সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X, পূর্বতন Twitter) অবশেষে ভুল স্বীকার করে বড় পদক্ষেপ নিল। কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া নির্দেশের পর এক্স ৬০০-এরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে এবং প্রায় ৩,৫০০ আপত্তিকর কনটেন্ট ব্লক করেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। গ্রক এআই (Grok AI) ব্যবহার করে অশ্লীল ও বেআইনি ছবি-ভিডিও তৈরি এবং ছড়ানোর অভিযোগ সামনে আসতেই এই তৎপরতা। এক্স জানিয়েছে, তারা ভারতীয় আইন মেনেই কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কনটেন্ট ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। সম্প্রতি একাধিক এক্স হ্যান্ডেলে গ্রক এআই ব্যবহার করে অশ্লীল, যৌন উত্তেজক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট পোস্ট করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক (Ministry of Electronics and Information Technology, MeitY) কড়া অবস্থান নেয়। গত ২ জানুয়ারি মন্ত্রকের তরফে এক্স-কে নির্দেশ দেওয়া হয়, অবিলম্বে প্ল্যাটফর্ম থেকে গ্রক দিয়ে তৈরি করা সব আপত্তিকর ও বেআইনি ছবি-ভিডিও ডিলিট করতে হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়, তথ্য প্রযুক্তি আইন (Information Technology Act) -এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে যদি নির্দেশ অমান্য করা হয়। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়।
কেন্দ্রের এই নির্দেশের পরই এক্স তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেয়। সরকারি সূত্রে দাবি, এক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যেই প্রায় ৩,৫০০ কনটেন্ট ব্লক করেছে এবং ৬০০ -এরও বেশি অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করেছে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে গ্রক এআই বা অন্য কোনও এআই টুল ব্যবহার করে অশ্লীল বা বেআইনি কনটেন্ট পোস্ট করা হলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এক্সের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কনটেন্ট মডারেশন আরও শক্ত করা হবে এবং ভারতীয় আইনি কাঠামোর সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতি রেখেই প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা হবে।কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্যা শুধু ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। গ্রক এআই ব্যবহার করে মহিলাদের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ব্ল্যাকমেল করার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ধরনের অপরাধ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করছে সরকার। সেই কারণেই এই বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপব্যবহারের ঝুঁকিও বেড়েছে। গ্রক এআইয়ের মতো টুল ব্যবহার করে খুব সহজেই ভুয়ো ছবি বা ভিডিও তৈরি করা সম্ভব, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা কঠিন করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। ভারত সরকারের কড়া বার্তা আসলে অন্য প্ল্যাটফর্মগুলির জন্যও সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন সাইবার আইন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, এক্স ব্যবহারকারীদের মধ্যেও এই খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্তকে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল ও ভুয়ো কনটেন্টের বাড়বাড়ন্ত ছিল। আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত এআই টুল ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের প্রশ্ন, কোন কনটেন্ট বৈধ আর কোনটা নয়, তা কীভাবে নির্ধারিত হবে?
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বৈধ সৃজনশীল কনটেন্ট নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যে কোনও ধরনের অশ্লীলতা, নারী নির্যাতনমূলক ছবি-ভিডিও, ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্স-কে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীর স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক না করা, সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করা এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এক্স কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা কোনও আপত্তিকর কনটেন্ট দেখলে দ্রুত রিপোর্ট করলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৬০০-এরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা স্পষ্ট করে দিল, এআইয়ের অপব্যবহার আর বরদাস্ত করতে নারাজ কেন্দ্র। এক্সের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন প্রশ্ন একটা, এই কড়াকড়ি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mahatmashree scheme | মহাত্মার নামেই কাজ ও সম্মান : কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘কর্মশ্রী’ থেকে ‘মহাত্মাশ্রী’, নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে সিলমোহর




