Higher Secondary Exam Fee Controversy, Suvendu Adhikari Statement | উচ্চমাধ্যমিক ফি বিতর্কে শুভেন্দুর তোপ, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক পোস্টকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) নতুন নির্দেশিকা প্রকাশের পর শিক্ষা খাতে বাড়তি অর্থগ্রহণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা যেখানে আইনগতভাবে অবৈতনিক, সেখানে সরকার “পথ ঘুরিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তোলার কৌশলই করছে।”

আরও পড়ুন : Bengal Election 2026, PM Modi Bengal Strategy | ‘বাংলা জিততেই হবে’ : দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের স্পষ্ট টার্গেট ঠিক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, সেখানে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নাম নথিভুক্তিকরণের সময় নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ওই ফি-র পরিমাণ চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদের অধীনস্থ প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেন্টার ফি আলাদাভাবে গ্রহণ করতে হবে

এতেই আপত্তির সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “যে শিক্ষা দেশে বিনামূল্যে দেওয়ার কথা, সেখানে ছাত্রদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক।” বৃহস্পতিবার নিজের X-এর পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সারাদেশে ‘সর্বশিক্ষা অভিযান’ (Sarva Shiksha Abhiyan) চালু করেছিল। পরে তা একীভূত হয় ‘সমগ্র শিক্ষা অভিযান’-এ (Samagra Shiksha Abhiyan), যার অধীনে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলকবিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর প্রশ্ন, “যেখানে আইন অনুযায়ী স্কুলশিক্ষা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা, সেখানে এই অতিরিক্ত ফি তোলার উদ্দেশ্য কী? সরকার কি ইচ্ছে করেই শিক্ষাকে ব্যয়বহুল করে তুলতে চাইছে?”

শুভেন্দু অধিকারীর আরও দাবি, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সরকার শিক্ষাবিষয়ক পরিকাঠামো উন্নত করতে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি, যথেষ্ট শিক্ষক না থাকা, বহু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া, এই সমস্ত পরিস্থিতি সরকারি শিক্ষাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, “সরকারি স্কুলের অবকাঠামো ভেঙে পড়ার ফলে অভিভাবকদের বাধ্য করা হচ্ছে সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পাঠাতে। আর তাতেই লাভবান হচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা, যারা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাদের মাধ্যমেই দলের জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা আসে।”

রাজনৈতিক ইঙ্গিত আরও তীব্র হয় যখন শুভেন্দু লেখেন, “এই লবি মাননীয়াকে খুশি রাখতে কখনো লন্ডনের কলেজ ক্যান্টিনে অনুষ্ঠান করে প্রচার করে যে অক্সফোর্ড সম্মান দিচ্ছে, আবার কখনো জাপানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সাংবর্ধনামূলক ডিলিট’ কিনে আনার ব্যবস্থাও করে ফেলে।”এই বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বিদেশ সফর ও সম্মান গ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। শুভেন্দুর মতে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এই অতিরিক্ত ফি নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। তাঁর অভিযোগ, “এই টাকা ছাত্রদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিকভাবে আদায় করা হচ্ছে। অবিলম্বে এটি বন্ধ করতে হবে। আর ইতিমধ্যেই যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাদের পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে।”

এই অভিযোগের পরেও সরকার পক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাধারণত সংসদের নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যয়, সেন্টার গঠন, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত নানা খরচের কারণ দেখিয়ে এমন ফি নির্ধারণ করে থাকে। তবে এই বিষয়ে কোনো সরকারের তরফ থেকে ব্যাখ্যা না আসায় বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সংসদের নিয়মিত কার্যপ্রণালীতে অনেকসময় নিবন্ধন ফি বা সেন্টার ফি বরাদ্দ থাকে। তবে সেই ফি ঠিক কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকা জরুরি। না হলে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ প্রবল হবে।

এমনিতেই রাজ্যজুড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা, স্কুলে শিক্ষক সঙ্কট, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তৃণমূল সরকার কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। তার মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে এই নতুন নির্দেশিকা সরাসরি কয়েক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকের উপর প্রভাব ফেলবে। ফলে বিষয়টি নির্বাচনের ময়দানেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই অনেক অভিভাবকের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে, সরকার যখন বলে শিক্ষা বিনামূল্যে, তখন আবার নাম নথিভুক্তিকরণ বা সেন্টার ফি কেন? অনেকেই মনে করছেন, সংসদ ও সরকারের উচিত ছিল আগে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া যে এই খরচ কোন খাতে ব্যবহৃত হয়।

একদিকে বিরোধী দলের তোপ, অন্যদিকে শিক্ষামহলের প্রশ্ন। সংসদের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসেনি। ফলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফি বিতর্ক নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা অঙ্গন থেকে রাজনৈতিক মহল, সব জায়গাতেই তোলপাড় অব্যাহত। কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা নীতির আলোকে ‘বিনামূল্যে শিক্ষা’র দাবি যখন দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত ফি আদায়ের যুক্তি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠছে। আগামী দিনে সরকার কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটাই দেখার।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari latest statement, Malda BJP rally highlights | মালদহে শুভেন্দুর কড়া বার্তা: ‘ভাষা-জাতের নামে ভাঙলে চলবে না, হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন