সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ খড়্গপুর : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চড়া সুর। খড়্গপুরে (Kharagpur) এক চা চক্রে যোগ দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দাবি করেছেন, দলের ভেতরে ক্রমশ দুর্বলতা বাড়ার কারণেই এমন আচরণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
রবিবার সকালে খড়্গপুরে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গত ৮ জুলাইয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচির দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নিজের দলের কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মারা কোনও সাধারণ বিষয় নয়। এটা হতাশার বহিঃপ্রকাশ।’ দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, কালীঘাট (Kalighat) কেন্দ্রিক তৃণমূল সংগঠন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁর দাবি, বহু নেতা-কর্মী অন্য শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে দলের ভিতরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কালীঘাট আগেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতটা অস্থির হয়ে পড়েছেন।’
উল্লেখ্য, ৮ জুলাই বালিগঞ্জ ফাঁড়ি (Ballygunge Police Outpost) থেকে হাজরা মোড় (Hazra Crossing) পর্যন্ত একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, তাদের কর্মসূচিতে বিজেপি (BJP) হামলা চালিয়েছে। আহত কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর সময় ভিড় সামলাতে গিয়ে মেজাজ হারান মমতা। অভিযোগ, সেই সময় তিনি নিজের দলের এক কর্মীকে চড় মারেন। আরও কয়েক জনকেও ধাক্কা ও আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আক্রমণ শানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘ক্ষমতা যখন হাতছাড়া হতে শুরু করে, তখন এই ধরনের আচরণ দেখা যায়। ওই দিন যা হয়েছে, তা দলের ভেতরের অস্থিরতার ইঙ্গিত।’ একই সঙ্গে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখানেই থেমে থাকেননি দিলীপ ঘোষ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূলের ভিতরে এখন দলে দলে ভাঙন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) -এর শিবিরে কিছু নেতার যোগদান নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আজ এক দিকে, কাল অন্য দিকে, তৃণমূলে এখন এই প্রবণতা চলছে।’
শনিবার বীরভূম (Birbhum)-এর তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)-এর ঋতব্রত শিবিরে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দিলীপ বলেন, ‘এটা ওঁদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কে কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।’ তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে চাপ বাড়াতে চাইছেন। বিধানসভায় বিরোধী দলের অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, কোন গোষ্ঠী বিরোধী দলের দায়িত্ব নেবে, তা নির্ধারণ করবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তিনি বলেন, ‘যে লড়ে প্রমাণ করবে, সংখ্যায় এগিয়ে থাকবে, তারাই বিরোধী দলের দায়িত্ব নেবে। এই বিষয়টি বিধানসভার স্পিকার (Speaker) এবং আদালতের উপর নির্ভর করছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হচ্ছে। একদিকে তৃণমূলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, অন্যদিকে বিরোধীদের কটাক্ষ, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই দিনের আচরণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। তবে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও বিরোধীরা সেই যুক্তি মানতে নারাজ।
খড়্গপুরের এই চা চক্র থেকে দেওয়া দিলীপ ঘোষের মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনে এই ইস্যু ঘিরে আরও প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চায়েত ও বিধানসভা রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মন্তব্য যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা বলাই যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। ফলে এমন মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য আগামী দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনাই রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : business environment Bengal, Dilip Ghosh statement | দুই মাসেই বদলের হাওয়া? পুড়শুড়ার বাণিজ্যিক সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের ‘আস্থার’ ইঙ্গিত, মন্তব্য দিলীপ ঘোষ




