সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ। একদিকে রেজিনগর থানায় (Rejinagar Police Station) জিজ্ঞাসাবাদ, অন্যদিকে একই সময়ে শক্তিপুর থানার (Shaktipur Police Station) পুলিশের তলব, দুই দিক থেকে চাপ বাড়তেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (Amjanata Unnayan Party) চেয়ারম্যান হুমায়ুন। তাঁর দাবি, গোটা বিষয়টিকে ‘অতিরঞ্জিত’ করা হচ্ছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী রেজিনগর থানায় হাজিরা দেন হুমায়ুন কবীর। এর আগে উস্কানিমূল মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় গত ৪ জুলাই তাঁকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। সেই সূত্রেই দ্বিতীয়বার থানায় ডাকা হয় তাঁকে। মঙ্গলবারও দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু এই জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই অন্য একটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিধায়ক যখন রেজিনগর থানায় উপস্থিত, তখন তাঁর শক্তিপুরের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় শক্তিপুর থানার পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের হাতে একটি নতুন নোটিস তুলে দিয়ে যায় তারা। সেই নোটিসে জানানো হয়েছে, আগামী রবিবার সকাল ১১টার মধ্যে হুমায়ুন কবীরকে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিতে হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও শক্তিপুর থানার পক্ষ থেকে দু’বার তলব করা হয়েছিল বিধায়ককে। কিন্তু তিনি সেই ডাকে সাড়া দেননি।
পুলিশ সূত্রে খবর, সেই কারণেই নতুন করে নোটিস পাঠানো হয়েছে। শক্তিপুর থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ। রেজিনগর থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাগুলোকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। একটা কথার কতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়! সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা তৈরি করা হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ফুটে ওঠে।
পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এক কথায় বলি, বিজেপির দলদাস হয়ে কাজ করছে। কীভাবে বিজেপিকে খুশি রাখা যায়, সেই চিন্তাতেই এই সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হুমায়ুন আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁকে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আগের তুলনায় প্রশ্নের সংখ্যা বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আজকে আরও বেশি প্রশ্ন করা হয়েছে। নানা কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটা ভিডিও করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের নামে তাঁকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্য, যা ঘিরেই মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। বিধায়কের দাবি, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে তুলে ধরা হয়েছে এবং সেটাকেই ইস্যু করা হচ্ছে। এদিকে, শক্তিপুর থানার নোটিস নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত। তিনি বলেন, ‘ডেকেছে? যদি রবিবার ডেকে থাকে, তা হলে যাব।’ অর্থাৎ, নতুন নোটিসে সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনাকে ঘিরে মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে শাসকদল ও বিরোধীদের পারস্পরিক অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে দুই থানার তরফে তলব ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। যদিও পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, দুটি আলাদা মামলার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। কারণ, হুমায়ুন কবীর দীর্ঘদিন ধরেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে নজর রয়েছে রবিবারের দিকে, যখন তাঁকে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তিনি সেখানে উপস্থিত হন কি না, এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Humayun Kabir controversy, Suvendu Adhikari warning | ‘স্যাঁটা’ মন্তব্যে হুমায়ুনকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, বিধানসভায় উত্তাল বিতর্ক



