Indian Air Force fighter jet crash | অসমে সুখোই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনা: প্রশিক্ষণ উড়ানে ভেঙে পড়ল SU-30MKI, নিহত দুই বায়ুসেনা পাইলট

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ গুয়াহাটি : ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শোকের ছায়া নেমে এল। অসমে প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় ভেঙে পড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বীর পাইলট। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে, যখন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি Sukhoi Su‑30MKI যুদ্ধবিমান হঠাৎই রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং পরে অসমের পাহাড়ি এলাকায় তার ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ মিশনে থাকা ওই যুদ্ধবিমানটি অসমের জোড়হাট এয়ার ফোর্স স্টেশন ( Jorhat Air Force Station) থেকে উড়ান শুরু করেছিল। কিন্তু উড়ানের কিছু সময় পরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর জানা যায়, যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়েছে অসমের দুর্গম করাবি অংলং (Karbi Anglong) জেলায়। ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের সরকারি বিবৃতিতে জানায়, ‘দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ (Squadron Leader Anuj) এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরাগকর (Flight Lieutenant Purovesh Duragkar) প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

আরও পড়ুন : Prime Minister Seva Sankalp | ‘সেবা সংকল্প’ পুনর্নবীকরণে সার দপ্তরের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দর্শন সামনে রেখে কর্তব্য ভবনে শপথ

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বায়ুসেনা জানায়, ‘আমরা গভীর শোকাহত। এই দুর্ঘটনায় আমাদের দুই সাহসী সদস্যকে হারালাম। তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’ বায়ুসেনা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটার সময় যুদ্ধবিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড়ানে অংশ নেয়। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়। রাত ৭টা ৪২ মিনিট নাগাদ শেষবার বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। তারপরই রাডার থেকে সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যায় বিমানটি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ তল্লাশি অভিযান শুরু করে ভারতীয় বায়ু সেনা (Indian Air Force)। হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয় পাহাড়ি এলাকায়। শেষবার পাওয়া সংকেত অনুযায়ী বিমানটির অবস্থান ছিল অরুণাচলপ্রদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কাছাকাছি। সেই সূত্র ধরেই অনুসন্ধান চালানো হয়।

দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার সকালে জানা যায়, জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে Karbi Anglong জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী দল বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায় এবং পরে নিশ্চিত করা হয় যে, বিমানে থাকা দুই পাইলটেরই মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি এক বার্তায় বলেন, ‘দেশ দুই সাহসী বায়ুসেনা অফিসারকে হারাল। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, Sukhoi Su‑30MKI ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। রাশিয়া ও ভারতের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এই মাল্টিরোল ফাইটার জেট দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে ২৬০টিরও বেশি সুখোই-৩০ এমকেআই রয়েছে।

এই যুদ্ধবিমানগুলো অত্যাধুনিক রাডার, সুপার ম্যানুভারেবিলিটি এবং দূরপাল্লার আক্রমণক্ষমতার জন্য পরিচিত। বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে টহল ও প্রশিক্ষণ মিশনে এই জেট নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুখোই যুদ্ধবিমানের কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে নাসিক জেলার কাছে একটি সুখোই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছিল। যদিও সেই ঘটনায় পাইলটরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। আবার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে Gwalior Air Force Station থেকে উড়ান শুরু করার কিছু সময় পর একটি সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় কখনও কখনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা আবহাওয়াজনিত সমস্যাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যদিও এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা হঠাৎ যান্ত্রিক সমস্যার জেরে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। কিন্তু অসমের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্ধারকাজেও বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে উদ্ধারকারী দলকে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। দেশজুড়ে এই ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ নিহত পাইলটদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অনেকেই লিখেছেন, ‘দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই বীর সেনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ ভারত।’ উল্লেখ্য, ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির অন্যতম স্তম্ভ Indian Air Force-এর দুই তরুণ অফিসারের এই অকাল মৃত্যু নিঃসন্দেহে দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা মহল।

ছবি : প্রতীকী 
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি : ‘অত্যন্ত উদ্বেগে’ নতুন দিল্লি, শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগে তৎপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News