সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : জ্বালানি অনিশ্চয়তার আবহে ভারতের জন্য একাধিক স্বস্তির খবর সামনে এল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহে টানাপোড়েনের মধ্যে হঠাৎ করেই দেশমুখী হয়েছে রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ, পাশাপাশি আমেরিকা থেকেও এল বিপুল এলপিজি (LPG)। এই দ্বিমুখী সরবরাহে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি Aqua Titan (অ্যাকোয়া টাইটান) নামে একটি তেলবাহী জাহাজ ভারতের New Mangalore Port (নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর) -এ এসে পৌঁছেছে। এই জাহাজটি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রথমে এই জাহাজের গন্তব্য ছিল চিনের রিজাও বন্দর। কিন্তু মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করে তা ভারতের দিকে রওনা দেয়। জ্বালানি বাজারে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, শুধু একটি নয়, মোট সাতটি রুশ তেলবাহী জাহাজই নিজেদের গন্তব্য পরিবর্তন করে ভারতের দিকে ঘুরেছে। তার মধ্যে প্রথমটি ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে। যদিও প্রতিটি জাহাজে ঠিক কত পরিমাণ তেল রয়েছে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে এই অতিরিক্ত সরবরাহ ভারতের তেল চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও একটি জাহাজ Zhou Zhou An (জৌ জৌ এন) আগামী ২৫ মার্চ Sikka Port (সিক্কা বন্দর)-এ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়া থেকে আরও তেল ভারতে ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আমেরিকা ভারতের জন্য রাশিয়ার তেল কেনায় সাময়িক ছাড় দিয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ভারত তেল আমদানি বাড়িয়েছে। ফলে মাঝপথে থাকা জাহাজগুলিও গন্তব্য বদলে ভারতের দিকে আসতে শুরু করেছে। অন্য দিকে, হরমুজ প্রণালী -এর অনিশ্চয়তা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছিল। দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়েই আসে। শুধু তেল নয়, এলএনজি এবং এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে কোনও বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব সরাসরি ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থায় পড়ে। এই পরিস্থিতিতেই রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ এবং আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি দেশের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার সকালে পাইক্সিস পাইওনিয়ার নামের একটি কার্গো জাহাজ Texas (টেক্সাস) থেকে বিপুল পরিমাণ এলপিজি নিয়ে ম্যাঙ্গালুরুতে পৌঁছেছে। রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এই সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা, সব কিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগোতে হচ্ছে ভারতকে। সেই জায়গায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা এখন অন্যতম কৌশল হয়ে উঠেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, একাধিক উৎস থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে। কোনও একটি অঞ্চলে সমস্যা হলে অন্য উৎস থেকে সরবরাহ চালু রাখা যায়। বর্তমানে রাশিয়া ও আমেরিকা এই দুই দেশ থেকেই জ্বালানি আমদানি বাড়ানো সেই কৌশলেরই অংশ। যদিও সব রুশ জাহাজ শেষ পর্যন্ত ভারতে পৌঁছবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত বদলাতেও পারে। তবুও ইতিমধ্যেই যে সরবরাহ এসেছে এবং আসছে, তা দেশের জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতের মতো দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির জন্য জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প, পরিবহণ এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রভাব রয়েছে। ফলে এই ধরনের অতিরিক্ত সরবরাহ দেশের অর্থনীতির উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি, আমদানি নীতি এবং মজুত সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে জ্বালানি সংকট আরও কমানো যায়, সেই লক্ষ্যে দীর্ঘস্থানী পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার তেল এবং আমেরিকার গ্যাস এই দুইয়ের সমন্বয়ে ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। তবে পরিস্থিতি যে এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, তা স্পষ্ট। তাই আগাম প্রস্তুতি এবং বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : FraudPro AI India, C-DOT Fraud Detection | বার্সেলোনার বিশ্বমঞ্চে ভারতের সাফল্য! AI-চালিত ‘FraudPro’ টেলিকম প্রতারণা রুখতে গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত তালিকায়




