প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ফাইনালে যাঁকে দেখা গেল, তিনি পুরনো চেনা ঈশান কিশান (Ishan Kishan)। আগ্রাসী ব্যাটিং, নির্ভীক মানসিকতা আর উইকেটের পিছনে নিখুঁত দক্ষতা, সব মিলিয়ে যেন নিজের হারানো জায়গাটা ফের খুঁজে পেলেন ঝাড়খণ্ডের অধিনায়ক। ফাইনালে শতরান করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যেও বাস্তববাদী ঈশান জানেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতীয় দলে তাঁর জায়গা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এক সময় যিনি ভারতীয় দলের প্রায় নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছিলেন, সেই ঈশান কিশনের কেরিয়ার আচমকাই থমকে গিয়েছিল। দেশের হয়ে ২টি টেস্ট, ২৭টি এক দিনের ম্যাচ এবং ৩২টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর হঠাৎ করেই তিনি হারিয়ে যান জাতীয় দলের ভাবনায়। ২০২৪ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর মানসিক অবসাদে নিজেকে ঈশান অন্তরালে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) -এর নির্দেশ মানেননি, ঝাড়খণ্ড ক্রিকেট সংস্থার কর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন না। সেই অবাধ্যতার মাশুল দিতে হয়েছে তাঁকে। শাস্তি পেয়েছেন, জাতীয় দল থেকেও দূরে সরে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এরপরে ২২ গজে ফিরে এলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আসছিল না। আইপিএল হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট, ঈশান যেন নিজের পুরনো ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ঠিক তখনই সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি তাঁর কাছে হয়ে উঠল নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ। গোটা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ঈশান কিশন (Ishan Kishan)। ১০টি ম্যাচে ৫১৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৯৭.৩২ এই পরিসংখ্যান যে কোনও ব্যাটারের স্বপ্ন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এমন ধারাবাহিকতা নজর কেড়েছে ক্রিকেট সমালোচকদেরও।চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঈশান নিজের হতাশা এবং মানসিক লড়াইয়ের কথা খোলাখুলি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভাল পারফর্ম করার পরও ভারতীয় দলে নির্বাচিত হইনি। তখন খারাপ লেগেছিল। নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, এমন পারফর্ম করেও যদি সুযোগ না পাই, তা হলে আমাকে আরও ভাল কিছু করে দেখাতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত রান নয়, দলকে জেতানোর মতো পারফরম্যান্স করতে হবে।’ এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, ঈশান এখন নিজের ক্রিকেটজীবনকে দেখছেন অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে। আগে যেখানে জাতীয় দলে ফেরা ছিল প্রধান লক্ষ্য, এখন সেখানে ঈশান মন দিয়েছেন নিজের কাজের ওপর। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঈশান কোনও আক্ষেপ দেখাননি। বাস্তবকে মেনেই বলেছেন, ‘আমরা অনেক সময় অনেক কিছু আশা করি। দলে নিজের নাম না দেখলে একটু তো খারাপ লাগেই। কিন্তু মানসিক ভাবে আমি এখন অনেক শক্ত। কোনও প্রত্যাশা নিয়ে খেলি না। শুধু নিজের কাজটা ভাল ভাবে করার চেষ্টা করি।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডকে প্রথমবার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন করার আনন্দ তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট। অধিনায়ক হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম বড় ট্রফি। ঈশান বলেছেন, ‘আমার ক্রিকেটজীবনের অন্যতম খুশির মুহূর্ত এই জয়। আমরা আগে কখনও এই ট্রফিটা জিততে পারিনি। আমার নেতৃত্বে প্রথম বার এল। ভাল তো লাগবেই। এখন আমি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। নিজের ব্যাটিংয়ের উপরও ভরসা বেড়েছে।’ এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো ঈশান কিশানের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া, বিতর্ক, শাস্তি- সব কিছুর পরেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে, নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তরুণতরদের উদ্দেশ্যে ঈশান বলেছেন, ‘হতাশা আরও পিছিয়ে দেয়। পরিশ্রম বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। যেটা করতে চাও, সেটাকে লক্ষ্য বানিয়ে এগোতে হবে। লক্ষ্যে পৌঁছোতেই হবে।’ পেশাদার ক্রিকেটে চাপ এবং মানসিক অবসাদ সামলানো যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ঈশান নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন। বিশ্বকাপের দরজা হয়ত আপাতত বন্ধ, কিন্তু ঈশান কিশনের গল্প এখানেই শেষ নয়। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে তাঁর ব্যাট যে ভাষায় কথা বলেছে, তাতে ভবিষ্যতে আবার জাতীয় নির্বাচকদের ভাবনায় ফিরবেন না, এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আপাতত প্রত্যাশা নয়, আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রমই তাঁর একমাত্র সঙ্গী।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Roben Bar Karate Bronze Medal | ইন্দোরে জাতীয় মঞ্চে বাংলার গর্ব: ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমসে ক্যারাটেতে ব্রোঞ্জ জিতল বাংলার রবেন বার




