West Bengal development projects 2026, Nabanna meeting update | ৮২ হাজার কোটির প্রকল্পে নতুন গতি, ১২৫ দিনের কাজে মজুরি বাড়ল, নবান্নে বড় ঘোষণা শিবরাজের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের উন্নয়ন চিত্রে বড় মোড় আনতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)। নবান্নে (Nabanna) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রায় ৮২,৪৯২ কোটি টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পে নতুন করে গতি আসছে। একই সঙ্গে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নতুন রূপে ‘১২৫ দিনের কাজ’ হিসেবে চালু করে মজুরি বৃদ্ধির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের অর্থনীতি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Dilip Ghosh Targets Mamata Banerjee Over Slap Incident at Kharagpur Tea Meet | খড়্গপুরে চা চক্রে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপের, ‘হতাশা’ থেকেই কর্মীকে চড়, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চাপানউতোর

মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল (Dudhkumar Mondal), প্রতিমন্ত্রী অশোক দিন্ডা (Ashok Dinda) সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তা। বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিবরাজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রেল, সড়ক, মহাসড়ক, মেট্রো-সহ বহু প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি। প্রায় ৮২ হাজার কোটির কাজ ঝুলে ছিল। এখন সেই কাজ এগোতে শুরু করেছে।’ তাঁর কথায়, নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগে উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে গতি ফিরছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র। ‘জিরামজি’ নামে পরিচিত ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই মজুরি ছিল ২৫০ টাকা, পরে তা ২৬০ টাকায় পৌঁছেছিল। নতুন সিদ্ধান্তে অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য ৩০০ টাকা, আধা দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ৪৫০ টাকা ও দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিবরাজ জানান, ‘এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাজ ব্যাহত হলে অতিরিক্ত ৫০ দিন কাজের সুযোগও রাখা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (Pradhan Mantri Awas Yojana)-র তালিকা তৈরির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে ২০ জুনের মধ্যে তালিকা সম্পূর্ণ করার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্ষার পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা বিবেচনা করে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ পাশাপাশি এক লক্ষ বাড়ির অনুমোদন মিলেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY)-র আওতায় প্রায় ২৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এই কাজের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষিক্ষেত্রে আরও জোর দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকে। শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে কোন এলাকায় কোন ফসল উপযুক্ত তা নির্ধারণ করা হবে।’ এই উদ্দেশ্যে চারটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং গবেষণাগার তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। মালদহ (Malda)-এ আম, লিচু-সহ ফল উৎপাদনের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া আলু ও পাটের বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই বীজের বড় অংশ ভিন্‌রাজ্য থেকে আসে। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেই বীজ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিবরাজ। তাঁর কথায়, ‘পূর্ব ভারতের বীজ উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলা হবে।’

শিবরাজ সিংহ চৌহান পূর্বতন সরকারের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি এখানে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। অসহযোগিতার কারণে বহু কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে ছিল।’ তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ায় উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে দাবি তাঁর। এছাড়া রাজ্যের চারটি জেলায় দার্জিলিং (Darjeeling), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar), বীরভূম (Birbhum) এবং পুরুলিয়া (Purulia)-এ প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য প্রকল্প চালু হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্প কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে কর্মসংস্থান, আবাসন, কৃষি ও পরিকাঠামো এই চারটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন দ্রুত করা হবে। ফলে আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়ন চিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘোষণাগুলি শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজ্যের আর্থসামাজিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তগুলি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari commission, West Bengal corruption probe | দুর্নীতির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ, তৃণমূল আমলের কাজ খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠন শুভেন্দু সরকারের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন