India AI Impact Summit 2026 | রাজ্য থেকে শীর্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উড়ান: আঞ্চলিক এআই সম্মেলনে গড়ে উঠছে ভারতের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি রূপরেখা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ বিশেষ প্রতিবেদন, নতুন দিল্লি : ভারতের প্রযুক্তি অভিযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়, তা বর্তমান শাসনব্যবস্থা, শিল্প ও নাগরিক পরিষেবার অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশজুড়ে আয়োজিত আঞ্চলিক এআই সম্মেলনগুলির মধ্য দিয়ে রাজ্যস্তরের উদ্ভাবন, স্থানীয় সমস্যা ও সমাধান সরাসরি যুক্ত হচ্ছে জাতীয় স্তরের নীতিনির্ধারণের সঙ্গে। এই সম্মেলনগুলির সুপারিশ ও অভিজ্ঞতাই আগামী ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ (India AI Impact Summit 2026) -এর ভিত্তি তৈরি করছে বলে মত প্রযুক্তি ও নীতিনির্ধারক মহলের। রাজ্য সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আঞ্চলিক এআই সম্মেলনগুলিতে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও স্টার্টআপ সব পক্ষের মিলিত উদ্যোগে একটি বিকেন্দ্রীভূত কিন্তু সমন্বিত এআই ইকোসিস্টেমের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মূল লক্ষ্য একটাই, স্থানীয় অগ্রাধিকার ও বাস্তব সমস্যাগুলিকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন : Mount Everest, Everest expedition, Sir Edmund Hillary | বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে যাত্রার অদৃশ্য নায়ক কাঞ্চা শেরপা প্রয়াত, পর্বতারোহণ জগতে শোক

রাজস্থান (Rajasthan) -এর মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভজন লাল শর্মা (Bhajan Lal Sharma) তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের দেশের যাত্রাপথের পরবর্তী বড় অধ্যায়। এআই ও মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নাগরিককেন্দ্রিক হয়ে উঠতে পারে।’ তাঁর মতে, প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ রাজ্যের প্রশাসনিক দক্ষতা যেমন বাড়াবে, তেমনই কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে। মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) -এর মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব (Dr. Mohan Yadav) স্পষ্ট করেন, ‘আমাদের সরকার বিশ্বাস করে এআই প্রশাসন, নাগরিক ও শিল্প তিন ক্ষেত্রেই সমানভাবে উপকার করতে পারে। আমরা এমন নীতিগত সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা দক্ষতা বাড়াবে এবং এআই-নির্ভর বৃদ্ধিকে দ্রুততর করবে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, প্রযুক্তিকে কেবল শহরকেন্দ্রিক না রেখে গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা।

উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) -এর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন, ‘একটি বৃহৎ ও সংবেদনশীল রাজ্যে ব্যাপক পরিসরে সমস্যার সমাধান করতে হলে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল মডেল প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’ তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রে এআই কার্যকর পরিবর্তন আনতে সক্ষম। কেরলের বিধানসভার অধ্যক্ষ শ্রী এ. এন. শামসীর (A. N. Shamseer) এক ধাপ এগিয়ে এআই-এর নৈতিক দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়। আসল প্রশ্ন আমরা এআই গ্রহণ করব কি না, সেটা কথা নয়, কীভাবে গ্রহণ করব, সেটাই মূল বিষয়। প্রযুক্তিকে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে, মানবিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সেবা করতে হবে।’ এই বক্তব্য প্রযুক্তির মানবিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে।

আঞ্চলিক এআই সম্মেলনগুলিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, যা জাতীয় স্তরে এআই রোডম্যাপকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মধ্যে অন্যতম হল ‘যুবা এআই ফর অল’ (YUVA AI for All) নামে একটি জাতীয় এআই স্কিলিং কর্মসূচি। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী দিনে এক মিলিয়ন যুবক-যুবতীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য একটি প্রস্তুত কর্মশক্তি গড়ে ওঠে। এছাড়াও রাজ্যগুলিতে ইন্ডিয়া এআই ডেটা অ্যান্ড এআই ল্যাব (India AI Data & AI Labs) সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আইটিআই, পলিটেকনিক ও বিভিন্ন প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এআই ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে হাতে-কলমে শিক্ষা ও গবেষণাকে জোর দেওয়া হবে।

রাজস্থান সরকার এই সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই ‘রাজস্থান এআই/এমএল পলিসি ২০২৬’ (Rajasthan AI/ML Policy 2026) চালু করেছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ রাজস্থান এআই পোর্টাল এবং রাজস্থান এভিজিসি-এক্সআর (AVGC-XR) পোর্টালের সূচনা হয়েছে, যার লক্ষ্য অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, কমিক্স ও এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি খাতে উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘোষণা করেছে ‘উত্তরপ্রদেশ এআই মিশন’ (Uttar Pradesh AI Mission), যা রাজ্য তহবিলের সহায়তায় গড়ে উঠবে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি বৃহৎ এআই ইকোসিস্টেম তৈরি করবে। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশে চালু হয়েছে ‘মধ্যপ্রদেশ স্পেসটেক পলিসি ২০২৬’ (Madhya Pradesh SpaceTech Policy 2026), যেখানে এআই-কে মহাকাশ ও ভূস্থানিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে জনপরিষেবা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই সম্মেলনগুলিতে ইন্ডিয়া এআই মিশন (India AI Mission), রাজ্য সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প সংস্থার মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজস্থানে গুগল (Google), আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi), ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটি জোধপুর (National Law University, Jodhpur) এবং ওয়াধওয়ানি ফাউন্ডেশন (Wadhwani Foundation) -এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর এআই গবেষণা, স্কিলিং, নৈতিক কাঠামো ও উদ্ভাবনী পরিবেশকে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এআই স্ট্যাক ও ক্লাউড অ্যাডপশন ফ্রেমওয়ার্ক চালু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে রাজ্য স্তরে নিরাপদ, স্কেলযোগ্য ও নাগরিককেন্দ্রিক এআই পরিষেবা চালু করা যায়। বিভিন্ন রাজ্যে এআই-চালিত ডিজিটাল পোর্টাল ও গভর্ন্যান্স প্ল্যাটফর্ম প্রদর্শিত হয়েছে, যা প্রশাসনিক দক্ষতা ও নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই আঞ্চলিক সম্মেলনগুলিতে উঠে আসা সুপারিশ ও অভিজ্ঞতাগুলি সরাসরি ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ -এর এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে ভারতের এআই নীতি কেবল কেন্দ্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজ্য ও স্থানীয় বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিকেন্দ্রীভূত কিন্তু সংযুক্ত পদ্ধতিই ভারতের এআই ভিশনকে বাস্তব রূপ দিতে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ministry of Steel MoU, Specialty Steel Investment India | মেক ইন ইন্ডিয়াকে নতুন গতি: উন্নত ইস্পাত উৎপাদনে ১১,৮৮৭ কোটি বিনিয়োগ, ৮৫ প্রকল্পে চুক্তি স্বাক্ষর করল ইস্পাত মন্ত্রক

Sasraya News
Author: Sasraya News