুরি। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, শিবিরের স্থান বা সময় শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকার উপর নির্ভর না করে সরকারি জন কল্যাণ শিবির পোর্টারে তথ্য মিলিয়ে নেওয়াই নিরাপদ। সরকারি পোর্টারে সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে জেলা এবং Block/ULB নির্বাচন করে সাহায্য নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জন কল্যাণ শিবিরে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোন প্রকল্পের জন্য আবেদন করা হচ্ছে তার উপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ধরন আলাদা হতে পারে। পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাঙ্কের তথ্য, বয়সের প্রমাণ, আয় সংক্রান্ত নথি বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সুবিধা হতে পারে। অবশ্য কোনও প্রকল্পে ঠিক কোন নথি প্রয়োজন, তা আগে সরকারি পোর্টালে বা সংশ্লিষ্ট দফতরের নির্দেশিকা দেখে নেওয়া উচিত। প্রথম দফার শিবিরের উদ্দেশ্যও ছিল একই ভাবে প্রশাসন ও নাগরিকের মধ্যে দূরত্ব কমানো। সাধারণত কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে একাধিক দফতর, অনলাইন আবেদন বা স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। গ্রামাঞ্চল বা দূরবর্তী এলাকার অনেক মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে। শিবিরের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে স্থানীয় স্তরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। সরকারি পোর্টারেও এক জায়গা থেকে একাধিক সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে জানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সম্ভাব্য উপভোক্তাদের জন্য এই ধরনের শিবির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ কোনও প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও আবেদন বা নথিপত্রের সমস্যার কারণে অনেকে সময়মতো সুযোগ পান না। স্থানীয় স্তরে সরকারি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকলে সেই সমস্যাগুলি নিয়ে আবেদন বা সংশোধনের পথ খুঁজে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা থেকে কৃষি পরিষেবা জন কল্যাণ শিবিরের সরকারি তালিকায় একাধিক ক্ষেত্রের প্রকল্প রয়েছে। এমনকী স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, ভোক্তা সচেতনতা কর্মসূচি, E-Shram, PM Vishwakarma, PM Surya Ghar Yojana এবং বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পও পোর্টারের তালিকায় রয়েছে। ফলে একটি শিবিরে গিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই কর্মসূচির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অভিযোগ ও সহায়তা ব্যবস্থা। সরকারি পোর্টারে Control Room-এর পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে জেলা ও Block/ULB স্তরে সহায়তার কাঠামো দেখানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যা বা পোর্টাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্য সরকারি নম্বরও দেওয়া রয়েছে। পোর্টারে ১৮০০৩৪৫০১১৭ এবং ০৩৩-২২১৪০১৫২ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
পুজোর মরসুমের আগে এই ধরনের শিবিরের সময় নির্ধারণ করা হলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছনোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে ২ থেকে ৪ অক্টোবরের কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্থানীয় কেন্দ্রের সঠিক ঠিকানা, সময় এবং কোন কোন পরিষেবা সেখানে পাওয়া যাবে, এই তথ্য আগে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। কারণ সব শিবিরে একই ধরনের পরিষেবা বা একই সংখ্যক দফতরের উপস্থিতি থাকবে কি না, তা স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে পারে বলে উল্লেখ। তাই যাঁরা এখনও কোনও সরকারি প্রকল্পে আবেদন করেননি, কিংবা আগের কোনও পর্যায়ে আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্য জন কল্যাণ শিবিরের পরবর্তী পর্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, অন্নপূর্ণা যোজনা, কৃষি পরিষেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সুবিধার প্রয়োজন থাকলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথির বিষয়ে জেনে নেওয়া যেতে পারে।
রাজ্য সরকারের জন কল্যাণ শিবিরের সরকারি পোর্টারে একাধিক প্রকল্পের তালিকা এবং ‘Locate your Shivir’ সুবিধা ইতিমধ্যেই রয়েছে। ফলে শিবিরে যাওয়ার আগে নিজের প্রয়োজনের প্রকল্পটি চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা এবং নির্দিষ্ট কেন্দ্রের তথ্য যাচাই করে নেওয়াই হবে সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি। আপনার দেওয়া সূচি অনুযায়ী, ২ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর রাজ্যজুড়ে এই শিবির বসলে পুজোর আগে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট জেলার চূড়ান্ত শিবির-তালিকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশের দিকে। নিজের এলাকার কেন্দ্র খুঁজতে সরকারি জন কল্যাণ শিবির পোর্টালের ‘Locate your Shivir’ বিভাগ ব্যবহার করা যাবে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam Child Marriage News, Himanta Biswa Sarma Child Marriage Action | অসমে বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া অভিযান, রাষ্ট্রসংঘের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে নতুন গুরুত্ব পেল হিমন্ত সরকারের উদ্যোগ




