সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ‘স্যাঁটা’ শব্দকে ঘিরে বিতর্কে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) -এর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তাঁকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু মৌখিক প্রতিবাদেই থেমে থাকেননি, তিনি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই একাধিক এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার।’
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু প্রথমে রেজিনগর (Rejinagar) এবং শক্তিপুর (Shaktipur)-এ হুমায়ুন কবীরের করা বক্তব্যের অংশ পড়ে শোনান। তারপরেই তিনি বলেন, ‘আপনাকে পরিষ্কার বলছি, এভাবে লাগামছাড়া ভাষণ আর চলবে না।’ তাঁর দাবি, হুমায়ুন যে ভাষায় রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন, তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ২৬ জুন রেজিনগর থানায় দুটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে, কেস নম্বর ২১৯ এবং ২২৬। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-এর একাধিক ধারায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৫২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪, ২৯৯, ৩৫১ (২), ৩৫২ এবং ৩৫৩ ধারা। পাশাপাশি শক্তিপুর থানায়ও ১৭৬/২২৬ নম্বরে আর একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা কেউ তাঁকে দেয়নি যে এভাবে হুমকি দেবেন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘দুটি এজেন্ডা নিয়ে তিনি এগোচ্ছেন।’ শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমত, ভরতপুর (Bharatpur), রেজিনগর ও নওদা (Naoda)-এর পঞ্চায়েত স্তরে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করে জেতানোর লক্ষ্যেই এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওই আসনে প্রায় ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। সেই ভোট একত্রিত করার চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কান খুলে শুনে রাখুন, এভাবে হুমকি দেওয়া চলবে না।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারির সুর শোনা যায়, ‘সংযত হোন, সতর্ক হোন, ভবিষ্যতে কথা বলার আগে ২৫ বার ভাববেন।’
শুধু হুমায়ুন কবীরই নন, নাম না করে সন্দেশখালি (Sandeshkhali)-এর শাহজাহান শেখ (Shahjahan Sheikh), ক্যানিং (Canning)-এর শওকত মোল্লা (Shaukat Molla) এবং ফলতা (Falta)-র জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)-এর প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আইন তার কাজ করছে, ভবিষ্যতেও করবে।’ পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যও বিধানসভায় তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘২৬ জুন রেজিনগরের এক সভায় তিনি বলেন, আমি যে দিন মাঠে নামব, এমন আঘাত শুরু হবে যে পতাকা বহন করার লোক থাকবে না।’ এই মন্তব্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ে। ‘স্যাঁটা’ শব্দের ব্যবহার ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, ‘স্যাঁটা’ শব্দটির অর্থ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। কোথাও এটি শারীরিক অঙ্গ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, আবার কোথাও ঘৃণা বা আক্রমণাত্মক অর্থ বহন করে। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যে এই শব্দ ব্যবহারের ফলে বিতর্ক আরও বাড়ে। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। যারা নতুন করে বিজেপিতে যোগ দিয়ে এলাকায় অশান্তি তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমাকে গ্রেফতার করতে হয়, করবে। আমি লড়াই করে জিতেছি।’
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাসক-বিরোধী সংঘাতের আবহে বিধানসভায় এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বক্তব্যের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলাগুলির অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ কোন দিকে এগোয়, তার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। একইসঙ্গে, আসন্ন উপনির্বাচনের আগে এই বিতর্ক যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal anti social activities bill 2026, Suvendu Adhikari new law details | ‘গুন্ডাদমনে’ কড়া পথে বাংলা! এক বছর আটক, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : নতুন আইনে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের




