সাড়ম্বরে উদযাপিত হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন
সাশ্রয় নিউজ ★ কালনা, পূর্ব বর্ধমান : আজ পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা হিন্দু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পালিত হল দৃঢ়বীর্য, কঠিন অধ্যাবসায় মিশ্রিত বলিষ্ঠ সমাজ সংস্কারক, নারী শিক্ষার অগ্রদূত, বাংলা গদ্যের যথার্থ উদ্গাতা দয়ার সাগর, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্ম জয়ন্তীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ। এদিনের অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় ছিল, ‘জাতির জীবনের যথার্থ মনুষ্যত্বের যে একান্ত অভাব’। সমাজে যে প্রতিদিনের ক্ষুদ্রতা, অবিশ্বাস স্বার্থপরতা মনুষ্যত্বের নিত্য নিগ্রহ, ব্যভিচার, পরানুকরণ প্রিয়তা, যেখানে সমাজ অনুশাসন উৎপীড়নের হাতিয়ার, যেখানে অত্যাচার সীমাহীন, দূর্বলের অসহায় আর্তনাদ, যেখানে অনাচার, কুসংস্কারের অক্টোপাস বন্ধন তার থেকে মুক্তির পথ অন্বেষণ যিনি দেখিয়েছিলেন তাঁকে বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করেন আলোচকরা।

কৌলিন্য, বহু বিবাহপ্রথা নামক সামাজিক ব্যাধি নিরসনের ওপর কবিতা আবৃত্তি, এছাড়া ছিল জীবনীপাঠ, নাচ, গান ইত্যাদি। অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিল উদ্বোধনী সঙ্গীত ‘অঞ্জলি লহ…’ এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে। তারপর বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মমতা রায় চৌধুরী বলেন রবি ঠাকুরের একটি উক্তির মধ্যে দিয়ে, “মাঝে মাঝে বিধাতার নিয়মের এরূপ আশ্চর্য ব্যতিক্রম হয় কেন, বিশ্বকর্মা যেখানে চার কোটি বাঙালি নির্মাণ করিতেছিলেন। সেখানে হঠাৎ দুই একজন মানুষ গড়িয়া বসেন কেন তাহা বলা কঠিন।” চিরগত প্রথা ও অভ্যাসের জড় আচ্ছাদনে জাতির অগ্রগতির পথ যেখানে রুদ্ধ, সেখানে শিক্ষার জ্যোতির্ময় আলোক বিচ্ছুরণে জাতির চিত্ত্মুক্তি ঘটবে আর যিনি তমসাচ্ছন্ন জাতিকে নতুন আলোকিত প্রভাতে সিংহদ্বারে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন বিদ্যাসাগর মহাশয়।

আর আমরা যত এই বন্ধন মুক্ত মানবিকতার পথে হাঁটবো তত-ই আগামী দিন উজ্জ্বল হবে। পরিশেষে বিদ্যালয় সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শ্রীমতী মমতা রায় চৌধুরী।
-নিজস্ব চিত্র




