তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হায়দরাবাদ : আইপিএল ২০২৬ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তরুণ ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঈশান কিশান (Ishan Kishan)। একের পর এক সাফল্যের ধাপ পেরিয়ে এখন তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) -এর অধিনায়কত্ব। প্রথমবার আইপিএলে নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেও তাঁকে হালকা ভাবে না নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। কারণ, মাঠের বাইরেও যে প্রস্তুতি এবং শৃঙ্খলার ছাপ তিনি রেখে চলেছেন, তা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ক্রিকেটমহলের।
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝাড়খণ্ডকে টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন করার পর থেকেই ঈশানের নেতৃত্বগুণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এরপর জাতীয় দলে সুযোগ এবং বিশ্বজয়ের স্বাদ, সব মিলিয়ে তাঁর কেরিয়ারের বর্তমান সময়টা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ধারাবাহিকতারই পরবর্তী ধাপ হিসেবে আইপিএলে তিনি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। ঝাড়খণ্ড দলের কোচ সঞ্জয় গুপ্ত (Sanjay Gupta) ঈশানকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর মতে, ‘ঈশানকে যারা শুধু মাঠে দেখে, তারা ওর আসল চরিত্রটা বোঝে না। ও খুবই সাধারণ মানসিকতার ছেলে। সাফল্য পেলেও মাথা ঠাণ্ডা রাখে।’ এই মাটির কাছাকাছি থাকা মানসিকতাই তাঁকে দলের মধ্যে আলাদা করে তোলে বলে মনে করা হচ্ছে।
অধিনায়ক হিসেবে ঈশানের সবচেয়ে বড় শক্তি দলের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখা। সঞ্জয় জানান, ‘ও সব সময় চায় সাজঘরের পরিবেশ ইতিবাচক থাকুক। জিতলে যেমন, হারলেও তেমন। কেউ আউট হয়ে গেলে যেন সেটা নিয়ে অতিরিক্ত চাপ না নেয়, এই বার্তাটা ও পরিষ্কার করে দেয়।’ অর্থাৎ, প্রতিটি ক্রিকেটারের ভূমিকা নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করাই তাঁর কৌশলের মূল অংশ। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর যাত্রা একসময় ধাক্কা খেয়েছিল। কয়েক বছর আগে ‘অবাধ্য’ তকমা দিয়ে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও বাদ পড়েন। কিন্তু কোচের মতে, সেই ধারণা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। ‘অনেকে ভাবে ঈশান সব সময় হাসি-ঠাট্টা করে। কিন্তু পরিকল্পনার সময় ও সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। খুব মনোযোগ দিয়ে প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য আলাদা কৌশল তৈরি করে,’ বলেন সঞ্জয়। উল্লেখ্য, ঈশানের অধিনায়কত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শৃঙ্খলা বজায় রাখা। দলের মধ্যে সময়ানুবর্তিতার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, টিম বাসে দেরি করলে নির্দিষ্ট জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এই নিয়ম শুধু শাস্তির জন্য নয়, বরং দলকে একটি কাঠামোর মধ্যে রাখার জন্যই প্রণীত। তাঁর সতীর্থ বিরাট সিং (Virat Singh) জানিয়েছেন, ঈশান নিজের নেতৃত্বগুণ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি (Mahendra Singh Dhoni) -এর কাছ থেকে। ধোনির শান্ত স্বভাব, ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধরণ ঈশানের নেতৃত্বে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আইপিএলের মতো উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে অধিনায়কত্ব করা সহজ নয়। বিশেষ করে যখন দলের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে। তবে ঈশানের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই যে মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়েছে, তা তাঁকে আলাদা জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। তাঁর পরিকল্পনার ধরন এবং দলের প্রতিটি সদস্যকে যুক্ত করার পদ্ধতি হায়দরাবাদ শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (Indian Premier League) -এর নতুন মরসুম শুরু হবে ২৮ মার্চ। প্রথম ম্যাচেই হায়দরাবাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা, গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) -এর বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। সেই ম্যাচেই প্রথম বার আইপিএল অধিনায়ক হিসেবে দেখা যাবে ঈশানকে। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন তাঁর দিকেই। নতুন অধিনায়ক হিসেবে তিনি কতটা সফল হন, তা নির্ভর করবে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ম্যাচ পরিচালনা এবং চাপের মুহূর্তে স্থির থাকার ক্ষমতার উপর। ইতিমধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়ে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এখন সেই অভিজ্ঞতা বড় মঞ্চে কাজে লাগানোর সময়। আইপিএল ২০২৬ তাই ঈশান কিশানের কাছে কেবল আর একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নিজের নেতৃত্বগুণকে প্রতিষ্ঠিত করার বড় সুযোগ। ধোনির শিক্ষা, নিজস্ব কৌশল এবং দলের উপর আস্থা, এই তিনকে সঙ্গী করেই তিনি নতুন যাত্রা শুরু করতে চলেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Modi Eid letter Bangladesh PM | ঈদের শুভেচ্ছায় কূটনৈতিক বার্তা, তারেক রহমানকে চিঠিতে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিলেন মোদী




